১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উদ্বোধনের আগেই দুই লেনই দখল ॥ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চার লেন প্রকল্প

  • রাতারাতি অবৈধ স্থাপনা;###;বাজার বসেছে অর্ধশতাধিক ;###;শিল্প-কলকারখানাও দুই শতাধিক ;###;দেখভালের কেউ নেই

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোরলেন প্রকল্প ঘিরে রাস্তার দু’পাশে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। উদ্বোধনের আগেই রাতারাতি গড়ে উঠছে অসংখ্য বাণিজ্যিক স্থাপনা। প্রায় শেষ হওয়া এই প্রকল্পের উভয় পাশে নতুন পুরনো মিলে অর্ধশতের বেশি বাজার গড়ে উঠেছে। রাস্তা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিকের বেশি শিল্প কারখানা। শতাধিকের বেশি অবৈধ পরিবহন টার্মিনাল এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। রাস্তা বড় হওয়ায় স্বল্প দূরত্বে শুরু হয়েছে বাস চলাচল। সড়কের উপর শত-শত বালুসহ পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কার্গো। মাছ আনানেয়ার জন্য পিকআপ ভ্যানের দৌরাত্ম্য তো আছেই। মহাসড়কজুড়ে দেদার চলছে অনুমোদনহীন পরিবহন। সব মিলিয়ে ফোরলেন প্রকল্পের দু’লেন এখন দৃশ্যমান! দখলের কারণেই বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট লেগেই থাকে। দুই ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে চার ঘণ্টার বেশি। রাস্তাটি রক্ষণাবেক্ষণের যেন কেউ নেই। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে নতুন রাস্তা বানানো হয়েছে কার স্বার্থে।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৬ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরামদায়ক, সহজতর, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া মোড় থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। যা চলতি বছরই শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের দু’পাশে দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় হাইওয়ের মানদ- নিয়েও প্রশ্ন ওঠছে।

জাতীয় মহাসড়কের মানদ- রক্ষার কেউ নেই ॥ প্রকৌশলীরা বলছেন, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক মানদ-ের কোন রাস্তা নেই। বাস্তবতা হলো- সাম্প্রতিক সময় থেকে মানদ- নিশ্চিত করেই রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। মান অনুযায়ী প্রতিটি লেনের রাস্তার প্রশস্ত হতে হবে তিন দশমিক ৬৫ মিটার। অর্থাৎ ১২ ফুট। চার লেনের মহাসড়কের প্রস্থ ৪৮ ফিট। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-ময়মনসিংহ মহাসড়কগুলো এই মানদ-ে নির্মাণ করার কথা জানিয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ। এবং রাস্তার দু’পাশে আট ফুট করে ১৬ ফুট জায়গায় কোন ধরনের স্থাপনা হতে পারবে না। এটি রাস্তার শোল্ডার হিসেবে থাকবে। একেক চাকার জন্য আট টন ওজন নির্ধারণ করে রাস্তা করা হচ্ছে। অর্থাৎ চার চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে ৩২ টন মালামাল পরিবহন করা যাবে। তবে এই মানদ- রক্ষার দায়িত্ব পালনে তেমন কেউ নেই। মানের সব বিষয়গুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ।

জানতে চাইলে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাওয়েদ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী আমাদের দেশে রাস্তা নির্মাণ শুরু হলেও এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় হাটবাজার বসছে। দখল হচ্ছে রাস্তার শোল্ডার পর্যন্ত। এ কারণে একদিকে যেমন দ্রুত রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। যাত্রী ভোগান্তি তো সব সময়ের ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠকে বলেন, এই টার্মিনাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪০টি রুটে বাস চলাচল করে। দখল, হাটবাজার, অবৈধ টার্মিনালসহ নানা অরাজকতার কারণে দেশের সবক’টি হাইওয়েতে যানজটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা অনেকবার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বিভিন্ন সড়কে দেখা যায় অর্ধেক রাস্তা পর্যন্ত দখলে থাকে।

