১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে দুই হাজার বাস নামানো হবে ॥ মেয়র আনিসুল

রাজধানীতে দুই হাজার বাস নামানো হবে ॥ মেয়র আনিসুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানী ঢাকার যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে আরও দুই হাজার বাস নামানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। একই সঙ্গে তিনি নতুন করে আরও ১০০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের ঘোষণা দেন। বুধবার সকালে বনানীর টিএ্যান্ডটি গোড়াউন বস্তি সংলগ্ন টিএ্যান্ডটি কলোনি ঝিলের কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ এবং পুনঃসংস্কার কাজ উদ্বোধনকালে মেয়র এ কথা জানান। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সময় মেয়র বলেন, ঢাকা শহরের অনেক জলাশয়ের মালিক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নয়। তবুও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এ সকল জলাশয় ডিএনসিসিকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। মেয়র জানান, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উক্ত জলাশয়ের কারণে আশপাশের এলাকা প্রায় সময় জলাবদ্ধ থাকে, ফলে হাজার হাজার মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। ইসলামিক রিলিফ এর আর্থিক সহযোগিতায় উক্ত জলাশয়ের পুনঃসংস্কার, আবর্জনা অপসারণ, কচুরিপানা ও জলজ আগাছা পরিষ্কারকরণ এবং জলাশয়ের চার পাশে বৃক্ষ রোপণ করা হবে।

আনিসুল হক বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বাস মালিকদের ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে রাজধানী ঢাকার দেড় শতাধিক বাস কোম্পানি থেকে তারা কোম্পানি কমিয়ে ৫ থেকে ৭টিতে নামিয়ে আনবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। এর পর তারা নতুন দুই হাজার নতুন গাড়ি নামাবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিদেশীদের নিরাপত্তার বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘ডিএনসিসির যে সব এলাকায় বিদেশী নাগরিকরা থাকেন তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ওই সব এলাকাকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া গণমানুষের দুর্ভোগ লাগবের লক্ষ্যে আগামী বছরের মধ্যে নগরীতে নতুন করে অত্যাধুনিক ১০০টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

মেয়র বলেন, আমরা শহরের যানজট নিরসনের জন্য ইউ-লুপ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন মালিকানায় পরিচালিত বাস একটি সাধারণ মালিকানায় আনার প্রচেষ্টা চলছে। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও কাওরান বাজার হতে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তেজগাঁও রাস্তার ওপর থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে ট্রাক মালিক সমিতির লোকজনকে আল্টিমেটাম প্রদান করা হয়েছে। রাস্তার ওপর যাতে আবর্জনার স্তূপ না থাকে সে জন্য ৬০টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গুলশান, বনানী, নিকেতনসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা পুরোপুরি সিসিটিভির আওতায় আনার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। জননিরাপত্তায় আরও বেশি কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাবেল ফিরুজ বলেন, পরিবেশবান্ধব ও দুর্র্যোগ সহনশীল নগর গড়ার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করে আসছে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, এ জলাশয়ের বদ্ধ পানি ও কচুরিপানার কারণে প্রচুর মশা উৎপন্ন হয় এবং পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়। জলাশয়টির আগাছা ও আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে কয়েক লাখ মানুষ মশা ও মাছির উপদ্রপ থেকে রেহাই পাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ আহসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ এস এম এম সালেহ ভুঁইয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও যুগ্ম সচিব মু. নুরুজ্জামান শরীফ, ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর খালেদা বাহার বিউটি প্রমুখ।