২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জীবন্ত পোস্টার শহীদ নূর হোসেন দিবস গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে গণতন্ত্রের জন্য ‘জীবন্ত পোস্টার’ শহীদ নূর হোসেনের আত্মাহুতির দিনটিকে নানা কর্মসূচীতে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দিবসটিকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় পৃথক পৃথক কর্মসূচী।

নূর হোসেনের পরিবারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি কোন অপশক্তি যেন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকারও তাগিদ দেন তারা।

মঙ্গলবার সকাল সাতটায় গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কর্মসূচী শুরু হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃতে নেতাকর্মীরা নূর হোসেন স্কয়ারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও অন্য সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

১৯৮৭ সালের এই দিনে এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে ঢাকায় রাজপথে পুলিশের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন শহীদ হন। ওইদিন বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ সেøাগান লিখে রাজপথে বের হয়েছিলেন নূর হোসেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি মিছিল সেদিন ঢাকার ‘জিরো পয়েন্ট’ অতিক্রম করার সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস আর গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় নূর হোসেন এবং যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিতে নিহত হন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আরও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। অটোরিক্সাচালক বাবার সন্তান নূর হোসেনের জন্ম ১৯৬১ সালের পুরান ঢাকার বনগ্রামে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে আওয়ামী লীগের সকল কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া দোয়া ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।

দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ নূর হোসেন দিবসের আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আমাদের দেশ যখনই কোন সঙ্কটের সম্মুখীন হয় তখনই দেশের স্বাধীনচেতা, সাহসী মানুষ প্রতিবাদ করে। বীর সেনানীদের আত্মাহুতির মাধ্যমেই তা প্রমাণিত হচ্ছে। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে এগিয়ে যাচ্ছি।

নূর হোসেনের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, নূর হোসেন শুধু কণ্ঠে গণতন্ত্রের কথা বলেননি, তার মুখে, বুকেও একই কথা ছিল। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণকেই ‘শক্তি’ বলে মনে করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চায়। যারা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটাতে চায়, জনগণই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের প্রশাসন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে। আর সে জন্যই আমরা সফল হচ্ছি, এগিয়ে যাচ্ছি। শহীদ নূর হোসেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ সম্পাদক এম এ করিম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা সভায় বক্তব্য দেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা জিরো পয়েন্টে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সহদফতর সম্পাদক শামীমুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার প্রমুখ। এ ছাড়াও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত নূর হোসেন চত্বরে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। সকাল সাড়ে আটটায় নূর ‘নূরম হোসেন চত্বরে’ শ্রদ্ধা জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রদলের সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, তারেক উজ জামান তারেক, নাজমুল হাসান, মনিরুজ্জামান রেজিন, নিয়াজ মাখদুম মাছুম বিল্লাহ, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।