উদ্বোধনের অপেক্ষা ॥ বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের জুলাইয়ে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদনের সময় এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৯৯২ কোটি টাকা। আর প্রকল্পের কাজ শেষ করার মেয়াদ বেঁধে দেয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের জুন মাস। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নানা কারণে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েকদফা বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে বেড়ে যায় ব্যয়ও। সর্বশেষ এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। আর কাজ শেষ হওয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয় ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত। ইতিমধ্যে মহাসড়কের ডিভাইডার এলাকায় নিরাপত্তা পিলার স্থাপন, ঘাস লাগানো, রোড মার্কিংসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন প্রকল্পের পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনের কাজটি ৯০ ভাগই কাজ শেষ। ইতিমধ্যে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আর এ চিত্র মহাসড়কে চলাচল করলে বাস্তবেই দেখা যায়। রাস্তাটি যে কোন সময় উদ্বোধনের কথা জানান তিনি।

দখলের চিত্র ॥ ময়মনসিংহ শহর থেকে বলাশপুর বাইপাস অথবা মাসকান্দা হয়ে ঢাকার পথে রওনা দিলেই দখলের দৃশ্য চোখে পড়বে। দৃষ্টিনন্দন এই মহাসড়কের বর্তমান হাল দেখলে যে কারও চোখ কপালে ওঠার কথা। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো- পুরো রাস্তাটিই যেন অভিভাবকহীন। অর্থাৎ দেখভালের কেউ নেই। মূলত এ কারণে এত অরাজকতা চলছে। সড়কের কাজ করেই যেন দায় এড়ানোর চেষ্টা। ময়মনসিংহ শহর থেকে বের হলেই ভাটিবারেরা ও শিকারীকান্দা চার রাস্তা মোড়। রাস্তার চারপাশ জুড়ে এলোপাতাড়ি পরিবহন রাখা আছে। জামালপুর সড়কের মোড় ঘেঁষে শত-শত অটোরিক্সার আড্ডা। আর রাস্তার সবদিক জুড়ে হচ্ছে বাণিজ্যিক নানা স্থাপনা।

এই পয়েন্ট থেকে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত স্থান ত্রিশালের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। সেখানে পৌঁছানোর আগেই চুরখাই এলাকার একাধিক পয়েন্টে একেবারে রাস্তা ঘেঁষে বাজার, খাবারের হোটেল ও দোকানপাট হচ্ছে রাতারাতি। ইতোমধ্যে বেশকিছু হোটেল চালু হয়েছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। চার ও ছয় নং বৈলর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নতুন করে বাজারের পরিধি বাড়ছে। রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে ইটা। ট্রাক ও পিকআপ রাখা আছে মধ্য রাস্তায়।

ত্রিশালে ত্রিশঙ্কু অবস্থা ॥ দিন দিন বাড়ছে ত্রিশাল বাজারের পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে রাস্তা দখলের দৌরাত্ম্য। নতুন নতুন বাণিজ্য খোলা হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে ত্রিশাল বাজারে এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থা। এখানে রাস্তার ওপর কাঁচাবাজার, বাস, ট্রাক, অটোরিক্সাসহ পণ্যবাহী বিভিন্ন পরিবহনের জটলা। মহাসড়ক থেকে ফিডার রোডের মুখে দোকান ও বিভিন্ন পরিবহনের ভিড় আছেই। আছে ব্যাটারিচালিক ও সাধারণ রিক্সার উপদ্রব। ন্যাশনাল ব্যাংকের নিচে পরিবহন পার্কিং রাজ্য। মোমেনশাহী-ব-৩৮ নম্বরের সোহানা বাসের চালক জানান, দিন দিনই বিভিন্ন দূরত্বে বাস বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অটোরিক্সাসহ সব ধরনের পরিবহন। তখন ভালুকার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে একদিকে রাস্তার দু’পাশে দখলের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। সড়কে বাড়ছে অনুমোদনহীন পরিবহনের সংখ্যা। বাড়ছে বাজার। এতে আন্তঃজেলা পরিবহনসহ স্থানীয় মানুষের দিন দিন দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ছে। এখান থেকে আরও চার কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করলে আরও একটি নতুন বাজার চোখে পড়বে। এখানেও বালু ও মাটিবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আছে রাস্তাজুড়ে।

