১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত ॥ হান্নান শাহ

নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দল দমনে ব্যস্ত ॥ হান্নান শাহ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমনে ব্যস্ত অভিযোগ করে এ কারণে দেশে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সরকারকে উদ্দেশ করে হান্নান শাহ বলেন, এক এমপি সাহেব গুলি করে শিশু হত্যা করছে, এমপির ছেলে গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মারছে, এক মন্ত্রী সচিবালয়ের ভেতরে তার অধীনস্ত কর্মকর্তার কক্ষে ভাংচুর করে তালা লাগিয়ে দিচ্ছে। এগুলো কি সন্ত্রাসী কর্মকা- নয়? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারণ অধিকাংশ সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের। তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। এভাবে দলীয় লোকদের সন্ত্রাসী কর্মকা-ে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে কোনদিন হয়ত এ সরকার পুরস্কৃতও হতে পারেন। কারণ এ সরকার পুরস্কার আর সার্টিফিকেট প্রাপ্তিতে সেরা। তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করলেই বলা হয় আমরা রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলছি। কিন্তু জাগ্রত জনতা রাস্তায় নেমে এলে এই সরকার পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

হান্নান শাহ বলেন, সরকারী দল সন্ত্রাসীদের আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে। আর শান্তি রক্ষার নামে পুলিশ সারাদেশে অভিযান চালিয়ে বাণিজ্য করছে। কতজনকে গ্রেফতার করবে? বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার পুলিশের রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে রেখেছে। বিএনপি তৃণমূল নিয়ে রাজনীতি করে, আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী নিয়ে রাজনীতি করে না। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বরের পর বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। কিন্তু জিয়াউর রহমান বাকশাল বিলুপ্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করায় জিয়া পরিবারের প্রতি আওয়ামী লীগের ক্ষোভ।

হান্নান শাহ বলেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদর দফতরের কাছে মিলিটারি পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় দেশে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রক্ষীবাহিনীর ধ্যানধারণা ভুলে যায়নি। আমরা আশঙ্কা করছি, সরকার আবারও রক্ষীবাহিনী গঠন করে কিনা। মনে পড়ে রক্ষীবাহিনীর অত্যাচারে গ্রামগঞ্জের মানুষ ঘরে থাকতে পারেনি। আর এখন সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। প্রতিদিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ সন্ত্রাস করছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হান্নান শাহ বলেন, বিদেশী নাগরিক হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারী দলের নেতারা বলে দিলেন এর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত। আর তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, এখনও কোন ক্লু পায়নি। আসল কথা হলো ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান বলেছেন, কর্মী তৈরি করেছি কম, বড় ভাই তৈরি করেছি বেশি। তাহলে তার কাছ থেকে বড় ভাইদের লিস্ট নিয়ে তাদের গ্রেফতার করুন। খালি খালি বিএনপি নেতাদের দোষ দিয়ে লাভ হবে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম।