২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনলাইনের নিবন্ধন

চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে দেশের সব অনলাইন গণমাধ্যমকে নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো অনলাইন পত্রিকার প্রকাশকদের পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ। এ লক্ষ্যে নির্ধারিত নিবন্ধন ফরম এবং একটি প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা পূরণ করে জমা দিতে হবে তথ্য অধিদফতরে। সরকারী ঘোষণায় অবশ্য বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের নতুন করে নিবন্ধনের বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পত্রিকাগুলোকেও অনলাইন সংস্করণের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। বর্তমানে ১৩৮টি অনলাইন পত্রিকাকে এ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেয়া হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মুদ্রিত পত্রপত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন পত্রিকার গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই। মানুষ এখন প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে দেশে ও বহির্বিশ্বে কি ঘটছে তা জানার জন্য আগ্রহী। দৈনন্দিন ব্যক্তিগত জীবনে অনেকের মুদ্রিত খবরের কাগজ পড়ার সময় ও সুযোগ ঘটে না। টেলিভিশন দেখারও সময় হয় না বললেই চলে। সেক্ষেত্রে অনলাইনই ভরসা। ল্যাপটপ অথবা সেলফোনে বোতাম চেপে চোখ মেললেই মেলে রাজ্যের খবরাখবর। ফলে অনলাইন পত্রিকা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রাতারাতি। কাগজ-কলমে মাত্র ১৩৮টি অনলাইন পত্রিকাকে সরকারী নিবন্ধন কার্ড দেয়া হয়েছে বলা হলেও বাস্তবে দেশে অনলাইন পত্রিকার সংখ্যা অগণিত। শুধু রাজধানী ঢাকা শহরেই নয়, এমনকি জেলা শহরগুলো থেকেও অনলাইন পত্রিকা প্রকাশের খবর মেলে, যেগুলোর অধিকাংশই অনিবন্ধিত। কোন অফিস বা স্টাফের বালাই নেই। পেশাদার সম্পাদক/সাংবাদিক তো দূরের কথা! অনেকে এমনকি নিজ গৃহের ছোট অপরিসর একটি কক্ষে বসে জরাজীর্ণ একটি কম্পিউটারকে সম্বল করেই অনলাইন পত্রিকার প্রকাশক/সম্পদক বনে যান। মোটামুটি হাজার দশেক টাকার মধ্যেই একটি ডোমেইন ও হোস্টিং হলেই হলো। অনলাইন পত্রিকার মালমসলাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাটিং/পেস্টিং। তথ্যসূত্রের আদৌ বালাই নেই, প্রামাণ্য তো দূরের কথা। বানিয়ে বানিয়ে নিউজ লেখা, ব্যক্তিকে হেয় করা, হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্র্থ করা, ব্যক্তিবিশেষকে ব্ল্যাকমেলিং, অশালীন মন্তব্য, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে সমানে। বলাবাহুল্য, এসব শুধু রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিম-লই দূষিত করছে না, সময়ে সময়ে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতিও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। উদাহরণত সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক সীমান্ত অতিক্রম করে জঙ্গী গ্রেফতার, চাঁদে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আসামি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছবি, পবিত্র মক্কা শরীফের ছবি বিকৃত করে প্রকাশ ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়। এসব অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার স্বার্থে অনলাইন পত্রিকার বাধ্যতামূলক নিবন্ধন জরুরী ও অপরিহার্য।

সব রকম গণমাধ্যমের স্বাধীনতা স্বীকার করেও বলতেই হয় যে, এটি কখনোই অবাধ, সীমাহীন ও যথেচ্ছ হতে পারে না। গণমাধ্যমকে অবশ্যই হতে হবে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ, ধর্মনিরপেক্ষ, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। পাশাপাশি দরকার উপযুক্ত দক্ষতা ও পেশাদারী মনোভাব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে গণমাধ্যমকেও। সর্বোপরি, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর জন্য একত্রে বসে একটি সুষ্ঠু ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা আবশ্যক।

নির্বাচিত সংবাদ