১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছে

  • সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে খন্দকার মোশাররফ

সংসদ রিপোর্টার ॥ স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সরকারী সিদ্ধান্তকে দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী বিল দ্রুতই সংসদে উত্থাপিত হবে।

সরকারী দলের সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লার এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে (সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ) পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আছে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হলেও বাস্তবে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে থাকে।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সরকারী সিদ্ধান্তকে দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে। রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন ও প্রার্থিতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ওই এলাকার ভোটারের নির্বাচনে প্রার্থিতাও নিশ্চিত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন সংশোধনের জন্য গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা অতি সত্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইনটি সংসদে পাস হলেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে সরকারদলীয় অপর সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী সংসদকে জানান, জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। এতে প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা বাড়বে। তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার পালনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে জনগণকে আরও বেশি সেবা দেয়াতে তৎপর থাকবেন। সেক্ষেত্রে তাদের মনোনয়ন দেয়া রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে এবং জনস্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রার্থীর কর্মকা- নজরদারির আওতায় রাখতে পারবে।

সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনার দায়ে অভিযুক্ত সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনা করছে এমন অভিযুক্ত সমবায় সমিতির সংখ্যা ছয়টি। এগুলো হলো ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ব্যাংক) লিঃ, ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ, আদর্শ সমবায় ব্যাংক লিঃ, স্মল ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ (ব্যাংক) সোসাইটি লিঃ, মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ এবং আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স এ্যান্ড ফাইন্যান্স ক্রেডিট সোসাইটি লিঃ (সাবেক এসিসিএফ ব্যাংক লিঃ)। অভিযুক্ত সমবায় সমিতিগুলোকে ব্যাংক শব্দ সংশোধন করে নিবন্ধক ও মহাপরিচালক, সমবায় অধিদফতরকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সমিতিগুলো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক যে সব সমবায় সমিতি বেআইনীভাবে তাদের নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার করে প্রতারণা করছে তাদের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অভিযুক্ত সমিতিগুলোর নামের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।