২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিকফা বৈঠকে জিএসপি ফেরত পাওয়া যাবে ॥ আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর

  • রাজনৈতিক কারণে জিএসপি বাতিল হয়নি ॥ বার্নিকাট

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টিকফা বৈঠকে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফের দাবি জানাবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা টিকফা চুক্তির দ্বিতীয় বৈঠকের যে এজেন্ডা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তাতে ঘুরে ফিরে জিএসপির কথাই আসছে। আগামী ২৩ নবেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে টিকফার দ্বিতীয় বৈঠক হবে। ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে এবারও জিএসপি ফেরত পাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রফতানিতে জিএসপি পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

একই সঙ্গে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে সন্তুষ্ট ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। তিনিও জানালেন, রাজনৈতিক কারণে নয় বরং শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় জিএসপি সুবিধা বাতিল হয়েছে। টিকফা বৈঠকের পর জিএসপি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন। ওই সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের জানান, টিকফার (ট্রেড এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট) আগামী বৈঠকের পর বাংলাদেশ জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস) সুবিধা ফিরে পেতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ২৩ নবেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে টিকফাবিষয়ক বৈঠক হবে। বৈঠকে কী কী বিষয় উত্থাপন করা যায় সে বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, টিকফা বৈঠকে জিএসপি নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলা হবে। আর টিকফা বৈঠকেই জিএসপি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। আমি মনে করি, টিকফা মিটিংয়ে জিএসপি স্থগিত আদেশ প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া টিকফা বৈঠকে ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ যাতে টিপিপির অন্তর্ভুক্ত হয় সে বিষয়ে আলোচনা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাই, তাদের সমর্থনের কারণে আমরা মেধাস্বত্ব ছাড় সুবিধা পেয়েছি। তাদের সমর্থন না পেলে এটা হতো না। আর দশম ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) সম্মেলনে রুলস অব অরিজিন শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি সার্ভিস ওয়েভার পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। আশা করি দুটি সুবিধাই আমরা পাব।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করা হয়েছে। আগের চেয়ে রফতানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ দুই দেশের মধ্যে কীভাবে আরও বাণিজ্য বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, টিকফা বৈঠকে বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে শ্রম সচিব, পররাষ্ট্র সচিবসহ সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন। বৈঠকে প্রথম এবং প্রধান এজেন্ডামাই হবে জিএসপি সুবিধা ফেরত পাওয়া। যারা বৈঠকে অংশ নেবেন, তারা প্রথমেই জিএসপি নিয়ে আলোচনা করবেন। টিকফা বৈঠকের পর জিএসপি ফেরত পাওয়া যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি যতখানি না অর্থনৈতিক লাভের বিষয়, তার চেয়ে বেশি মর্যাদার। এতে তেমন লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই। তবে এর সঙ্গে দেশের সুনাম জড়িত। বৈঠকের পর তাদের আরোপিত বিধিনিষেধ তারা প্রত্যাহার করবে, এটিই প্রত্যাশা।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, আমি বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়নি। শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা না থাকার কারণে এটা বাতিল হয়েছে। এ সুবিধা কীভাবে ফিরে পাওয়া যায় সে বিষয়ে টিকফা বৈঠকে আলোচনা হবে। আমি মনে করি বাংলাদেশ টিকফা বৈঠকের মাধ্যমে হারানো জিএসপি সুবিধা ফেরত পাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার আগেও গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। ইতোমধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে এসব অভিযোগ কমে গেছে। তাই আমি মনে করি সব কিছু বিবেচনায় জিএসপি সুবিধা পেতে পারে। এ সুবিধা ফিরে পাওয়া বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাল বন্ধু বাংলাদেশ। দুই দেশের বাণিজ্যিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে সার্বিক সহায়তা দেয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানিতে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ। আগামীতে এটা আরও বাড়বে।