১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়ের লক্ষ্যে কাল তাজিকদের মুখোমুখি বাংলাদেশ

  • বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ খেলতে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসী মামুনুলবাহিনী

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আগামী বৃহস্পতিবার কি ‘বৃহস্পতি তুঙ্গে’ থাকবে? নাকি ললাটে লেখা থাকবে শনির দশা? বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় তাজিকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ‘এ্যাওয়ে’ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ‘হোম’ ম্যাচে যেহেতু তাজিকদের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র আছে, সেহেতু তাদের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়াটা খুবই সম্ভব বলে আশাবাদী বাংলাদেশী ফুটবলপ্রেমীরা। তবে তাদের প্রত্যাশার এই চাপ মামুনুলদের জন্য নেতিবাচক হওয়ারও আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের বাকি আর তিন ম্যাচ। ইতোমধ্যে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরে যাওয়াতে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার হওয়ার আর কোন আশা নেই তাদের। তাই দেশ ছাড়ার আগে দলীয় অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম জানিয়ে যান এখন তাদের দৃষ্টি এএফসি এশিয়ান কাপে খেলা। অন্তত সেখানে পৌঁছতে পারলে দেশের ফুটবলের জন্যই মঙ্গলজনক। ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি এশিয়ান কাপের আসর। এ আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ২৪ দেশ। যা আগের চেয়ে আটটি বেশি। তাই আশায় বুক বেঁধেছেন মামুনুলরাও। পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি করতে পারলে সুযোগটা থাকছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকতে পারলে এশিয়ান কাপের দৌড়ে টিকে থাকতে পারবে লাল-সবুজরা। তবে চতুর্থ স্থানটা নিশ্চিত করতে পারলেও সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে। এ লক্ষ্যপূরণে দুসাম্বেতে পৌঁছে কঠোর অনুশীলন করছেন নিজেদের ঝাঁলিয়ে নিচ্ছেন লোপেজ শিষ্যরা। সোমবার দুপুরে মূল স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী টার্ফে অনুশীলন করেন তারা। দুই ঘণ্টার হার্ড ট্রেনিং এবং ম্যাচ প্র্যাকটিসও করেন ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আবহাওয়া ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। মঙ্গলবার সকালে ছিল বিশ্রাম। তবে বিকেলে অনুশীলন হয়েছে। বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দলের সব খেলোয়াড় সুস্থ আছেন। ঠা-া পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু আগেভাগেই তাজিকিস্তান যাওয়াতে কিছুটা সুবিধা হয়েছে মামুনুল-রায়হানদের। তারা এই তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দলের তরুণ ডিফেন্ডার রায়হান জানান, ‘আমরা এখানে এসে ভাল অনুশীলন করছি। এখানের আবহাওয়া আর মাঠের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি। আশা করছি তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ভাল কিছুই করে দেখাতে পারব।’ এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস বলেন, ‘এখানে এসে শুরুর দিকে অনেকেরই খাওয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তবে আমার এতে অভ্যাস আছে। ভাত পাওয়া যায়। এছাড়া খেতে হয় পাস্তা। স্টেডিয়ামের পাশেই একটি টার্ফে আমরা অনুশীলন করছি। এখানে আসার আগে বাফুফ আর্টিফিসিয়াল টার্ফে কদিন অনুশীলন করে আসাতে এখানকার টার্ফের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোন অসুবিধে হয়নি।’ লেফট উইঙ্গার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এখানে এসে মঙ্গলবার এই প্রথম বৃষ্টি (হাল্কা) পেলাম। দিনে এখানে তাপমাত্রা থাকে ১০/১২ ডিগ্রী। কিন্তু রাতে হয়ে যায় ৪/৫ ডিগ্রী! বুঝতেই পারছেন ভয়ানক শীত। প্রথম দু’দিন তো সবার নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছিল। অনুশীলন শেষেই সবাই কাশতে কাশতে অস্থির হয়ে পড়ত। অক্টোবরে কিরগিজস্তানে গিয়েছিলাম। ওখানকার চেয়েও কি এখানকার ঠা-া অনেকগুণ।’ অথচ আবহাওয়া-কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেই ফয়সালরা ক’দিন আগেই দুসাম্বেতে এসেছেন। তারপর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি তারা! ‘তবে সোমবার পর্যন্ত সমস্যা হলেও মঙ্গলবার থেকে আমরা আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিতে পেরেছি।’ ফয়সালের আত্মপক্ষ সমর্থন। দুসাম্বেতে কি ধরনের খাবার খাচ্ছেন তারা? ‘ফ্রেশ জুস, আপেল, কমলা, চেরি, আনারস, সামন ফিশ, চিকেন, ল্যাম্ব, ভাত আর পাস্তা। প্রথমদিকে খাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে জীবনের। সে তো কিছুই খেতে পারত না। তবে এখন ঠিক হয়ে গেছে। ম্যানেজার বাবু ভাই আর কোচ লোপেজ তো আমাদের জোর করে খাওয়ায়!’ দুশানবে পৌঁছে হোটলে হায়াত রিজেন্সিতে উঠেছে ‘বেঙ্গর টাইগার্স’রা। পাশেই আছে একটি পার্ক। সেখানে রিফ্রেশমেন্টের জন্য একবার ঘুরে এসেছে পুরো দল।