২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কারা জড়িত তা নিশ্চিত হতে পারছে না কাস্টমস, মামলা হয়নি

  • রিজেন্টের ফ্লাইটে ১৪ কেজি সোনা চোরাচালান

আজাদ সুলায়মান ॥ রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটের ভেতর থেকে ১৪ কেজি সোনা জব্দ করার ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত হতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রমাণাদি ছাড়া কাস্টমস থানায় কোন মামলাও করতে পারছে না। এদিকে রিজেন্ট কর্তৃপক্ষও এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য রিজেন্ট ইতোমধ্যে কুয়ালালামপুরে তাদের নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে ওই ফ্লাইটের ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়েছে। রিজেন্টের দৃঢ় বিশ্বাস এ সোনা পাচারের সঙ্গে যাত্রীরাই জড়িত। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেদিন কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটে যে সব যাত্রী চেক-ইন করে ঢাকায় আসেন- তাদের সবার নাম ঠিকানা খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে যে ৩ জন যাত্রীর সিটের নিচে ওই সোনা লুকানো ছিল- তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে কাস্টমসকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ওই ফ্লাইটে গ্রাউন্ড হ্যান্ডিলিংয়ের আগে-পরে কারও কোন সন্দেহজনক গতিবিধি ছিল কি না সেটাও খতিয়ে দেখার জন্য ভিডিও ফুটেজ চেয়েছে রিজেন্ট কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের ১৯-এ নং সিটের নিচ থেকে ১৪ কেজি সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউজের প্রিভেন্টিভ দল। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। সকাল সোয়া ৮টার দিকে ওই উড়োজাহাজের সিটের নিচে তল্লাশি করে এসব সোনা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কাউকে আটক করতে না পারায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়নি। কাস্টমস প্রিভেন্টিভ টিমের তদন্ত কমিটির কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি হয়নি। এ সম্পর্কে ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম-কমিশনার এস এম সোহেল রহমান জনকণ্ঠকে বলেন- তদন্ত চলছে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেলেই থানায় মামলা দায়ের করা হবে। এজন্য সময় লাগবে। এ দিকে কাস্টমস সূত্র জানায়, সাধারণত যাত্রীবেশেই এ কায়দায় সোনা আনা হচ্ছে। কুয়ালালামপুর থেকে যদি কোন যাত্রী তার সিটের নিচে লুকিয়ে সোনা পাচারের চেষ্টা করে তাহলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের করার কিছুই থাকে না। যদি ফ্লাইটের ভেতরে কোন সিসিটিভি বা অন্য কোন লুকিং মনিটর থাকতো তাহলে কারা ওই সিটের নিচে সোনা লুকানোর সঙ্গে জড়িত সেটা চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। তারপরও ওই সিটের সারিতে যে তিনজন যাত্রী ঢাকায় আসেন- তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) আশীষ রায় চৌধুরী বলেন- যাত্রী যদি সোনা পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকে সেটা কিছুতেই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ওপর দায় চাপানো যায় না। তারপরও আমরা স্ব-উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে ওই ফ্লাইটের ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়েছি। আমরাও চাই এ ধরনের অপরাধ যারাই করছে, তাদের স্বরূপ উন্মোচন করতে। তদন্তকারীদের আমরাও সহযোগিতা করতে চাই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এয়ারলাইন্স ব্যবসায় নেমে এ ধরনের কর্মকা-ে জড়ানো তো অনেক বড় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। শুধু রিজেন্ট কেন- জেনে-শুনে কোন এয়ারলাইন্সই এ ধরনের চোরাচালানের মতো অপরাধে লিপ্ত হওয়ার কোন যৌক্তিকতা থাকে না। রিজেন্টের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে বিশেষ ভাবমূর্তি অর্জন। এ কারণেই রিজেন্টও চায় এ ঘটনায় জড়িতদের বের করে আইনের আওতায় আনা।

উল্লেখ্য, বেসরকারী খাতের রিজেন্ট এয়ারওয়েজ অত্যন্ত স্বল্পসময়ে সিডিউল মতো ফ্লাইট পরিচালনা, তুলনামূলক অধিকতর সুলভ মূল্যে টিকেট বিক্রি ও ইন-ফ্লাইট সার্ভিসের দরুন বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এয়ারলাইন্সটির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই রিজেন্ট ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা ফ্লাইট চালুরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এয়ারলাইন্সটির বহরে এখন ছোট বড় ৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আরও দুটো বোয়িং ৭৩৭ যোগ হচ্ছে নুতন বছরের শুরুতেই। এগুলো দিয়ে অপারেট করা হবে ঢাকা-কলম্বো, ঢাকা-জেদ্দা ও ঢাকা-মাসকাট ফ্লাইট। বর্তমানে দেশীয় ঢাকা চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা সিঙ্গাপুর, ঢাকা কলকাতা, ঢাকা-মালয়েশিয়া ও ঢাকা-ব্যাংকক রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু রয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া