আরেকটু সামনে গেলে রায়মনি এলাকায় নতুন নতুন স্থাপনা হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। এখানেও আছে বাজার। আবুল কাশেম সুপার মার্কেটের সামনে মহাসড়কজুড়ে বিভিন্ন পরিবহন রাখা হচ্ছে দিনের পর দিন। লিখন বাজারের পাশে রাস্তার ডান অংশে হামিদ এগ্রো লিমিটেডের শত-শত সাইনবোর্ড। রাস্তার পাশে কৃষি জমিতে এই প্রতিষ্ঠানের শিল্পায়ন হলে মহাসড়কে প্রভাব পড়বে। মিজমিজি এলাকায় বাজারের সঙ্গে পরিবহনের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা থেকে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রাস্তার ওপর গাড়ি রেখে দোকানে দোকানে মালামাল দিতে দেখা গেছে। এর আরেকটু সামনে বগার বাজারের দৃশ্য দিন দিন বদলে যাচ্ছে। বাজারে রাস্তা ঘেঁষে রাতারাতি হচ্ছে স্থাপনা। রাস্তার ওপর পণ্যবাহী পরিবহনের দখলদারিত্ব তো আছেই। বিভিন্ন গন্তব্যের শত-শত অটোরিক্সা যাচ্ছে এখান থেকে। এর একটি অংশ নিয়মিত মহাসড়কে চলাচল করছে। নিশিন্দা এলাকায় গড়ে ওঠছে আরেকটি বাজার।

ভরাডোবা পয়েন্টে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও মহাসড়ক নিরাপদ নয়। এখানে বাজারের পাশাপাশি রাস্তার ওপর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কার্গো, ওয়াগনসহ পণ্যবাহী গাড়ির অভাব নেই। একটি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডও ভোগান্তির কারণ। যাদিও এই স্থানে এখনও ফোর লেনের কাজ শেষ হয়নি। বাজারের একটু সামনে আবারও ফোর লেনের দেখা মেলে।

ভালুকা কলেজগেটের চিত্রও একই। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানেও রাতারাতি বাড়ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও পরিবহনের সমাগম। তেমনি স্থাপনাও অভাব নেই। স্থানীয় লোকজন ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যেন কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। ভালুকা মডেল থানার অন্তত তিন কিলোমিটার আগে থেকেই রাস্তা দখলের চিত্র নজরে আসবে। ঠিক থানার সামনে একটি অবৈধ অটোরিক্সা স্ট্যান্ড গড়ে ওঠেছে। শত-শত বাস, পিকআপ, কার্গোর ভিড় তো আছেই। এখানে রাত দিন ২৪ ঘণ্টাই যানজট লেগে থাকে। এলোপাতাড়ি পরিবহন রাখা হয় সব সময়। স্বল্প দূরত্বের বাস চলা শুরু হয়েছে সম্প্রতি। ঢাকা মেট্রো-চ-১৫৩৬২ এই নম্বরের মাইক্রোটি ঠিক মহাসড়কের ওপর। এর ঠিক পাশেই শত শত ট্রাকের সারি। কুমিল্লা-ট-৩৩৫১ ট্রাকটিও মহাসড়কের ওপর আড়াআড়ি ভাবে রাখায় রাস্তায় যানজট লেগে যায়। বাজারের পাশে জহুরুল সিএনজি পাম্পের রাখা আছে অসংখ্য পণ্যবাহী পরিবহন। এর বেশিরভাগই মহাসড়ক পর্যন্ত ঠেকেছে। সিয়েট ট্রায়ার কোম্পানির সামনে ট্রাক টার্মিনাল, দোকানসহ বিভিন্ন কারখানা হচ্ছে। ভালুকার এতিমখানা এলাকায়ও রাস্তার ওপর হাট-বাজার।

