২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার মান উন্নয়নে মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

  • আইনের খসড়া তৈরি;###;গঠিত হবে শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞদের দাবির প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্য শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রেণীকক্ষের শিক্ষাদান প্রক্রিয়াকে উন্নত করার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। এজন্য একটি আইনের খসড়া তৈরি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আইনের খসড়া অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ/ ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণের ‘কন্ট্রাক্ট আওয়ার’ অর্থাৎ কর্মঘণ্টা হবে ১২০০ ঘণ্টা। কর্মকর্তারা বলছেন, এ আইনের আলোকে শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল গঠিত হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ উন্নত করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করাই এ কাউন্সিলের উদ্দেশ্য।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল আইন-২০১৫’ নামে এ আইনের খসড়ায় শিক্ষক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রের জন্য কার্যকর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার একটি পরিমিত মান অর্জনের জন্য এ উদ্যোগ। সারাদেশে যেন শিক্ষক ও শিক্ষার মান একই হয়। শিক্ষকদের মান অর্জন করাই এ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেছেন, আইনের খসড়া অনুযায়ী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ/ ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রশিক্ষণের ‘কন্ট্রাক্ট আওয়ার’ অর্থাৎ কর্মঘণ্টা হবে ১২০০ ঘণ্টা। শিক্ষকদের বিএড প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহারিক ক্লাস বেশি প্রয়োজন জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, এ কাউন্সিলের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজগুলোকে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা হবে। কর্মঘণ্টা ঠিক করা থাকলে সারাদেশে শিক্ষকদের মান একই হবে। জানা গেছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারী-বেসরকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। বর্তমানে সরকারী-বেসরকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য প্রশিক্ষণের সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করা নেই। খসড়া আইনের আলোকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য আপাতত কাজ করবে এ কাউন্সিল। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে আইনের একটি খসড়ার ওপর আলোচনা করে তা সংশ্লিষ্টদের দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ নবেম্বরের মধ্যে মতামত গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি কর্মশালার আয়োজন করে মতামত দেবেন সংশ্লিষ্টরা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে আলোচনায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, আইনটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় কাউন্সিল কর্মঘণ্টা চেক করতে পারবে। আইনে জাতীয় কাউন্সিলের জন্য জনবল ও অবকাঠামো বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। আইনের খসড়ায়, দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী শিক্ষক শিক্ষা/প্রশিক্ষণ কার্যক্রম/ কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য একই ধরনের জাতীয় প্রমিতমান নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক শিক্ষা/ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর কোয়ালিটি কন্ট্রোল মেকানিজম উদ্ভাবন এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত প্রমিতমানের নিরিখে শিক্ষক শিক্ষা/প্রশিক্ষণ কার্যক্রম/কোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম/কোর্স যথাযথভাবে পরিচালনা করছে কিনা- তা নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়। কাউন্সিল উদ্ভাবিত কোয়ালিটি কন্ট্রোল ফ্রেমওয়ার্কের অধীন বিধি-বিধান পালন/অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক শিক্ষা/প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক, কারিগরি ও প্রশাসনিক জনবলের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ করাও এ আইনের উদ্দেশ্য। সব শিক্ষক শিক্ষা/প্রশিক্ষণ কার্যক্রম/ কোর্স পরিচালনাকারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও নেটওয়ার্কিং-লিংকেজ স্থাপন করার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

প্রাথমিকের প্রত্যেক শিশুকেই উপবৃত্তি দেয়া হবে ॥ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিশুকেই উপবৃত্তি দেয়া হবে। একজনও বাদ যাবে না। বুধবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চাই’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, আগে ৭৮ লাখ শিশুকে উপবৃত্তি দেয়া হতো। ছয় মাস পর থেকে এক কোটি ৩০ লাখ শিশুকে উপবৃত্তি দেয়া হবে। এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, উপবৃত্তি দেয়া না হলেও বাচ্চারা স্কুলে যাবে। কারণ আমদের কামার-কুমার-জেলে-মুচি সবাই জানেন, শিশুকে যদি শিক্ষা দেয়া যায় তাহলে শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো পৃথিবী হাতছানি দিয়ে বসে আছে।

শিশুদের শিক্ষার সূচনার জন্য পরিবারকেই প্রথম শিক্ষালয়ের ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, প্রথম দিন থেকেই যদি শিশুদের সমাজের ভাল-মন্দ শিক্ষা না দেয়া হয়, তাহলে কোন শিক্ষক দিয়েই কাজ হবে না। এদেশে জনপ্রতিনিধিরা ভাল নয়, এমন প্রবাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভাল হবে কিভাবে- আপনি যদি ভোটের আগে হাত পেতে বসে থাকেন.... এরপর ভোট দেবেন। বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবীর। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ, গোলাম মোস্তফা ও মাহবুব আরা গিনি।

এদিকে, অনুষ্ঠানের পরপরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী রাজধানীর মাতুয়াইলে নতুন শিক্ষা বর্ষের প্রাথমিক শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের ছাপাখানা ব্রাইট প্রিন্টার্স ও আনন্দ প্রিন্টার্সের কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র পালসহ প্রেস মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী ছাপাখানা ঘুরে দেখেন এবং ছাপার মান, কাগজ, বই বাঁধাইকরণের বিষয়ে মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বইয়ের মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, ১ জানুয়ারি বই উৎসব উদ্যাপনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে। প্রেস মালিকেরা মন্ত্রীকে জানান, আগামী ২০ ডিসেম্ব^রের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার সকল প্রকারের বই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু বই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ১০ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৭টি পাঠ্যবই ছাপা হবে।