১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মির্জাপুরে এসএসসির ফর্ম পূরণে ৪ গুণ টাকা আদায়

  • উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মির্জাপুর, ১০ নবেম্বর ॥ মির্জাপুরে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করতে উচ্চ আদালতের সতর্কীকরণ ও নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে শিক্ষক সমিতি, প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নির্দেশে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা গুনতে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক অভিভাবক এনজিওর কাছ থেকে কিস্তির টাকা তুলে সন্তানের ফরম পূরণের জন্য টাকা যোগাড় করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি উপেক্ষা করে নানা অজুহাতে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্দেশে বোর্ড ফি’র অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। মির্জাপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

উপজেলার রশিদ দেওহাটা উচ্চ বিদ্যালয়, হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মহেড়া আনন্দ উচ্চ বিদ্যালয়, জামুর্কী এনএসএজি উচ্চ বিদ্যালয়, বাঁশতৈল মোঃ মুনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ভাতগ্রাম কে আর এস ইনস্টিটিউশন, ওয়ার্শী পাইকপাড়া এম ইয়াছিন এ্যান্ড ইউনুস খান উচ্চ বিদ্যালয় ও বরাটি নরদান বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য ৪০০০-৪৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। তবে মৈশামূড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে। ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত ১২৫ জন ও বিশেষ (গত বছর অকৃতকার্য ও মান উন্নয়ন) ১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। শনিবার পর্যন্ত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২১ জনের কাছ থেকে বোর্ড ফি’র ১৪০০-১৪২০ টাকার স্থলে ৪৫০০-৬৪০০ টাকা করে আদায় করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিশেষ ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩২০-৪০০ টাকার স্থলে ১৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাউকেই রসিদ দেয়া হয়নি।

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওমান খান জানায়, ফরম পূরণের জন্য তার মা ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে ৫৯০০ টাকা দিয়েছেন।

মৈশামূড়া বিদ্যালয় সূত্র মতে, শনিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে বোর্ড ফি ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বাদে নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ লাখ ৯ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন আল-মামুন জানান, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ গত ৩০ অক্টোবর সভা করে বোর্ড ফি’র বাইরে বিশেষ কোচিংয়ের জন্য ৩৬০০ টাকা নিতে বলেছেন। সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে টাকা না নিতে উচ্চ আদালতের কোন সতর্কীকরণ বার্তা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এরকম কোন পত্র পাইনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন মোল্লা জানান, ফরম পূরণ বাবদ কোন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা না নেয়ার হাইকোর্টের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যেক স্কুলের প্রধানকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কেউ যদি আইন না মানে তাহলে কিছু করার থাকে না। তবে বিষয়টি নিয়ে রবিবার উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এই মাত্রা পাওয়া