১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোদি বিরোধী জোটের আশায় তৃণমূল নেত্রী

  • মমতার কাছে নীতীশের ফোন

বিহারের ভোটে প্রচারের পারদ যখন তুঙ্গে দিল্লী সফররত মমতা ব্যানার্জীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মহাজোটের সমর্থনে তিনি সে রাজ্যে গিয়ে জনসভা করবেন কিনা। উত্তরে জল না ছুঁয়েও, মাছ ধরার ভঙ্গিতে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ‘বিহারে প্রচারের জন্য নীতিশ একাই যথেষ্ট। আর কারও প্রয়োজন হবে না।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তবে ভোটে নীতিশ-লালুর কাছে নরেন্দ্র মোদির দল ধরাশায়ী হওয়ায়, মমতা ব্যানার্জীর কাছে নীতিশ কুমারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। একইভাবে লালু-নীতিশও গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতাকে। আসলে বিহার ভোটের ফল মোদি বিরোধী শিবিরের অবস্থাটা দ্রুত বদলে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ গঠনে মমতা এতদিন সফল না হলেও এ বার তিনি এতে গতি দিতে চাইবেন। সম্প্রতি একাধিক বার আপ নেতা কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা। কিন্তু নীতিশের সঙ্গে তাকে বসতে দেখা যায়নি। মহাজোটের বিরাট জয়ের পরে জাতীয় স্তরে মমতা-নীতিশ-লালু সমীকরণ ঘটনাবহুল হয়ে উঠতে চলেছে বলেই অনেকে মনে করছেন। রবিবার টুইটারে ধন্যবাদ বিনিময় হয়েছিল।

সোমবার নীতিশ নিজেই ফোন করেছিলেন মমতাকে। ভবিষ্যতে দু’জনের দেখা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়েছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে পাটনায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজিরও হয়েছিলেন তিনি। সে প্রসঙ্গ টেনেই কলকাতায় মমতা সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘তখনই নীতিশকে বলেছিলাম, আপনাকে আগাম অভিনন্দন জানাতে এসেছি পরের বার যাতে সরকার গড়তে পারেন!’ আর বিহার ভোটের ফলাফল নিয়েও এ দিন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মমতা। তার কথায়, ‘‘এটাই চেয়েছিলাম। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো শক্তিশালী হবে।’ নীতিশের এ বারের শপথের সময়েও পাটনায় উপস্থিত থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

তৃণমূল শিবিরের খবর, মমতার সক্রিয়তার আরও একটা কারণ, বামেরাও একইভাবে বিহারের মহাজোটের সঙ্গে সমন্বয়ের ডাক দিয়েছে। সিপিএম চাইছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নীতিশের সঙ্গে যৌথ আন্দোলন করতে। নীতিশ লালুর এ জনপ্রিয়তার সুযোগ সিপিএম নিয়ে যাক, তা চাইছেন না তৃণমূল নেত্রী। তাই তিনি সক্রিয়ভাবে নীতিশের সঙ্গে সংসদে এবং সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বয় বাড়াতে চান। রবিবার বিকেলেই তৃণমূলের পক্ষে বলা হয়েছে, ‘মমতা ব্যানার্জী, নীতিশ কুমার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং আরও কয়েক জন নেতা সংসদের ভিতরে-বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় শুরু করেছেন। এই বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে। অনেক দল এতে যোগ দেবে। তবে বিহারের ফলাফল মোদি বিরোধী সমীকরণকে অনেকটাই জোটবদ্ধ করে তুলবে বলে মনে করছেন মমতা।