২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কূটনীতিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের তাগিদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের নতুন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের কূটনীতিকদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে মন্দা এবং টিপিপি চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের অবস্থান ধরে রাখতে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার পরামর্শ তাদের। আমদানি রফতানি বাণিজ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক। পুরনো বাজারে অবস্থান ধরে রাখা ও নতুন বাজারে সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য তাই প্রয়োজন হয় প্রচারণার। আর বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান মন্দা পরিস্থিতিসহ সম্প্রতি নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ায় রফতানি বাড়াতে এটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এমন অবস্থায় প্রথাগত কূটনীতির বাইরে গিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে কাজ করা সরকারী আমলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরী বলে মনে করেন সানম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর আবদুল মান্নান ও বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর মতো ব্যবসায়ীরা। আর এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে কূটনীতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে এখনই নিরপেক্ষ হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক আশফাকুর রহমান।

বৈধ-অবৈধ অভিবাসীরা এখনও হুন্ডিতে টাকা পাঠাচ্ছেন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে বসবাসকারী বৈধ-অবৈধ অভিবাসীদের অনেকেই নিজ দেশে অর্থ পাঠাতে বেছে নেন অবৈধ মাধ্যম হুন্ডিকে। বাংলাদেশ সরকারের বিধি-বিধান অনুযায়ী কর দিতে অনীহার কারণেই এ প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। বিদেশীদের স্বদেশে টাকা পাঠানোর বিষয়টিকে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা গেলে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর প্রবণতা যেমন কমবে তেমনি সরকারী কোষাগারে যোগ হবে রাজস্ব এমনই মত- বিশেষজ্ঞদের। দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, টেলিযোগাযোগ ও নির্মাণখাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন বহু বিদেশী নাগরিক। এসব বিদেশী যে অর্থ উপার্জন করেন যথাযথ তদারকি না থাকায় তার একটা বড় অংশ থেকে যায় করের আওতার বাইরে। তবে, তাদের স্বদেশে টাকা পাঠানো অব্যাহতই থাকে।

হুন্ডির মাধ্যমে কত টাকা বিদেশে পাঠানো হয় তার নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলেও গোয়েন্দা পুলিশের হিসাবে, বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে প্রতি বছর পাচার হয় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। সরকার উদ্যোগী হলে এমন অবৈধভাবে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমতে পারে বলে মত দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের অতিরিক্ত সচিব পরেশ চন্দ্র ম-ল জানালেন, দেশে বৈধভাবে কাজ করছেন প্রায় ২২ হাজার বিদেশী নাগরিক। হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো টাকা কমাতে, বিদেশীদের নিজ দেশে টাকা পাঠানোর জন্য নীতিমালায় সংশোধনী আনা হয়েছে। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পরিমাণ কমাতে সরকার চেষ্টা করছে বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান।