২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পর্যটন নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদে বিল উত্থাপন

সংসদ রিপোর্টার ॥ পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিলটি উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত পর্যটন নগরী কক্সবাজার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিতি লাভ করেছে। একটি আধুনিক ও উন্নতমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কক্সবাজারের আবাসন, হোটেল, মোটেল, রাস্তাসহ অন্য সব নাগরিক ও পর্যটন সুবিধা পরিকল্পিতভাবে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও কক্সবাজারকে একটি পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকা- নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা প্রয়োজন। এ জন্য বিলটি পাস করা প্রয়োজন।

বিলে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এই কর্তৃপক্ষের সদস্য হবেন ১৫ জন। এদের চারজন হবেন পূর্ণকালীন আর ১১ জন খ-কালীন। একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পূর্ণকালীন সদস্যদের মধ্যে একজন প্রশাসন ও অর্থ, একজন প্রকৌশল এবং একজন পরিকল্পনা বিভাগ দেখবেন।

আরও বলা হয়েছে, একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্য সমীক্ষা, জরিপ, মাস্টার প্ল্যান এবং নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে এই কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে মাস্টার প্ল্যান (মহাপরিকল্পনা) প্রণয়ন করাই হবে কর্তৃপক্ষের মূল কাজ। বিলে বলা হয়েছে, নির্মাণাধীন ভবন, জলাধার খনন, পাহাড় কাটা ইত্যাদি স্থগিত বা বন্ধ করার আদেশ দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। যদি কেউ এ আদেশ অমান্য করে তবে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদ- ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা রয়েছে। এ ছাড়া অন্য অপরাধগুলোর শাস্তি সেই আইন অনুযায়ী হবে।

আরও একটি বিল উত্থাপন ॥ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আইন-২০১৫ নামে আরও একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিলটি উত্থাপনের পর তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়াম আমদানি মজুদ ও পরিবহনে বিধিমালা অনুযায়ী রেগুলেট করা হবে। উৎপাদন, শোধন ও রিসাইক্লিং করতে হবে বিধিমালা অনুসারে। আর সতর্কবাণী বাধ্যতামূলক থাকবে। এ ছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘন করলে দ-ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ যদি বিধান লঙ্ঘন করলে ছয় মাস জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের প্রস্তাব করা হয়েছে। পুনরায় অপরাধ করলে এক বছর জেল বা ২০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রাখা হয়েছে।