১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রিটিশ টিমের শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছে ব্রিটিশ এভিয়েশন সিকিউরিটি টিম। মঙ্গলবার দুপুরে দুই সদস্যের ওই টিম বিমানবন্দরের টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় কার্গো হাউসে ডগ স্কোয়াড নিয়েও তারা নিরাপত্তা পদ্ধতি কতটা মজবুত সেটা পরীক্ষা করেন। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই ব্রিটিশ টিম এই পরিদর্শন করেন বলে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরেরর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এখানে এসে স্বচক্ষে দেখে গেছেন। কেননা এখনকার নিরাপত্তার ব্যবস্থার সঙ্গে তাদেরও নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত।

জানা যায়, ব্রিটিশ রিজিওনাল এভিয়েশন সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার ও ফার্স্ট সেক্রেটারি জন লভসি ও ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) স্টিভ ডুডস ও সিভিল এভিয়েশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আগে থেকেই বিমান মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই ওই টিম সেখানে পরিদর্শনে যায়। প্রথমে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে গিয়ে কিভাবে সেখানে যাত্রী প্রবেশ করেন, কিভাবে তাদের লাগেজ স্ক্যান করা হয়, চেক ইন কাউন্টারের যাত্রীদের লাগেজ ছাড়ার আগে কিভাবে ট্যাগ লাগানো হয়, কিভাবে সেগুলো গ্রাউন্ড কর্মীরা ফ্লাইটে নিয়ে যায়- এ সবই স্বচক্ষে দেখেন তারা। এ সময় জন লভসি দেখা করেন শাহজালালের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কেএম জাকির হাসানের সঙ্গে। তিনি কথা বলেন কর্তব্যরত কয়ে কর্মকর্তার সঙ্গেও। এ সব পয়েন্টে যাত্রীদের শরীর কিভাবে চেক করা হয় সেটাও জানতে চান। লাগেজের ভেতর কোন্ ধরনের মালামাল ধরা পড়ে বা পড়ে না সেটাও খতিয়ে দেখেন। এমনকি স্ক্যানার মেশিন কতটা অত্যাধুনিক, এটা ফাঁকি দিয়ে গোলাবারুদ বা বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ পাচার করা সম্ভব কিনা সেটাও জানতে চান।

ওই টিম টার্মিনালের ভিআইপি গেট দিয়ে পরে ৮নং হ্যাঙ্গার গেটে যায়। এখানে কিভাবে কর্মকর্তা-কর্মাচারীদের চেক করা হয়, যানবাহন পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা নির্ভরযোগ্য এসব পর্যবেক্ষণ করেন। এখান থেকে সরাসরি কার্গো ভিলেজে গিয়ে হাজির। কার্গোর পরিবেশ আগের চেয়ে সুশৃঙ্খল বলে মনে হয়েছে তাঁর কাছে। সেখানে র‌্যাব পরিচালিত একটি ডগ স্কোয়াডও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। জন লভসি নিজে ডগ স্কোয়াডের অনুসন্ধান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি জানতে চান ডগ স্কোয়াড এ পর্যন্ত কী ধরনের কাজ করেছে, বড় ধরনের কোন সফলতা আছে কিনা। ডগ স্কোয়াড ছাড়াও কার্গো ভিলেজে কার্গো মালামাল কিভাবে প্রবেশ করানো হয়, কিভাবে স্ক্যানিং করা হয় সেটা বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। তিনি নিজের স্ক্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকটি কার্টনের স্ক্যানিং পদ্ধতি দেখেন। এতে তার কাছে মনে হয়েছে- স্ক্যানিং মেশিনের অত্যাধুনিকতার চেয়েও যিনি অপারেটর তার দক্ষতা বেশি প্রয়োজন। অপারেটর যত বেশি দক্ষ হবেন- তার চোখ এড়িয়ে

যাওয়াও ততটাই কঠিন হবে।

জানা যায়, পরিদর্শনের সময় তিনি সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য করেননি। এ পরিদর্শনের সময় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তার মূল্যায়ন পরে মেইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

এ দিকে কী কারণে হঠাৎ শাহজালালে ব্রিটিশ নিরাপত্তা টিম হাজির হয়েছে এ নিয়েও কৌতূহল দেখা দেয় দেশীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাঝে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জনকণ্ঠকে বলেন, ওই টিম পূর্বানুমতি নিয়েই মঙ্গলবার বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যদি কোন ত্রুটি থাকে বা কারোর কোন গাফিলতি থাকে সেটা তো তাদের দেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কেননা ঢাকা থেকে সপ্তাহে বিমানের চারটি ফ্লাইট সরাসরি লন্ডন যায়।

তবে সিভিল এভিয়েশনের এক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, এটা ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্টের রুটিন ভিজিট। বিশেষ করে গত সপ্তাহে মিসরে একটি রাশিয়ান উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর মূলত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের এভিয়েশন সিকিউরিটি সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্যই এ পর্যবেক্ষণ। এটা তাদের রুটিন ভিজিট।