সীডস্টোরে রাস্তার ওপর কাঁচাবাজার ॥ এখানে মহাসড়কে কাঁচাবাজারের যন্ত্রণা দীর্ঘদিনের। রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় নতুন করে বাড়ছে বাজারের পরিধি। বাড়ছে দোকান। রাস্তার ওপর লেগুনা, মেক্সির অভাব নেই। শত কিংবা হাজারে গুনলে শেষ হবে না। এর বেশিরভাগই নম্বরবিহীন লক্কড় ঝক্কড় ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহন। এগুলো মহাসড়কের পাশাপাশি স্বল্প দূরত্বে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। রাস্তায় ট্রাক, কাভার্ডভ্যান তো আছেই। ছোট ছোট মুড়ির টিন জাতীয় বাসও চলে এখান থেকে। রাস্তায় এসব পরিবহন রাখায় মহাসড়কে গাড়ি চলাচলে বিঘœ ঘটে। দেখভালেরও কেউ নেই। এর একটু সামনে রশিদ সিএনজি স্টেশন ও হরিরপার ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে বাজারের আয়তন বাড়ছে। পাশেই একটি তেলের পাম্পকে কেন্দ্র পরিবহনের লাইন থাকে রাস্তা পর্যন্ত। ঢাকামুখী আসতে জমিরদিয়া এনভয় টেক্সটাইলের সামনের রাস্তায় পণ্য খালাসের জন্য রাখা হয়েছে বেশকিছু পরিবহন। জমিরদিয়া (মাস্টারবাড়ি) বাজার, তেলের ট্রাক, বালু ও পণ্যবাহী পরিবহনসহ অসংখ্য কাভার্ডভ্যান রাখা হয় রাস্তার ওপর। মেসার্স এম এন ট্রেডার্সসহ অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক কার্গো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নাসির গ্ল্যাস ফ্যাক্টরির সামনেও রাস্তা দখলের চিত্র দেখা গেছে।

জৈনা বাজার এলাকার মানুষ এখন আর শান্তিতে নেই। দিন দিন বাজার এলাকায় যানবাহনের চাপে যানজট বাড়ছে। বাড়ছে দূষণের মাত্রা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাস্তা দখল। এমনিতে কাঁচা বাজারের ভোগান্তি তো আছেই। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত অবধি রাস্তায় বসে বাজার। স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনার শেষ নেই। বিশাল আয়তনের বাজার ঘিরে অবৈধ পরিবহন টার্মিনালের সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত গড়িতে। যে যেখানে সুবিধা পাচ্ছেন সেখানেই চলছে গাড়ি পার্কিং। বিভিন্ন এজেন্সির বিপুলসংখ্যক ওয়াগন ও কাভার্ডভ্যান রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আরএকে সিরামিকস ও রশওয়া স্পিনিং মিলের সামনের চিত্রও ঠিক একই রকমের। শিপুরের নয়নপুর বাজারের দৃশ্যও একই রকমের। স্থাপনা নির্মাণে কোন রকমের নিয়মনীতির বালাই নেই। তেমনি ইচ্ছেমত সড়ক দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। রাস্তা দখল আর লকআকর ঝক্কড় পরিবহনের উৎপাতে মুলাইদ এলাকার এমসি বাজার, ওয়েলটেক্স গ্রুপের সামনের রাস্তার চিত্রও সঙ্গীন। যানজট, শিল্প প্রতিষ্ঠানের গাড়ির উৎপাত, রাস্তা দখলসহ নানা কারণে রঙ্গিলা বাজারের মানুষের মনে এখন আর রঙ নেই। এসব কারণে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ একেবারেই অতিষ্ঠ।

