১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মালিক কেন টেস্ট ছাড়লেন?

  • মোঃ নুরুজ্জামান

শোয়েব মালিক কি স্বাভাবিকভাবেই টেস্ট ক্রিকেট ছাড়লেন? দুটি কারণে প্রশ্নটা সামনে উঠে আসছে। প্রথমত, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ায় দারুণ উচ্ছাসা পোষণ করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয়ত দলটি পাকিস্তান! যেখানে মাঠের মতো বাইরেও ক্রিকেটারদের বোঝা দায়। কলঙ্কা, অস্বাভাবিকতা আর বিতর্কই দলটির নিত্যসঙ্গী। তার ওপর মালিক ফেরার ম্যাচেই হাকিয়েছেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি (২৪৫)। ১১ উইকেট নিয়ে সিরিজ জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অথচ সাদা পোশাকের আভিজাত্য ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন। তাও আবার শারজায় শেষ টেস্ট চলাকালে! ইগো প্রবেলম, স্বার্থের দ্বন্দ যে নেই, সেটি জোর দিয়ে বলা যায় না। মালিজ নিজে অবশ্য তেমন কিছুর ইঙ্গিত দেননি। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নিতে এবং পরিবারকে বেশি করে সময় দিতেই এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন।

‘মানসিকভাবে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরটা অনেক আগেই নিয়ে নিয়েছিলাম। এটা কেবল আনুষ্ঠানিকতা। বয়স ৩৩ পেরিয়েছে, অনেকদিন ধরে খেলছি। এখন কেবল ওয়ানডে ও টি২০র দিকে বেশি করে নজর দিতে চাই। আমার প্রথম লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য ভালভাবে প্রস্তুত হওয়া। টেস্ট ছাড়ায় এখন আমি পরিবার-পরিজনকে সময় দেয়ার পাশাপাশি সেটা করতে পারব। আমাকে পুনরায় টেস্ট দলে বিবেচনা করে মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার সুযোগ করে দেয়া পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও নির্বাচকদের ধন্যবাদ। এই ম্যাচটা জয়ের পাশাপাশি সিরিজটা জিতে অবসর নিতে পারলে সেটা হবে দারুণ কিছু।’ বলেন মালিক। শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচ জয়ে ২-০ তে সিরিজ জেতে পাকিস্তান। ৩৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার আরও যোগ করেন ‘পাকিস্তান দলে বেশকিছু ভাল প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। ওদের বেশি করে সুযোগ করে দিতেই আমার সরে যাওয়া। টেস্টকে বিদায় জানানোর এটাই সঠিক সময়।’

ভবিষ্যতে কারা পাকিস্তানের হয়ে হাল ধরবেন? এমন প্রশ্নে তিনি যোগ করেন, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটে কখনো প্রতিভার অভাব হয়নি। হারিস সোহাইল, বাবর আজম, শোয়েব মাকসুদ, মোহাম্মদ রিজোয়ানদের এই মুহূর্তে অন্যতমসেরা প্রতিভাবান বলে মনে হয়। ওরা প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পারলে পাকিস্তান ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’ এই সিরিজেই অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের অবসর নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু বোর্ড (পিসিবি) প্রধান শাহরিয়ার খান, কোচ ওয়াকার ইউনুসের অনুরোধে আর দুটি সিরিজ খেলবেন তিনি। কিন্তু মালিককে অনুরোধ জানানো হয়নি। বরং শাহরিয়ার বলেন, ‘মালিকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আশা করি সে এখন ওয়ানডে-টি২০তে আরও ভাল করতে পারবে।’ ওয়াকারের কণ্ঠেও একই সুর। কোচ বলেন, ‘ও দারুণভাবে ফিরে এসেছিল। বয়স কম, চাইলে বেশ কিছুদিন টেস্ট খেলতে পারত। কিন্তু সিদ্ধান্তটা তার ব্যক্তিগত। আমাদের লক্ষ্য ২০১৯ বিশ্বকাপ। আশা করি বিশ্বকাপের জন্য মালিক এখন ভালভাবে প্রস্তুত হবে।’

ওয়ানডে-টি২০তে ধারাবাহিক ভাল খেলার পুরস্কারস্বরূপ ইংল্যান্ড সিরিজে মালিক পাঁচ বছর পর টেস্টে ডাক পান। সাদা পোশাকে সর্বশেষ ২০১০ সালের আগস্টে ইংলিশদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মালিক। তার আগে দুই বছরের বিরতিতে এ বছরের মে মাসে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মালিক সেই থেকে এ পর্যন্ত ১১ ওয়ানডেতে ৫০০র ওপরে রান করেছেন। এক সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে তিন হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস। শরাজা টেস্ট চলাকালে আচমকাই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার। শারজায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে চলমান সিরিজের তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর মঙ্গলবার অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান সাবেক পাকি অধিনায়ক। তবে ওয়ানডে ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শোয়েব।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেই চমক দেখান শোয়েব মালিক। আবুধাবী টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ার সেরা ২৪৫ রান করেন। সেইসঙ্গে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের নজির গড়েন। প্রত্যাবর্তনের এই চমকের মতো চমক দেখিয়েই পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে ‘বিদায়’ বলে দিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ফেরার পর থেকে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স প্রদর্শন করে চলেছিলেন তারকা এই অলরাউন্ডার। কিন্তু চলমান টেস্টের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩৮ ও ০ রান করার পর অবসর নিলেন শোয়েব। পারফর্মেন্সের উর্ধমুখীতে ধরে রেখেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিলেন তিনি। ইংলিশদের বিরুদ্ধে তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে শোয়েব মালিক জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শারজাহতে চলমান টেস্টই তার ক্যারিয়ারের শেষ। পরিবারকে সময় দিতে এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে মনোযোগ দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শারজায় তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে শোয়েব সবাইকে অবাক করে দিয়ে অবসরের ঘোষণা দেন। এজন্য এটাই সঠিক সময় বলে জানান তিনি। ফলে পাঁচ বছর টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থাকার পর ফিরে এসে মাত্র তিন টেস্ট খেলার সুযোগ পেলেন সাবেক এই অধিনায়ক। অবসর প্রসঙ্গে শোয়েব মালিক বলেন, আমাদের কিছু উঠতি তারকা আছে। তাদের সুযোগ করে দেয়া উচিত। এখনই সরে যাওয়ার সময়। পরিবার সবার আগে। আমি ২০১৯ বিশ্বকাপে মনোযোগ দিতে চাই।

২০০১ সালে মূলতানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় শোয়েবের। ক্যারিয়ারে ৩৫ টেস্টে তিনি করেছেন ১৮৯৮ রান। আছে ৩টি শতক ও ৮টি অর্ধশতক। দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর মালিকের টেস্টে ফেরাটাও ছিল বেশ নাটকীয়। চলমান সিরিজের আগে ২০১০ সালের অগাস্টে শেষ টেস্ট খেলা মালিক গত অক্টোবরে আবুধাবিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের দলে চোট আক্রান্ত আজহার আলির পরিবর্তে জায়গা পান। ফিরেই তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে খেলেন ২৪৫ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস। সব ধরনের ক্রিকেটে এটাই তার সর্বোচ্চ ইনিংস। এই তৃপ্তি নিয়েই পাঁচ দিনের ক্রিকেটের মোহ ত্যাগ করলেন শোয়েব।