২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভূরিভোজের প্রতিযোগিতা

  • বগুড়ায় পৌর নির্বাচন

সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস ॥ পৌর নির্বাচন নিয়ে এই সময়টায় নানা জল্পনা। বগুড়ার ১২টি পৌর এলাকার মধ্যে তিনটিতে মেয়াদ পূরণ না হওয়ায় নির্বাচন হচ্ছে না। বাকি ৯টিতে নির্বাচনের বাদ্য বেজে উঠেছে। তবে বগুড়া পৌরসভায় এই মুহূর্তে এ জল্পনায় কয়েক দিনের ছন্দপতন হয়ে আছে। বগুড়া পৌরবাসীর আকাক্সক্ষা বৃহস্পতিবার ১২ নবেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া সফরকালে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভায় বগুড়া পৌরসভাকে যদি সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা দেন তাহলে সিটি নির্বাচন পরে হতে পারে। কাক্সিক্ষত ঘোষণা যদি এসেই যায় তাহলে প্রার্থীদের মাত্রা একধাপ বেড়ে যাবে। তখন কে হবেন প্রথম সিটি মেয়র এই দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েও যেতে পারে।

সিটি কর্পোরেশন হোক বা না হোক আপাতত পৌর মেয়র কে হতে যাচ্ছেন এ নিয়ে সাধারণের কৌতূহলের অন্ত নেই। বগুড়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র এ কে এম মাহবুবুর রহমান বিএনপির নেতা। গত নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন না হওয়ায় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিতি ছিল। এবার সরাসরি দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়ায় বিএনপি থেকে প্রার্থী কে হবেন এ নিয়ে নানা গুঞ্জন। বিএনপি সূত্র আভাস দিয়েছে তারা পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে। কয়েক নেতা বললেন এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা অপেক্ষায় আছেন হাইকমান্ডের নির্দেশের। তবে তারা আশা করে আছেন অংশ নিতে পারবেন। এবার তারা ভুল করতে রাজি নয়। নির্বাচনে অংশ না নিলে যে তারা সমর্থক হারিয়ে ফেলবেন এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

এদিকে বিএনপির কথিত ঘাঁটি হিসেবে যে গর্ব ছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের অনেকে এখন আর বিএনপির প্রতি অন্ধ সমর্থক নয়। তারা বুঝতে শিখেছে। যারা কট্টোর বিএনপি ছিল তা কার্যত নীরব রয়েছেন। এমন কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে আলাপ করলে সরাসরি বলেন, পৌর নির্বাচনই হোক আর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হলে সিটি নির্বাচনই হোক প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন। তারা এখন বিএনপি আওয়ামী লীগ বুঝতে চান না।

কে হতে যাচ্ছেন বগুড়া পৌর মেয়র! এমন সরব আলোচনায় প্রথম নামটি উঠে আসছে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের। যদিও তিনি নিজে কিছুই বলছেন না। কথা বলছেন তার কাছের মানুষ ও সঙ্গীরা। বাজারে হাটে গুঞ্জন সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা হলেও মমতাজ উদ্দিন প্রশাসক বা প্রধান নির্বাহী হিসেবে চেয়ারে বসার চেষ্টা করবেন আবার পৌর নির্বাচন হলেও মেয়র পদে অংশগ্রহণ করতে পারেন। মাস ছয়েক আগে মমতাজ উদ্দিন হঠাৎ বগুড়া শহরে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় মোটরসাইকেল মোটর গাড়ি নিয়ে শো ডাউন দিলেন। হুড খোলা প্রাডো গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে প্রায় ৬৯ বর্গকিলোমিটারের পৌর এলাকা ঘুরে প্রচার করলেন তিনি বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ ৮ দফা দাবি করছেন। তখন থেকেই তিনি ইচ্ছার বারতা দিয়েছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া না হওয়া পরের বিষয় তবে তিনি সিটি কর্পোরেশন চান। সিটি বা পৌর মেয়রের আওয়ামী লীগের আরেক হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু। পৌর চেয়ারম্যান পদটি মেয়র পদে উন্নীত হওয়ার আগে তিনি পৌরসভার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালীন পৌরবাসীর প্রতি তার অমায়িক আচরণ এবং উন্নয়ন আজও সকলেই মনে রেখেছে। বিএনপি শাসনামলে তিনি খুবই সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। জনশ্রুতি আছে ভোট রিগিংয়ের। পৌর ভোটের প্রার্থীর আলোচনায় মন্টু অনেকটা এগিয়ে আছেন। আবার দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা সংশয়ও আছে। এছাড়াও বাম দলের নেতা মাসুদার রহমান হেলাল, আব্দুর রাজ্জাকের ইচ্ছা আছে অংশ নেয়ার।

এদিকে বিএনপি কথায় কথায় ভোট করবে না বলে ঠিকই পৌর নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও দীর্ঘ। প্রথমেই বর্তমান মেয়র মাহবুবুর রহমানের নাম শোনা যায়। তারপর জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, জেলা যুবদলের সভাপতি সিফার আল বখতিয়ার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমু, বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান বকুল, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সভাপতি আলী আজগর হেনা। তবে আলী আজগর হেনা জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণের পৌর মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্লেখ্য, পৌরসভার আয়তন উপজেলা থেকে অনেক কম। সেই দিক থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়ার উল্লেখযোগ্য বড় পৌরসভাগুলোর মধ্যে রয়েছে শেরপুর সারিয়াকান্দি ধুনট কাহালু গাবতলি। এসব পৌরসভায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীগণ আগাম প্রচার কজে নেমেছেন। কাহালু পৌরসভার বর্তমান মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত হেলাল উদ্দিন কবিরাজ দিনা কয়েক আগে ৬/৭টি গরু জবাই দিয়ে কয়েক হাজার মানুষকে ভূরিভোজ করিয়েছেন। তার দেখাদেখি ভোটার খাওয়ানোর আয়োজন শুরু হয়েছে। এই পৌরসভায় দুই দলের তিনজন মান্নান (তারা কেউ ভাটা মান্নান কেউ টুপি মান্নান কেউ খাদ্য মান্নান নামে পরিচিত) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। একই পরিবারে একই দলের দুই ভাইও প্রার্থী হওয়ার আশায় আছেন। ভোটাররা আছে মহা আনন্দে। কোনদিকেই লোকসান নেই। কেউ ৬ গরু কেউ ২ গরু কেউ ৮ ছাগল জবাই দিয়ে খাওয়াবে। ভোজনের আনন্দের সঙ্গে প্রাপ্তি যোগের আরও কি আছে এই ভাবনাতেও দিনগুজরান করছে অনেক ভোটার। প্রায় একই চিত্র অন্যান্য পৌর এলাকতেও।

নির্বাচিত সংবাদ