২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবারও সতর্ক বার্তা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের ওপর আবারও হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সাবধানে থাকতে বলেছে দেশটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে বুধবার নতুন করে ভ্রমণ সতর্কবার্তা হালনাগাদ করে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে কাজ করবে। এ বিষয়ে দুই দেশ একে অপরের মধ্যে তথ্যও বিনিময় করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশীদের ওপর আরও সহিংস হামলা হতে পারে। আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সাবধানে থাকতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ নির্দেশ মেনে চলারও উপদেশ দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে চলমান সহিংস কর্মকা- যুক্তরাষ্ট্র সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের যে সকল নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ করতে চায় তাদের প্রতি উপদেশ হচ্ছে, নিরাপত্তার বিষয়ে যথাযথ উপদেশ মেনে চলতে হবে। কেননা বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা আরও হতে পারে।

এতে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বিদেশীদের ওপর আরও সহিংস হামলা ঘটতে পারে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাপানের এক নাগরিক ও ৩ অক্টোবর ইতালির এক নাগরিককে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২৪ অক্টোবর হামলা চালানো হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ইসলামিক স্টেট বা আইএস এসব সহিংস হামলার দায় স্বীকার করেছে। সম্প্রতি দেশটির লেখক, ব্লগার এবং প্রকাশকদের ওপর হামলা করে একজনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০১৫ সালের শুরুর দিকে দেশটিতে ধারাবাহিকভাবে বোমা হামলা ঘটানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানতে পেরেছে যে, বাংলাদেশে আরও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, রিক্সাসহ হেঁটে চলাচল পরিহার করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোতে কোন জমায়েতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার দূত ॥ সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে কাজ করবে। এ বিষয়ে দুই দেশ একে অপরের মধ্যে তথ্যও বিনিময় করবে। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দূত মাইলস আরমিটাজের এক বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানায়।

অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক দূত মাইলস আরমিটাজ পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে জানান, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে কাজ করবে। এ বিষয়ে দুই দেশ একে অপরের মধ্যে তথ্যও বিনিময় করবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করেছে। এছাড়া জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে সরকার থেকে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরা হয়।

সূত্র জানায়, পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ মনে করছে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদের বড় হুমকিতে রয়েছে। পশ্চিমাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াও আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে এখানে তাদের নাগরিকদের ওপর হামলা হতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বরে তাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের ঢাকা সফর বাতিল করে। ওই সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল ঠিক সেই সময়েই ঢাকার কূটনৈতিক জোনে খুন হন ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা। তার কয়েকদিন পর রংপুরে খুন হন হোশি কুনিও। এক সপ্তাহের মধ্যে দু’জন বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়।

ঢাকায় আশুরার তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালেও বোমা হামলা হয়। এসব ঘটনায় বিদেশীদের উদ্বেগ নিরসনে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তারপরও অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলো এখনও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। তারা তাদের নাগরিকদের এখনও সতর্কাবস্থায় রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক দূত মাইলস আরমিটাজ বাংলাদেশ সফর করছেন।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া এখানে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কতটুকু এটাও তারা পর্যালোচনা করতে চায়। এসব বিষয় পর্যালোচনা শেষেই অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশে তাদের ক্রিকেট দলকে পাঠাবে কি-না। আর এসব বিষয় পর্যালোচনা করতেই ঢাকা সফরে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ বিষয়ক দূত মাইলস আরমিটাজ।