২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেলের বহরে যোগ হবে নতুন কোচ-ইঞ্জিন

  • একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ রেলওয়ের ২৫০টি যাত্রীবাহী কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন ক্রয়সহ দশটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬ হাজার ২৫০ কোটি ৫৮ লাক টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৫৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান মন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এ সময় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, আরাস্তু খান, হুমায়ুন খালিদ ও পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ সফিকুল আজমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতেই তিনি বলেন, আইসিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে শ্রীনিবাসনকে বিদায় নিতে হয়েছে অসম্মান নিয়ে আর আমি বিদায় নিয়েছি সম্মানজনকভাবে। এখানেই তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য। সেই সময় আমি পদত্যাগ করায় অনেকেই হতাশ হয়েছিলেন। বলেছিলেন পদে থেকেও প্রতিবাদ করা যেত। কিন্তু আমি বলব না সেটিই ঠিক ছিল। আমি একজন দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ, আমি জানি কি করতে হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, আধুনিক সুবিধাসহ ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন ও পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতরের অফিস ভবন নির্মাণ, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার আওরঙ্গাবাদ হতে ব্রাহা বাজার ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণমূলক কাজ, ব্যয় হবে ২১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, ব্যয় হবে ২ হাজার ৯১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সোনাপুর-সোনাগাজী-জোবারগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন, ব্যয় হবে ১৭২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ এবং ব্রড গেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ, ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ, রিলিফ ক্রেন এবং লোকেমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ, ব্যয় হবে ৭৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮ ফ্ল্যাট নির্মাণ (সংশোধিত), ব্যয় ২১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন, ব্যয় হবে ২৫৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রথম পর্যায়, এর ব্যয় ১১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২০৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নতুন রেলওয়ে কোচ কেনা হলে তা ইন্টারসিটি ট্রেন হিসেবে চলবে। একই সঙ্গে পুরোনো কোচগুলো নতুন কোচ দিয়ে পাল্টানো হবে। আশা করছি এতে যাত্রীরা নিরাপদ, উন্নত ও আরামদায়ক রেল ভ্রমণ করতে পারবেন। তিনি জানান, মিটার গেজে চলার উপযোগী ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী কোচ বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯১টির অবস্থা ভাল নয়। ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রী সেবা দিতে পারছে না। অন্যদিকে ব্রডগেজে চলার উপযোগী ৩২৪টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ৭৮টির অর্থনৈতিক আয়ুশষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। ফলে এ প্রকল্পটি দুটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহজ শর্তের ঋণে ছোট ও মাঝারি ধরনের ৬০টি (৩ হাজার ৮৮০ মিটার) সেতু এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য একটি ৮৩৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এ সংক্রান্ত ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। তবে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৯১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। জাইকার অর্থায়নের বাইরে ১ হাজার ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদফতর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কাজ করে থাকে। কিন্তু অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যমান অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ও অনিরাপদ সেতু প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ট্রাফিক জ্যাম ও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এ সকল সেতু অনেকাংশেই দায়ী। এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য জাপান সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার দেশের পূর্বাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টটি ইতোমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ব্যয় ছিল মোট ১ হাজার ১৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৭২ কোটি ৯৮ লাখ এবং জাইকার ঋণ থেকে ৬১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছিল। দেশের পঞ্চিমাঞ্চলেও অসংখ্য সরু এবং অনিরাপদ ব্রিজের জন্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। এ পরিপ্রেক্ষিতে এবং পূর্বের প্রকল্পটির ধারাবাহিকতায় ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর আগে জাইকা বাংলাদেশের ১০৬টি সরু, অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের ওপর প্রিপারেটরি সার্ভে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্য হতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৬১টি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জোনে ১৯টি, রাজশাহী জোনে ১৬টি, গোপালগঞ্জ জোনে ৭টি, খুলনা জোনে ৯টি, বরিশাল জোনে ৯টি এবং নরসিংদীতে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। যেসব জেলার ব্রিজ ও সেতু নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণ করা হবে সেগুলো হচ্ছে, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পিরোজপুর, নরসিংদী এবং নড়াইল জেলায়।