১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য চুক্তি হচ্ছে আজ

  • সেবা পাওয়া যাবে ৪০ ধরনের ;###;উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ ডিসেম্বর ’১৭

ফিরোজ মান্না ॥ দেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ‘থেলেস এলেনিয়া স্পেস ফ্রান্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটিআরসির চুক্তি স্বাক্ষর হবে আজ। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নামের এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হযেছে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে দেশে টেলিকম ও সম্প্রচার সেবা থেকে শুরু করে ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, স্যাটেলাইট নির্মাণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। থেলেস এলেনিয়া স্পেস ফ্রান্স নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্যাটেলাইট সিস্টেম নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। প্রতিষ্ঠানের সিইও জিয়েন লোয়াইস গোল ও বিটিআরসির মধ্যে এই চুক্তি হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এমপি, টেলিযোগাযোগ সচিব মোঃ ফয়জুর রহমান চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে নানা দিক দিয়ে এগিয়ে যাবে। স্যাটেলাইটের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রকল্প গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উৎক্ষেপণ করা হলে দেশসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি দেশ টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা দেয়ার জন্য জিয়োসিক্রোনাস স্যাটেলাইট সিস্টেম (৪০টি ট্যান্সপন্ডার, ২৬ কেইউ ব্যান্ড, ১৪ সি ব্যান্ড)-এর গ্রাউন্ড সিস্টেমসহ সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। ২ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ ২০১৭ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দরপত্রের আওতায় স্পেস সিগমেন্ট, লঞ্চ সার্ভিস, গ্রাউন্ড সিগমেন্ট ও উৎক্ষেপণের এক বছর পর্যন্ত বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের ৪০ শতাংশ টাকা বাংলাদেশ সরকার বহন করবে। বাকি ৬০ শতাংশ টাকা যে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ব্যয় করবে। তারা পরে স্যাটেলাইট থেকে আয় করা টাকা থেকে কিস্তি হিসেবে নেবে। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার সম্ভাব্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিটিআরসি এ বছরের ১৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল সøট ইজারা নিতে চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপনে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল সøটের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনসকে দুই কোটি ৮০ লাখ দিয়েছে বিটিআরসি। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দুই হাজার ৯৬৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা সরকারের তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। দাতা সংস্থা দেবে এক হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে এই প্রকল্পের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর নিজস্ব জমিতে দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হবে। মূলত এ সব জায়গা থেকেই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন হলে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ওম বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলেও ব্রডকাস্টিং থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগের সব সেক্টর উন্মুক্ত হয়ে যাবে। বিদেশী স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না। অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। বিটিআরসির ২০০৮ সালে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য আইটিইউর কাছে ইলেক্ট্রনিক ফাইলিং দাখিলসহ প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ করে। এরপর নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বিটিআরসি স্যাটেলাইটের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনেক আলোচনা করে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এবার তার চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য মহাকাশের বিভিন্ন রেখায় স্থাপন করা ৬৯টি দেশের শতাধিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সম্প্রচার এবং গোয়েন্দা গিরির কাজ করে যাচ্ছে। নিজেদের স্যাটেলাইট না থাকায় বাংলাদেশের ওপর বিদেশী পাঁচটি স্যাটেলাইট ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশ্বের ৪৫টি দেশের মহাকাশে নিজস্ব স্পেস রয়েছে। তাদের আকাশে অন্য কোন দেশের স্যাটেলাইট নেই। ৫০টি দেশ অন্য দেশের সহযোগিতায় স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। ১১টি দেশের নিজস্ব ব্যয়ে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। এসব দেশের শতাধিক স্যাটেলাইট বিষুবরেখা, মেরুবিন্দু বা ক্রান্তীয় অঞ্চল অথবা বিভিন্ন কৌণিক পথে পরিভ্রমণ করছে। যোগাযোগ মাধ্যমের স্যাটেলাইটগুলো সাধারণত বিষুবরেখার ওপর স্থাপন করা হয়। কক্ষপথের এই স্থানে স্যাটেলাইট স্থাপন করলে পরিচালন ব্যয় অনেক কম। তাই উন্নত দেশগুলো এই কক্ষে একটার পর একটা যোগাযোগ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে।