১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হোয়াইটওয়াশের পালা এবার

মিথুন আশরাফ ॥ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৫ রানে ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫৮ রানে জিতে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে মাশরাফিবাহিনী। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ওয়ানডে আজ। এ ম্যাচ জিতলেই জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। এবার সেই অর্জন নিজেদের করে নেয়ার পালা।

হোয়াইটওয়াশের স্বাদ বাংলাদেশ পেয়ে গেলে, টানা দুই সিরিজে জিম্বাবুইয়েকে এমন লজ্জায় ডোবাবে। গত বছর নবেম্বরে জিম্বাবুইয়েকে ৫-০ ব্যবধানে হারানোর পর চলতি সিরিজ খেলছে দুই দল। আজ জিতলে আবারও জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা হোয়াইটওয়াশের দিকে মনোযোগী। বলেছেন, ‘সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় ওয়ানডে হালকাভাবে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা জিততেই নামব।’ আর জিতলেই হোয়াইটওয়াশ করা হয়ে যাবে। গত বছর নবেম্বর থেকে চলছে বাংলাদেশের জয়যাত্রা। জিম্বাবুইয়েকে হারানো দিয়ে যে জয় শুরু হয়েছে, একের পর এক সিরিজ জিতেই চলেছে বাংলাদেশ। এমন পারফর্মেন্সের পেছনে বোলিং বৈচিত্র্যকেই তুলে ধরেছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘গত বিশ্বকাপ বা তার আগে থেকেই আমরা বেশির ভাগ ম্যাচ জিতছি আমাদের বোলিং ইউনিট খুব ভাল বলে। আমাদের হাতে অনেক বৈচিত্র্য আছে। সবাই নিজের কাজটা করতে পারলে প্রতিপক্ষের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে ওঠে। নতুন যারা আসছে, বা যারা ফিরছে, তারাও ভাল করছে। দলের জন্য এটা দারুণ বিষয়।’ প্রথম ম্যাচ খেলার পর যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন সাকিব। দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন না। এমনকি তৃতীয় ওয়ানডেতেও থাকছেন না। সাকিবের অভাব দ্বিতীয় ম্যাচেই অনুভব করেছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘সাকিব না থাকলে পুরো দলের ব্যালেন্স করা কঠিন হয়ে পড়ে। একদিক থেকে সাকিব যেভাবে ব্যাটিং করে, আর বোলার হিসেবে অসাধারণ। সেই জায়গা থেকে আমরা ব্যাটিংটাকে শক্তিশালী করতে চেয়েছি। কারণ বোলিংয়ে রিয়াদ, সাব্বির ছিল বিকল্প।’ প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও শুরুতে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহীম দলকে বাঁচান। দ্বিতীয় ম্যাচে ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন দুর্দান্ত খেলেন। তবে ব্যাটিংয়ে ইমরুল ও নাসিরের নৈপুণ্যকেই সামনে তুলে ধরেন মাশরাফি। সেই সঙ্গে আল আমিন যে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন, সেটিও বলেন।

গত বছর থেকে সিরিজ জয় শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষেই গতবছর শেষের দিকে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিকরা। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। একের পর এক ম্যাচ, একের পর এক সিরিজ জিততে থাকে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে। জিম্বাবুইয়েকে সিরিজে হারানোর পর পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। এরপর ভারতকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে হারায়। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকাকেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে হারিয়েছিল মাশরাফিরা। জিম্বাবুইয়েকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টানা পাঁচ সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৬১টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে। ২০টি সিরিজেই জয় তুলে নেয়। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ১৫টি সিরিজ খেলে নবমবারের মতো সিরিজ জিতে। দেশের মাটিতে ৩৫ সিরিজ খেলে ১৬টিতেই জিতে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষেই ৭টি সিরিজ জয় ধরা দেয়। আজ যদি বাংলাদেশ জিতে যায়, তাহলে জিম্বাবুইয়েকে আবারও হোয়াইটওয়াশ করা হবে। ক্রিকেট ইতিহাসে এ পর্যন্ত ১০ বার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়েকে ২ বার হোয়াইটওয়াশ করেছে। কেনিয়াকে ও নিউজিল্যান্ডকেও ২ বার করে হোয়াইটওয়াশ করেছে। স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে একবার করে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করলে ১১ বার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করবে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুইয়ে তা হতে দিতে রাজি নয়। জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরাই যেমন বলেছেন, ‘এখনও এক ম্যাচ বাকি আছে। আমরা সেটিতে জিততে চাই।’ তৃতীয় ওয়ানডেতে ও দ্বিতীয় ওয়ানডের দলই রেখেছে বাংলাদেশ। মাশরাফিদের বিপক্ষে অন্তত একটি ম্যাচ জিততে চান চিগুম্বুরা। তা না হলে যে টানা ৮ ওয়ানডে ম্যাচে হার হয়ে যাবে। তাইত চিগুম্বুরা দ্বিতীয় ওয়ানডের পর বলেছেন, ‘আমার মনে হয় দুই অথবা তিনজন ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে থাকেতেই হবে। যারা দীর্ঘক্ষণ থেকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে ইনিংসকে। আমি এবং রাজা এই কাজটি করতে পারিনি। আমাদের জন্য সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্যে ম্যাচটি ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা পারিনি। এখান থেকে শিক্ষাণীয় হচ্ছে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচটি যে খেলব, তাতে আজ (সোমবার) যেভাবে ব্যাট করেছি তার চেয়ে ভাল ব্যাট করার চেষ্টা করব।’ এখন দেখা যাক, জিম্বাবুইয়ে সেই কাজটি করতে পারে কি না। বাংলাদেশ দল তা করতে দেয় কি না। জয়ের সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশ। এবার হোয়াইটওয়াশের সুযোগটিও নিশ্চয়ই কাজে লাগাবে।