২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টিআইবির ইফতেখার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনী ব্যবস্থা ॥ সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সুরঞ্জিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংসদ, সংবিধান ও রাষ্ট্র নিয়ে ‘অবমাননাকর’ বক্তব্য দিলে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান করার কথা বিবেচনা করছে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিলে ঐ বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার যদি বিবেচনা করে যে, কোন এনজিও সংসদ, রাষ্ট্র, বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হবে। কমিটিও এটা বিবেচনা করছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে ওঠার পর পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। সোমবার সংসদ অধিবেশনে এক অনির্ধারিত আলোচনাতেও ওই বিধান নিয়ে কথা বলেন সুরঞ্জিত। সংসদে আলোচনায় তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন এবং বর্তমান সংসদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমান সংসদ ক্ষমতাসীন দলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ভুবনে পরিণত হয়েছে। সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে পরিণত হয়েছে। সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ আখ্যায়িত করেন। সোমবার সংসদে ওই বক্তব্যের সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ সংসদের বিশেষ অধিকার কমিটিতে টিআইবিকে তলব করারও দাবি করেন। এর জবাবে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যগণ ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ প্রতিবেদনকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন তাকে ইতিবাচক এবং টিআইবির কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করছি। এছাড়া সংসদের যে কোন উদ্যোগে সহায়তা করতে টিআইবি প্রস্তুত আছে বলেও বিবৃতিতে জানান তিনি।

এরপর সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সুরঞ্জিত বলেন, এনজিওগুলো এমন অবস্থা ধরছে যে- আমার ঘরের ছাও, আমারে খাইতে চাও। তারা সরকার ও রাষ্ট্রের প্যারালাল হয়ে উঠছে। এই অধিকার তাদের নেই। তাদের কাজ সেবামূলক কাজ করা। নির্বাচন নিয়ে কথা থাকতেই পারে। সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলবে। এর মধ্যে এনজিও কেন? ড. ইফতেখার কিছু কথা বলেছেন যা অগ্রহণযোগ্য ও অবমাননাকর। টিআইবির বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, সংসদকে পাপেট শো বলেছে। তুমি কে হে? তুমি এনজিও। বাইরের টাকা আনো। যে কথা বলেছে তা ফিলদি (নোংরা)। অন্য এনজিওগুলোকেও টিআইবির বিষয়ে ‘দায়িত্ব নিতে হবে’ মন্তব্য করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আমাদের অবস্থান এনজিও’র বিরুদ্ধে নয়। অন্য এনজিওদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের বলতে হবে ইফতেখার তাদের মুখপাত্র কি-না। যদি তারা ‘হ্যাঁ’ বলে, তাহলে একরকম, না হলে অন্যরকম। টিআইবিকে তিন দিন সময় বেঁধে দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আইন অনুযায়ী। তাকে লাইসেন্স... ইচ্ছামতো কথা বলার অবাধ লাইসেন্স দেয়া হয়নি। সেটা পলিটিক্যাল পার্টিকে দেয়া আছে। টিআইবি ‘সীমা লঙ্ঘন’ করেছে। সামাজিক, আইনী, সাংবিধানিক সকল সীমা লঙ্ঘন করেছে। আজ আওয়ামী লীগ আছে, কাল বিএনপি আসতে পারে, পরশু জাতীয় পার্টি আসতে পারে। উনি (ইফতেখারুজ্জামান) কে? কেউ যদি মনে করে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে প্রতিষ্ঠানকে হেয় করবে। সেটা বিদ্বেষমূলক ও দূরভিসন্ধিমূলক। সংসদ তাদের লক্ষ্যবস্তু কেন? তারা অসাংবিধানিক কিছু চায়?

সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মোঃ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, মোঃ শামসুল হক টুকু, মোঃ আব্দুল মজিদ খান, তালুকদার মোঃ ইউনুস, মোঃ জিয়াউল হক মৃধা এবং সফুরা বেগম বৈঠকে অংশ নেন।