যানজট কমেনি মাওনায় ॥ যানজট নিরসনে মাওনা বাজারে ওভারপাস নির্মাণ করা হলেও সঙ্কটের সমাধান হয়নি। তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তা দু’পাশে দখল আর উৎপাত বাড়ছেই। বাজার এলাকায় এখন এক ইঞ্চিও খালি জমি মিলবে না। সেই সঙ্গে রিক্সা, বাস, অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত বাইকসহ বিভিন্ন পরিবহন টার্মিনালের যন্ত্রণা তো আছেই। বাজারসহ এসব কারণে এখানে যানজট ও সমস্যা নিত্যদিনের। কাঠের মিলের কাঠ রাখা হয়েছে রাস্তা জুড়ে। খোদ বাজার পুলিশ বক্সের সামনের রাস্তায় এসব ঘটছে নিয়মিত। মোহা ফিলিং স্টেশন, মোল্লা কার ডেকোরেশন, রাঙা প্রভাত সাহিত্য সংসদ, সঙ্কট অটোসের সামনের দৃশ্য একেবারেই নাজুক। ভূঁইয়াবাড়ি, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাডেমির সামনের রাস্তাটিও দখলমুক্ত নয়। আনসার রোডে বাজার, টার্মিনাল গড়ে ওঠেছে। মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রির সামনে অন্তত ২০টি কাভার্ডভ্যান রাখা হয় রাস্তার ওপর। নরগাড়িয়া মাস্টারবাড়ির এলাকায় ভোরের আলো একতা ক্লাবের সামনে রাস্তার ওপর দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা। রাস্তা ওপর থেকে কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন গন্তব্যে বাস যাচ্ছে হরদম। বাঘের বাজার, ভবানীপুর বাজার (মেম্বারবাড়ি) এলাকার অবস্থা একই। হোতাপাড়া বাজার এলাকায়- হোতাপাড়া বিদ্যা নিকেতনের সামনে বিভিন্ন মিল ফ্যাক্টরের পণ্যবাহী পরিবহন রাস্তা দখল করে পার্কিং করে রাখা হয়। অন্তত ৫০টির বেশি বালুসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় পরিবহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নেই। এ কারণে যানজট লেগেই থাকে। মাস্টারবাড়ি বাজারের চিত্র একই। পোড়াবাড়ি বাজার, উত্তর সালনা, দক্ষিণ সালনা বাজার, সালনা বাজারের দৃশ্য একই। রাস্তার দু’পাশে বালুবোঝাই ট্রাকসহ পণ্যবাহী গাড়িতে সয়লাব তেলিপাড়া বাজার।

চেনা যায় না জয়দেবপুর চৌরাস্তা ॥ সর্বশেষ জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকার অন্তত তিন কিলোমিটার অংশে রাস্তার দু’পাশে অর্ধেকের বেশি জায়গা দখলে চলে গেছে। চাররাস্তা মোড় থেকে সবগুলো পয়েন্টে হাট-বাজার, অবৈধ পার্কিং, অনুমোদনহীন যানবাহন, স্থাপনার যেন শেষ নেই। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলার দৃশ্য ২৪ ঘণ্টার। জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ সড়কে রাস্তার দু’পাশে কয়েক সারিতে শ’ থেকে হাজার ছাড়িয়ে ট্রাক আর ট্রাক। আছে ওয়াগনসহ কাভার্ডভ্যান। এগুলোর মধ্যে কিছু বালু ও মাটি পরিবহন করে বিভিন্ন এলাকায়। কিছু শিল্প কারখানার পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত। নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে বেশকিছু পরিবহন। লেগুনা, মিনিবাস, মাইক্রো, অটোরিক্সা, মাছের ট্রাক, মুরগি পরিবহনে নিয়োজিত ভ্যানসহ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পরিবহনের অভাব নেই। তাই স্বাভাবিকভাবে দেখলে মনে হবে না এটি একটি ফোর লেন সড়ক। তাও আবার মহাসড়ক। অর্থাৎ সড়কের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দখল ও পরিবহন নৈরাজ্যও বেড়েছে সমানতালে। এসব কারণে ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলা পরিবহনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা থাকতে হয়। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের লোকজন থাকলেও নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া