২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনসার আল ইসলামের হিটলিস্টে ৩৪ জন

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বাংলাদেশে লেখক ও প্রকাশককে হত্যার দায় স্বীকারের পর তাদের পরবর্তী ‘টার্গেট’ কারা হবে তার একটি তালিকাও দিয়েছে আনসার আল ইসলাম (আল-কায়েদা ভারতীয় উপমহাদেশ)। তবে পুলিশের ধারণা অন্য কোন গোষ্ঠী আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার করে এসব তালিকা প্রকাশ করছে। এদিকে তথাকথিত হিটলিস্ট থেকে বেরিয়ে এসে যে কাউকে হত্যা হুমকি এবং গণমাধ্যম থেকে নারীকর্মীদের অব্যাহতির ‘নির্দেশ’কে তালিকায় থাকা ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টরা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বলে চ্যানেল আই অন লাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

টার্গেট তালিকার ৩৪ জনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, আইনজীবী, ঔপন্যাসিক, কবি, বুদ্ধিজীবী, পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক ও নাট্যকার রয়েছেন। এরা কেউ কেউ বাংলাদেশ, লন্ডন, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। ‘কে হবে আমাদের পরবর্তী টার্গেট’ এ শিরোনামে প্রকাশিত ওই তালিকায় আব্দুল গাফফার চৌধুরী, ড. জাফর ইকবাল, শাহরিয়ার কবির, মুনতাসীর মামুন, তুরিন আফরোজ, ইমরান এইচ সরকারসহ অন্যদের নাম রয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন দাউদ হায়দার, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা, তসলিমা নাসরিন, আবেদ খান, মফিদুল হক, মোহাম্মদ এ আরাফাত, মাহবুবুর রহমান জালাল, রামেন্দু মজুমদার, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, রায়হান রশিদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, অমি রহমান পিয়াল, খাদেমুর রহমান শাকিল, আরিফ রহমান, আরিফ জেবতিক, বাপ্পাদিত্য বসু, আফিস মহিউদ্দিন, অনন্য আজাদ, কামাল পাশা চৌধুরী, লাকি আকতার, জনার্ধন দত্য নান্টু, ইব্রাহিম খলিল সবাক, ডাঃ নাজমুল হাসান, আরিফুজামান পৃথিল, কনিজ আকলিমা সুলতানা, এফ এম শাহীন ও সাম্মী হক। তালিকার নিচে লেখা রয়েছে আমাদের আরও টার্গেট আসছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার ও মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, এটাকে সত্য নয় ধরে নিয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে তাদের নাম ব্যবহার করে কারা এটা প্রকাশ করছে। যারা প্রকাশ করছে তাদের শনাক্ত করে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে তথাকথিত হিটলিস্ট থেকে বেরিয়ে এসে যে কাউকে হত্যা হুমকি এবং গণমাধ্যম থেকে নারীকর্মীদের অব্যাহতির ‘নির্দেশ’কে তালিকায় থাকা ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্টরা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের খোলা চিঠিতে সংবাদমাধ্যমের প্রতি ৬ দফা ‘নির্দেশনা’র প্রথম দফায় নারীদের গণমাধ্যমের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার এবং সবাক পাখি বলেন, আজ তারা সংবাদ মাধ্যম ও নারী চাকরিজীবীদের প্রতি তাদের আক্রোশ প্রকাশ করেছে। নারী স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ জঙ্গীগোষ্ঠীর হুমকি-ধমকি নতুন কিছু নয়। তবে আনসারুল্লাহ এই প্রথম নারীদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করল।

ইমরান এবং সবাক আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া জানালেও একই সুরে বলেন, তারা (আনসারুল্লাহ) দেশকে জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। এখনই যদি সরকার সচেতন না হয় তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অমি রহমান পিয়ালও একে অশনিসঙ্কেত হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, আজ তারা সমূলে উপড়ে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তারা সংবাদ মাধ্যমের জন্য আইন করছে। এখনই সতর্ক না হলে রাষ্ট্রের জন্য এটা বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে।

এখন দেশের কেউই জঙ্গীদের হাত থেকে নিরাপদ নয় উল্লেখ করে সবাক পাখি বলেন, এতদিন যেসব মানুষ ব্লগার হত্যার পর নিজেরা নিরাপদে আছেন ভেবে প্রতিবাদ করেননি, এই সতর্কবার্তা তাদের জন্যও। আসলে আনসারুল্লাহ কিংবা এ ধরনের জঙ্গীগোষ্ঠী কাউকেই ছাড়বে না। তারা তাদের সর্বশেষ দ্বিমতকারীকেও হত্যা করতে চাইবে। ‘ব্লগার, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী সবাইকে এভাবে হত্যা করে শেষ পর্যন্ত হয়ত এক জঙ্গী গ্রুপ অথবা আরেক জঙ্গী গ্রুপকে হত্যা শুরু করবে। এখনও সময় আছে ব্লগার হত্যা ও হত্যার হুমকিকে ‘ধর্মীয় অনুভূতি’ নামক শব্দ দিয়ে না ঢেকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। নইলে একদিন এ দেশের মানুষকে আবারও যশোর রোড ধরে, নৌকায় চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দেশ ছাড়তে হবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, তিন বছর বয়সী সিরিয়ান শিশু আয়লান কুর্দি মতো বহু বাংলাদেশী শিশুর লাশ ভেসে উঠবে সমুদ্র সৈকতে। এসব ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে না চাইলে ধর্মীয় মৌলবাদ, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

হিটলিস্ট থেকে বেরিয়ে এসে সকল অনলাইন এক্টিভিস্টের জন্য সতর্কবার্তা তাদের সামর্থ্যরে প্রকাশ বলে মনে করেন ইমরান ও পিয়াল। তারা বলেন, জঙ্গীরা এখন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। এই চিঠিতে তারা এও বলেছে, এখন থেকে বিভিন্ন নামে পরিচালিত জঙ্গীগোষ্ঠী এক হয়ে কাজ করবে। তাই তাদের এখন আর হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

দেশের কোন মানুষই তাদের কাছে নিরাপদ নয় উল্লেখ করে পিয়াল এবং ইমরান বলেন, এখনই যদি আমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক না হই তাহলে সামনে দেশ জঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

তবে জঙ্গী পৃষ্ঠপোষকদের চিনেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ার জন্য ইমরান বর্তমান সরকারেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সবাই জানে কারা জঙ্গীবাদের পৃষ্টপোষকতা থেকে শুরু করে অর্থ যোগান দিচ্ছে। তারপরও সরকার তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

‘এমনকি সব জঙ্গীগোষ্ঠীর অর্থ যোগানদাতা এক। যে হেফাজতে ইসলাম দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েছেল আজ সরকার তাদের রেলের জায়গা বরাদ্দ দিচ্ছে। অর্থ সহায়তা দিচ্ছে।’