২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এলসি খোলা কমলেও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে ৯৭৭ কোটি ৮৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের এলসি খুলেছেন আমদানিকারকরা, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। গত অর্থবছর প্রথম তিন মাসে এক হাজার ৮৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে চাল, গম, ডাল, দুগ্ধজাত খাবার ও চিনি আমদানি বাবদ খরচ কম হয়েছে। তবে এই সময়ে শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি, কয়লা, পেপার এ্যান্ড পেপার বোর্ড আমদানি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুলাই- সেপ্টেম্বর সময়ে চাল আমদানির জন্য ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ কম। গত বছর এ সময়ে ১০ কোটি ৩৬ ডলারের এলসি খুলেছিলেন চাল ব্যবসায়ীরা। গম আমদানিতে এলসি কমেছে ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের গমের এলসি খোলা হয়। আগের বছর একই সময়ে খোলা হয়েছিল ৩৭ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের এলসি। চিনি আমদানির জন্য জুলা.-সেপ্টেম্বর সময়ে ১৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, গত বছর যার পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ এলসি কমেছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ডাল আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে ডালের জন্য। আগের বছর হয়েছিল ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের। দুগ্ধজাত খাবার আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ৪৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। এবার জুলাই-সেপ্টেম্বরে যেখানে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, গত বছর একই সময়ে হয়েছিল ৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর ১৬ লাখ টন চিনি আমদানি হয়েছিল। আর এ বছর ১৮ লাখ চিনি আমদানি হয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৮৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে ৮১ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। আর শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময় এ ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ৭৩ কোটি ৪৭ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বাড়ার অর্থ হচ্ছে দেশে শিল্প খাতের সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, বেশিরভাগ কারখানা উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য বিএমআরই করছে। ফলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে হচ্ছে। এ ছাড়া কোন কোন কারখানার সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন কারখানাও হচ্ছে। ফলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আসছে। আর রপ্তানির চাহিদা অনুযায়ী মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি হয়।

রফতানিতে যেহেতু প্রবৃদ্ধি আছে, সেহেতু মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। সরকার চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহ দিতে পারলে শিল্প খাতের আরও সম্প্রসারণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসের হিসেবে ভোজ্যতেল আমদানি ৭২ শতাংশ, তৈলবীজ ৫২ শতাংশ ও কয়লা আমদানি ৪ হাজার শতাংশ বেড়েছে। আর কাঁচা তুলা আমদানি ২২ শতাংশ, সুতা আমদানি ১০ শতাংশ, ভাঙ্গার জন্য জাহাজ আমদানি ৫১ শতাংশ, জ্বালানি তেল আমদানি ৪৯ শতাংশ ও রাসায়নিক সার আমদানি ২৫ শতাংশ কমেছে।