১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে আরেকটি সরকারী হাসপাতাল চালু হচ্ছে উত্তরায়

  • স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীতে আরেকটি সরকারী হাসপাতাল চালু হতে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই চালু হবে বহির্বিভাগ। নগরীর উত্তরার ৬নং সেক্টরে ঈশা খাঁ রোডে এ হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার জায়গাটি (পুরনো হাসপাতাল) ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষে রায় দেয় উচ্চ আদালত। রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে হাসপাতালটি বুঝে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লিজ নিয়ে ব্যক্তিমালিকানার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল ‘আমেরিকান সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল’। কিন্তু শর্ত ভঙ্গের কারণে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিজ বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট মামলাজনিত জটিলতার কারণে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, যা আবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।

হাসপাতাল চালু হওয়ার সংবাদে উত্তরাবাসী আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নূরুল হক ও পরিচালক (হাসপাতাল) ডাঃ সামিউল ইসলাম সাদিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন হাসপাতালটির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকল্পে একের পর এক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে বর্তমান সরকার। এ নতুন হাসপাতালটি পুরোদমে চালু হলে নামমাত্র খরচে উন্নত চিকিৎসা পাবে সাধারণ মানুষ। আশপাশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও কমে আসবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জায়গাটি ব্যবহারে আইনী জটিলতা কেটে গেছে। দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ের পর জায়গাটি ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। প্রশাসনের কাছ থেকে জায়গাটি বুঝে নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারই প্রেক্ষিতে হাসপাতালটি পরিদর্শনে এসেছি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটির অর্থায়নে রাজধানীর উত্তরায় তিন একর জমির ওপর বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০০১ সালের ১০ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। ওই বছর অক্টোবরে সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর ২০০২ সালে আর্থিক সঙ্কটের কথা জানিয়ে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি হাসপাতালটি থেকে তাদের সহায়তা তুলে নেয়।

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ॥ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ২০০৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতালে উন্নীত করার কথা থাকলেও কার্যত তা হয়নি। আমেরিকান হসপিটাল কনসোর্টিয়ামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।

হাসপাতালটির সার্বিক অবস্থা জানতে ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ডাঃ মতিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।