১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লেখক-প্রকাশক হত্যায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি বুদ্ধিজীবীদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লেখক-প্রকাশক হত্যার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীরা। তারা বলেছেন, এসব হত্যায় জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচার না করার ফলে হত্যাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। আর সরকারের উদাসীনতায় মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হত্যার বিচার দাবি করা হয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে সংগঠিত প্রকাশক ও লেখকদের হত্যা দেশজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গীগোষ্ঠী একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে পাঁচজন লেখককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও সরকার এখনও পর্যন্ত একটি হত্যাকা-েরও বিচার করতে পারেনি। অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচার না করার ফলে হত্যাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। যে সকল অপরাধীদের ধরা হয়েছে তারাও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এরূপ উদাসীনতা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। সেই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনমনে হতাশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে।

অবিলম্বে প্রতিটি লেখক প্রকাশকদের হত্যার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, দেশকে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এছাড়া সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার দায়ভার জনগণ মেনে নিতে পারে না। আমরা মনে করি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের কালাকানুন থাকতে পারে না। তাই অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।

বিবৃতিদাতারা হলেন- আহমেদ রফিক, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. অজয় রায়, অধ্যাপক যতীন সরকার, প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, হাসান আজিজুল হক, কামাল লোহানী, আবেদ খান, শাহরিয়ার কবির, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, অধ্যাপক এমএম আকাশ, শুভ রহমান, নিখিল সেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, বেগম মুশতারী শফি, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক মাহফুজা খান, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক কাজী মদিনা, আবুল মোমেন, মানবেন্দ্র বটব্যাল, অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, মশিউদ্দিন শাকের, লায়লা হাসান, অধ্যাপক বদিউর রহমান, অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান সেলিম, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, সুজেয় শ্যাম, প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ, মোনায়েম সরকার, কবি এ কে শেরাম, কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু ও সাইদুর রহমান বয়াতি।