১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রী আজ বগুড়া যাচ্ছেন

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ প্রায় ১১ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ (বৃহস্পতিবার) বগুড়া আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর আগে ২০০৪ সালে তিনি এই মাঠেই আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেন। চার বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বগুড়ার বাইরে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর রাতে সার্কিট হাউসের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সাত বছর পর বগুড়ায় শেখ হাসিনার সফর কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইতোমধ্যে শহর সাজানো হয়েছে বর্ণাঢ্যভাবে। মাল্টিকালারের প্যানফ্লেক্স প্যানায় কেন্দ্রস্থল সাতমাথা বর্ণিল হয়েছে। বগুড়ার প্রবেশপথ থেকে শহর পর্যন্ত অন্তত ৫শ’টি তোরণ নির্মিত হয়েছে। এমন জাঁকজমক আয়োজন এর আগে কখনও হয়নি।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে সেনানিবাসে অবতরণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনীর ১২ ল্যান্সার ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদানের পর ভাষণ দেবেন। দুপুরে সড়কপথে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছবেন। বেলা সোয়া দু’টায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ডিজিটাল ইলেকট্রনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৭শ’ ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৫ টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন। এরপর জনসভায় ভাষণ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া আগমনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার জানালেন, জনসভায় যোগদানে সাধারণের যেন কোন অসুবিধার মুখে পড়তে না হয় সে জন্য সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সূত্রের খবর- অন্তত একশ’টি মাইক শহরের বিভিন্ পয়েন্টে স্থাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে বগুড়ার মানুষের মধ্যে অনেক কৌতূহল, প্রাপ্তির অনেক আশা।

সাধারণের চাওয়ার মধ্যে রয়েছে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া সিটি কর্পোরেশন, পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দর, রেল যোগাযোগে রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব কমাতে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন স্থাপন, আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম। প্রথম দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে জাতীয় সংসদে গৃহীত বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনকল্পে আইন প্রণীত হয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। যা সাধারণের অবগতির জন্য গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২ হাজার ১ সালের ১৫ জুলাই । পরবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আইনটির বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণে সাধারণের মধ্যে অনেক আশা, এবার বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা আসবে। বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার একটি প্রস্তাবও সরকারের উপর মহলে রয়েছে। আশা করা হয়েছে এই আশা পূরণ হবে। যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শের মধ্যে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের বিষয়টি ছিল। ২ হাজার ১১ সালের ৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এই রেলপথ নির্মাণের আশ্বাস দেন। বগুড়ায় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম পাওয়ার আশা করছে ফুটবলপ্রেমীসহ সকলেই। প্রথম দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রানওয়েসহ বগুড়া বিমান বন্দর নির্মানের সকল অবকাঠামো কাজ শেষ হয়। বিএনপি শাসনামলে এই বিমানবন্দরকে বেসরকারী বিমান পরিবহনের (সিভিল এ্যাভিয়েশন) কাছে দেয়নি। সাধারণ মানুষ এই বিমানবন্দরকে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আশা করে।