২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেইমারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

নেইমারকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যতই দিন গড়াচ্ছে ততই যেন ক্ষুরধার হচ্ছে নেইমারের পায়ের জাদু। কি ক্লাব, কি জাতীয় দল সবখানেই দুরন্ত, দুর্বার, অপ্রতিরোধ্য তরুণ এই সুপারস্টার। অনেক তারকা ফুটবলারের অপবাদ আছে, ক্লাবে দুর্ধর্ষ হলেও জাতীয় দলের হয়ে ম্রিয়মাণ। কিন্তু নেইমার যেন ঠিক এর উল্টোটা। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপালে ক্লাবের চেয়েও বিধ্বংসী মেজাজে আবির্ভূত হন তিনি।

বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে অভিষেকের পর থেকে প্রতিনিয়ত এর স্বার্থক চিত্রায়ন দেখেছে ফুটবলবিশ্ব। গত বছর সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই দেখেছেন। ২০১৪ সালের ১২ নবেম্বর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক তুরস্কের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন ব্রাজিল অধিনায়ক। দলও জয় পায় ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে। এর আগে একই বছরের ১৪ অক্টোবর এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের চার গোলের জয়ে একাই করেছিলেন সব গোল। ওই দুই ম্যাচে ছয় গোল করে সারথি হন গৌরবময় রেকর্ডের। গত বছর নিজ দেশে বিশ্বকাপেও মন্দ করেননি। কিন্তু ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি সেমিফাইনাল। ২০১৫ সালে কোপা আমেরিকায় অবশ্য অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হয় বার্সা তারকার।

গত জুন-জুলাইয়ে চিলিতে কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হন নেইমার। দলের সেরা তারকাকে ছাড়া ওই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল দলও বেশিদূর যেতে পারেনি। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে। যে কারণে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচেও ছিলেন না নেইমার। অধিনায়ককে ছাড়া চিলির কাছে প্রথম ম্যাচ হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ভেনিজুয়েলাকে ৩-১ গোলে হারায় রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোপার দুই ম্যাচ ও বাছাইপর্বের দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেইমারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এ কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় ২৩ বছর বয়সী নেইমার। জাতীয় দলের হয়ে নেইমার সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন গত ৮ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে তিনি করেন জোড়া গোল। দুই গোল করেন ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আরও একধাপ এগিয়ে গেছেন নেইমার। এখন ব্রাজিলের হয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা বার্সিলোনা ফরোয়ার্ড। তার গোলসংখ্যা ৬৭ ম্যাচে ৪৬। সামনে আছেন কেবল জিকো (৪৮), রোমারিও (৫৫), রোনাল্ডো (৬২) ও কিংবদন্তি পেলে (৭৭)। গত বছর জাপানের বিপক্ষে চার গোল করে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্ট্রাইকার বেবেতোকে ছাড়িয়ে যান নেইমার। বেবেতো ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে করেন ৩৯ গোল। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই নেইমার ছাড়িয়ে গেছেন বেবেতোকে। এই বয়সেই বিখ্যাত হলদু জার্সি গায়ে ৪৬ গোল করে ফেলা নেইমারকে হাতছানি দিচ্ছে ব্রাজিলের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। বর্তমানে তার অবস্থান পঞ্চম। শীর্ষে থাকা পেলের গোলসংখ্যা ৭৭। পেলে ও রোনাল্ডোকে টপকাতে হয়ত আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যে গতিতে এগোচ্ছেন তাতে জিকো ও রোমারিওকে ছাড়িয়ে যেতে নেইমারের হয়ত খুব বেশি সময় লাগবে না। তবে রেকর্ড নিয়ে মোটেও ভাবছেন না নেইমার। তার কাছে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়ই বড়। এ প্রসঙ্গে নেইমার বলেন, আমি গোল করার চেষ্টা করি। তবে তা ব্যক্তিগত সাফল্যের জন্য নয়, সতীর্থদের সাহায্য করতে এবং সার্বিকভাবে ব্রাজিল দলের জন্য। আমি খুব খুশি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দলের সেরা তারকাকে পেয়ে খুশি ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা। তিনি বলেন, নেইমারকে ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। পরিসংখ্যান ও পারফর্মেন্সে মেসি ও রোনাল্ডোর চেয়ে এগিয়ে থেকেই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছেন নেইমার। ২৩ বছর বয়সে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গোল করার দিক দিয়ে এগিয়ে ব্রাজিল অধিনায়ক। এই বয়সে মেসি ২০১০ সালে ২৬৮ ম্যাচ খেলে গোল করেন ১৫০। ২০০৮ সালে ২৩ বছর বয়সে রোনাল্ডো ৩২৭ ম্যাচ থেকে গোল করেন ১১৮। আর ২০১৫ সালে ২৩ বছর বয়সে নেইমার ৩১৭ ম্যাচে গোল করেছেন ১৮৩। এই সময়ের মধ্যে খেলা নেইমারের ম্যাচ প্রতি গোলের গড় ০.৫৭। যেখানে মেসির ছিল ০.৫৬ আর রোনাল্ডোর ছিল ০.৩৬। তুখোড় ফর্মে থাকা নেইমারকে নিয়ে ঘুম হারাম হওয়ারই কথা আর্জেন্টিনার!