২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গণতন্ত্রের পথে

ইতিহাসের চাকা ঘুরে গেছে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক জান্তা শাসিত দেশ মিয়ানমারে। পরিবর্তনের ধারায় সূচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়ের। নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী দেশটি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের। একচেটিয়া জান্তাশাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে মুক্তি পাওয়া আউং সান সুচির দল। সব সংশয় ও আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে প্রতীক্ষার এই নির্বাচনে সুচি জয়ী হলেও ক্ষমতার সমীকরণটি নির্ভর করছে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার কী ধরনের সমঝোতা হয় তার ওপর। জানুয়ারিতে নতুন পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে। সে পর্যন্ত বর্তমান সামরিক জান্তা সরকারই ক্ষমতায় থাকছে। সুচির দল ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় অর্ধশতকের সামরিক শাসনের অবসান ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তরণ ঘটবে দীর্ঘদিন নিগৃহীত গণতন্ত্রের। ১৯৬০ সালের পর দেশটিতে এই প্রথম কোন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বসবে। দেশটির গণতন্ত্রায়নের পথে যে তিনটি চ্যালেঞ্জ ছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তার দুটিতে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারও ফলাফল মেনে নিয়েছে। এখন অপেক্ষা বিজয়ী দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনা রয়েছে। কারণ দেশটির রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীসহ কয়েকটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। এনএলডি অথবা ইউএসডিপি থেকে কোন মুসলিমকে প্রার্থী করা হয়নি। আবার সুচিকে প্রেসিডেন্ট পদের বাইরে রাখা হয়েছে। সামরিক জান্তা প্রবর্তিত বর্তমান সংবিধানে বলা হয়েছে, কোন বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করলে অথবা কোন প্রার্থীর গর্ভে বিদেশী সন্তান জন্ম হলে তিনি প্রেসিডেন্ট অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে সুচির অবস্থা কী হবে, ক’দিন পরই তা স্পষ্ট হবে।

সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন তিনজন। নিম্নকক্ষের একজন, উচ্চকক্ষের একজন এবং সেনাবাহিনীর মনোনীত একজন প্রতিনিধির মধ্য থেকে পার্লামেন্ট একজনকে প্রেসিডেন্ট এবং বাকি দুজনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করবে। সুচি অবশ্য বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তার অবস্থান প্রেসিডেন্টের ওপরে থাকবে। একই সঙ্গে সমঝোতার সরকার গঠন করার কথাও বলেছেন তিনি। অবশ্য এটা ঠিক যে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা বা আপোসরফা হয় তার ওপরই সূচির ও তার দলের ভাগ্য নির্ভর করছে।

সুচির বিজয়ে আনন্দ প্রকাশকালে বাংলাদেশবাসীর মনে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ। তাদের নাগরিকত্ব ও অধিকারের প্রশ্নটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত বাংলাদেশের জন্য। কেবল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যের কারণে নয়, মানবিক কারণেও নয়, বরং বিশেষভাবে এই কারণে যে, রোহিঙ্গা স্রোত সামাল দেয়া অসম্ভব। এটাও ঠিক সুচি রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে নিদারুণ নির্লিপ্ত থেকেছেন। অবশ্য বলা যেতে পারে, নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সুচি সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর আস্থা হারানোর ঝুঁকি নিতে চাননি। আমাদের আশা, সুচির দল রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে এবং উভয় দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সহায়ক হবে।

নির্বাচিত সংবাদ