২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুরবস্থা দূর হোক

এম এ সবুর

শহরের কোলাহল পেরিয়ে পল্লী-সবুজের বুক চিরে দ্রুত গতির ট্রেনভ্রমণ স্বভাবতই ভাল লাগে। এছাড়া গভীর রাতের আঁধার ভেদ করে কিংবা জোছনাস্নাত পূর্ণিমা রাতে অথবা ঝুমবৃষ্টিতে ট্র্রেনভ্রমণ হৃদয়ে শিহরণ জাগায়। সড়কপথের বেহালদশা এবং অহরহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতেই আমাদের দেশের অনেকে ট্রেনে যাতায়াত করে। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় ট্রেনের আসন সংখ্যা কম থাকে। এজন্য অনেক যাত্রী দাঁড়িয়েই যাতায়াত করে। ক্রমাগতভাবে দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও তুলনামূলক বাড়েনি ট্রেনের সংখ্যা। আজও বাস্তবায়িত হয়নি রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা। ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও বাড়েনি যাত্রীসেবা। টিকেট চেকিং ছাড়া ট্রেনের যাত্রীসেবায় নিযুক্ত (!) এ্যাটেন্ডেন্টদের সাধারণত দেখা যায় না। এর মূলে আছে টিকেট চেকারদের সঙ্গে এ্যাটেন্ডেন্টদের অবৈধ যাত্রীব্যবসা! ট্রেনের গার্ড, স্টেশন মাস্টার, রেল পুলিশসহ কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীই এ ব্যবসায় বাদ পড়ে না। এ কারণে ট্রেনের যাত্রী বাড়লেও আয় বাড়ে না। আর অব্যবস্থার কারণে সারাদেশে রেলওয়ের বিশাল সম্পদ-সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহার হয় না। অথচ দেশের বেশিরভাগ রেলপথে ডুয়েল লাইন না থাকায় ক্রসিংয়ের জন্য অনেক সময় অপচয় হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অধিকন্তু রেলওয়ে ও ট্র্রেনের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি-অদক্ষতার কারণে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। সর্র্বোপরি টিকেটের কালোবাজারি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অপরিচ্ছন্ন আসন, দুর্গন্ধময় টয়লেট, অপর্যাপ্ত আসন, ক্রসিংয়ের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা আরামদায়ক ট্রেন ভ্রমণকে অস্বস্তিকর করে। এমতাবস্থায় জনমনের জিজ্ঞাসা- ট্রেনের দুরবস্থা দূর হবে কবে?

কড্ডার মোড়, সিরাজগঞ্জ থেকে