২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাহের ও ননী ফজলুর রহমানকে ত্রিমোহনী ব্রিজের কাছে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;তদন্ত কর্মকর্তার জেরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নেত্রকোনার রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজাহান কবিরকে জেরা করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। অসমাপ্ত জেরার জন্য ১৬ নবেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত হবিগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী মোঃ শফিক আলীর জেরা শেষ করেছে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী। তদন্ত কর্মকর্তার জেরার সময় তাকে সহায়তা করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। আর তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার।

ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২৩তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজাহান কবির তাঁর জেরায় বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোঃ ফজলুর রহমান তালুকদারকে অপহরণ করে ত্রিমোহনী ব্রিজে নিয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ৪ অক্টোবর শহরের বারহাট্টা জিউর আখড়ার সামনের রাস্তা থেকে ফুটবলার দবির হোসেনকে অপরহণ করে মোক্তারপাড়া ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া ১৯ অক্টোবর লাউফা গ্রাম থেকে জাফর আলী তালুকদার, আব্দুল জব্বার এবং গুমুরিয়া ঝষিমিয়াকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন শেষে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হবিগঞ্জের তিন রাজাকারের ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত হবিগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী মোঃ শফিক আলীর জেরা শেষ করেছে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য রবিবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। জবানবন্দী ও জেরার সময় প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুনতাম মাহমুদ সিমন, রিজিয়া সুলতানা চমন। অন্যদিকে সাক্ষীকে জেরা করেন এ্যাডভোকেট মাসুদ রানা ও এ্যাডভোকেট আব্দুস শুকুর। সাক্ষী জেরায় বলেন, উল্লেখিত তিন রাজাকার এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ নির্যাতন আটক অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে।

প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ শফিক আলী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৬১ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম-আখাউড়া এরালিয়া, থানা-বানিয়াচং, জেলা- হবিগঞ্জ। আমি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি। আমি কৃষি কাজ করি। একাত্তরের ২৬ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আমি আমার বাড়ির পাশে মাঠে গরু চরাইতে যাই। তখন আমি ২-৩টি গুলির শব্দ পাই। তখন আমি মাঠ থেকে দৌড়ে জেনারেল রবের বাড়ির পুকুর পাড়ে যাই। তখন আমি দেখতে পাই যে, জেনারেল রবের বাড়ির দক্ষিণ দিকে খালের পাড়ে তিনটি নৌকা ভিড়েছে। ঐ নৌকাতে আসামি মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, আসামি মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া ও আসামি আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েক রাজাকার ও ১০-১৫ পাকিস্তানী সৈন্যকে দেখতে পাই।

সাক্ষী বলেন, এ ঘটনায় আমি রব সাহেবের বাড়ির একটি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। ওখান থেকে আমি দেখতে পাই রাজাকার ও পাকিস্তানী আর্মিরা রব সাহেবের বাড়িতে লুটপাট করছে। লুটপাট শেষে তারা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা জেনারেল রব সাহেবের বাড়ির লাগ উত্তরে হিন্দুপাড়ায় ১০-১২টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আসামি মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েক রাজাকার আমাদের পাড়ার উত্তর দিক থেকে কয়েক মুরুব্বিকে আটক করে আমাদের বাড়ির দিকে নিয়ে আসছে। ঐ মুরুব্বিদের মধ্যে কালাই উল্লাহ, এরশাদ উল্লাহ, আব্দুল মোতালিব, মজিদ ছাদ উল্লাহ ছিলেন। তারা ঐ মুরুব্বিদের ধরে আমার দাদা ইয়াকুব উল্লাহর বাড়ির উঠানের দিকে আসে। আমার দাদা তখন বাড়িতেই ছিল। তারা আমার দাদাকে ঘর থেকে বের করে উল্লিখিত আটকদের সঙ্গে জড়ো করে। আমি এ সকল ঘটনা ঘরের আড়াল থেকে দেখছিলাম। এ সময় আসামি বড় মিয়া পাকিস্তান সেনাদের বলে যে, আমার দাদাসহ আটককৃত সকলেই মালাউন। তাদের মেরে ফেল। ঐ সময় এক পাকিস্তানী আর্মি বড় মিয়াকে গালে থাপ্পড় মেরে বলে, আটককৃতদের সকলেরই দাড়ি আছে। ওরা সবাই মুসলমান। এদের ছেড়ে দাও। সাক্ষী আরও বলেন, আসামিরা মুক্তিযোদ্ধা রজব আলীকে গুলি করে হত্যা করেছে। আরও জানতে পারি উত্তরপাড়ার দুই মহিলাকে নির্যাতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। ঐ দুই ধর্ষিতার মধ্যে একজন ছিল আল্লাদ মিয়ার বোন আগর চান বিবি। অপরজন ছিল মঞ্জব আলীর স্ত্রী।