২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুষ্ক মৌসুমের আগেই পদ্মা ‘মরা খাল’

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীকে এক সময় বলা হলো প্রমত্তা। এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হতেন মানুষ। চেয়ে দেখতেন পদ্মার অপার সৌন্দর্য। এক থেকে দেড় যুগ আগেও বহমান ছিল পদ্মা। তবে কালের পরিক্রমায় পদ্মার রূপ যৌবন এখন শুধুই স্মৃতি। যৌবন হারিয়ে পদ্মা এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই রূপ হারাচ্ছে পদ্মা। এবারও শুষ্ক মৌসুম শুরুর আগেই শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে পদ্মা নদী। এখন বর্ষাতেও ডুবে না চর।

এখনও নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। কমে গেছে নদীর নাব্য। বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। হালে পদ্মা নদীর এই চিত্র রাজশাহী সদর ছাড়াও পূর্বে গোদাগাড়ী আর পশ্চিমে চারঘাট বাধা পর্যন্ত। স্থানীয়রা জানান, গোদাগাড়ী থেকে শুরু করে রাজশাহী হয়ে বাঘা পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মা নদী। এর মধ্যে শুধু গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পদ্মা নদীর অংশ রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ভাটোপাড়া, প্রেমতলী ও খরচাকার সামনে বিশাল চর জেগে উঠায় তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে পদ্মা নদী। গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ৫ কিলোমিটার নদীর পানি ভারতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর প্রেমতুলী এলাকায় হাঁটু পানি দিয়ে গরুর গাড়ি নদী পারাপার করছে। নগরীর বুলনপুর ও চারঘাট বাঘায়ও অবস্থা একই।

গোদাগাড়ীর স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান বলেন, বর্ষায় পদ্মার পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের আগেই চর এলাকায় নলকূপেও কমে যায় পানি। উপজেলার মানিক চক গ্রামের শতবর্ষী আমজাদ আলী বলেন, একসময় পদ্মা নদীর জোয়ারের শব্দ তিন কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যেত। নদীতে এত বেশি পানি থাকত যে মানুষ নদী পারাপারে ভয় পেত। গোদাগাড়ী থেকে রাজশাহী সরাসরি নৌকা ও জাহাজ (লঞ্চ) চলাচল করত। ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর থেকেও মালবোঝাই জাহাজ গোদাগাড়ীর রেলবাজার বন্দরে আসত। ১৯৪৭ সালে বন্দরটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া চাঁপাইবাবগঞ্জ থেকেও মালবোঝাই নৌকা নদী দিয়ে রাজশাহী যেত। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে নদী পথে রাজশাহীর সঙ্গে গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। আমজাদ আলী আরও বলেন, বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। গোদাগাড়ী এলাকায় নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করায় চর এলাকায় নদীর তীর বেশি ভাঙছে। নদীতে একাধিক চর জেগে ওঠায় এবং নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচলে বিঘœ ঘটছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে পদ্মা নদীতে নাব্য সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় চর জেগে উঠছে এবং নদী ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর নদীতে পানি কম থাকায় বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচের পানির সঙ্কট হচ্ছে। খরা মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সেচের জন্য বসানো নলকূপগুলোতে কম পানি ওঠে। আর বিশুদ্ধ পানির জন্য বসানো অধিকাংশ নলকূপে একেবারেই পানি ওঠে না। জলবায়ুর এই প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর দুই পাড়ে বাঁধ নির্মাণ করে ব্যাপক বনায়ন দরকার।