২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমরা জেতার জন্যই খেলি ॥ মুস্তাফিজ

  • লক্ষ্য আজ জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ

মোঃ মামুন রশীদ ॥ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। প্রথম লক্ষ্য এটাই ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। এবার শেষ ম্যাচ জিতে আরেকবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার চিন্তা করছে টাইগাররা। এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ দলের তরুণ উদীয়মান পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থেকে দলে ঢোকার পর থেকেই আর হারেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা তিন সিরিজ জিতল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। বিষয়টা দারুণ সন্তুষ্টির বলে মনে করেন মুস্তাফিজ। সব সিরিজেই বল হাতে নিজেকে দারুণ মেলে ধরেছেন। নাম পেয়ে গেছেন ‘কাটার’ মাস্টার। তবে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ছিলেন উইকেটশূন্য। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই তিন উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলিং পারফর্মার মুস্তাফিজ। তিনি জানালেন ভাল বোলিং করলেও সবসময় উইকেট শিকার করা কঠিন। মঙ্গলবার দলের আনঅফিসিয়াল অনুশীলনের আগে দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এসব কথা বলেন মুস্তাফিজ। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। আগের দুই ম্যাচেই সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। মঙ্গলবার অনুশীলন করেছেন মাত্র ৭ ক্রিকেটার। ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, এনামুল হক বিজয়, জুবায়ের হোসেন লিখন, মুস্তাফিজ, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মুশফিকুর রহীম অনির্ধারিত অনুশীলনে আসেন দুপুরের পর। এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করা। এ বিষয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘সব উপর আল্লাহর ইচ্ছা। আমাদের চেষ্টা আছে, দেখি। আশা আছে।’ এ নিয়ে টানা ৫ ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। গত বছর নবেম্বরে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু। এরপর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিদেরও পরাভূত করেছে বাংলাদেশ দল। বছরটাও শেষ হচ্ছে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে। দারুণ এক সফল বছর গেল টাইগারদের। এমনটাই লক্ষ্য ছিল মাশরাফিদের শুরু থেকেই। বাড়তি কোন কিছু চিন্তা করেনি দলের কেউ। এমনটাই বললেন মুস্তাফিজ, ‘ও রকম কিছু নাই, শুরুটা ভাল দিয়েছে। তিনটা জিততে পারি, শেষটাও যেন ভাল হয়। সে চেষ্টা করব। আমরা সবসময় জিততে চাই।’

এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি২০ ম্যাচ দিয়ে অভিষেক ঘটেছিল মুস্তাফিজের। এরপর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটেও অভিষেক ঘটে তার। অভিষেক ঘটা সেই সিরিজেই চমক উপহার দেন। ব্যতিক্রমী ধরনের বোলিং উপহার দিয়ে বিশ্বের ক্রিকেট বিশ্লেষকদের গবেষণার কারণ হয়ে যান মুস্তাফিজ। দারুণ এক সিরিজ শেষ করেন ভারতের বিপক্ষে। সেটা অব্যাহত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের সিরিজেও। ওই দুই সিরিজই জিতেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘ভাল লাগারই কথা। তিনটা সিরিজে ছিলাম। আমিও খুশি, আমার সতীর্থরাও খুশি।’ একটা সময় ছিল, বাঁহাতি স্পিনারদের ওপর নির্ভরশীল ছিল দল। কিন্তু এখন পেসাররাও নিয়মিত ভাল নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন। এ বিষয়টাও বেশ উপভোগ করছেন মুস্তাফিজ। তবে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণ বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাননি। দ্বিতীয় ম্যাচেও উইকেট পেতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩৩ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ব্যাটসম্যানরা অবশ্য বেশ সতর্কভাবেই তাকে মোকাবেলা করছেন। তবে কি প্রতিপক্ষরা মুস্তাফিজের ভয়ঙ্কর ‘কাটার’ মোকাবেলার উপায় বুঝে ফেলেছেন? এ বিষয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘পেসাররাও সফল হচ্ছেন সেটা ভাল লাগারই কথা। সবসময়ই ইচ্ছা থাকে ভাল করার। একটা খেলোয়াড় সবদিন উইকেট পাবে না। সবসময় উইকেট পাওয়া কঠিন। ব্যাটসম্যানরা না দিলে তো কিছু করার নাই। কাটারেও পাইছি, স্বাভাবিক ধরনের বল করেও পাওয়া গেছে। ক্রিকেট খেলতে যেহেতু আসছে (জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যানরা) সবাই ভাল।’ টানা ৫টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে অবশ্য নিজের কোন অনুভূতি ব্যক্ত করেননি মুস্তাফিজ।