২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতি টেস্টকেই শেষ ভাবেন জনসন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবসরের ভূতটা যেন চেপে বসেছে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে। এ্যাশেজ শেষে টেস্ট ছেড়েছেন শীর্ষ ছয় ক্রিকেটার। এবার মিচেল জনসন জানালেন, প্রতি টেস্টকেই নাকি জীবনের শেষ টেস্ট বলে মনে হয় তার। যার অর্থ, সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে যে কোন সময় অবসরের মিছিলে যোগ দিতে পারেন তুখোড় এই অসি পেসারও। ধারণা করা হচ্ছে চলতি বছর শেষে আগামী এ্যাশেজ খেলে বিদায় বলতে পারেন তিনি। শুক্রবার পার্থে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া। ওয়াকায় (ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ড) যদি এ্যাশেজের কোন ম্যাচ না থাকে তবে এই মাঠে জীবনের শেষ টেস্টটা হয়ত খেলে ফেলবেন ৩৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।

‘আমি ভাবি, প্রতিদিনই ভাবি। প্রতি টেস্ট খেলতে নামলেই মনে হয়, এটাই আমার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ!’ তাহলে কি বয়সের ভার ও ইনজুরির তোপে খেলাটাকে আর উপভোগ করছেন না? এমন প্রশ্নে আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার সফল পেসারের জবাব, ‘তবে এটা ঠিক ক্রিকেট মনে প্রাণে ভালবাসি। বল করতে নেমে আনন্দ পাই। ঠিক জানি না কবে অবসর নেব। তবে সেটা যে কোন দিনই হতে পারে।’ ওয়াকা ভাল লাগলেও পছন্দের গ্রাউন্ড হিসেবে গ্যাবাকেই এগিয়ে রাখলেন জনসন। তিনি বলেন, ‘ওয়াকা চমৎকার, তবে ব্রিসবেন আরও ভাল। আট বছর আগে এই গ্যাবায়ই আমি আমার টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। এখানে খেলাটা সবসময়ই বিশেষ কিছু, বাড়তি অনুপ্রেরণা পাই। হয়ত জীবনের শেষ ম্যাচটা ব্রিসবেনেই খেলতে চাইব।’

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। ব্রিসবেনে প্রথম টেস্টে ২০৮ রানের বিশাল জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে স্টিভেন স্মিথের দল। ব্যাটসম্যানদের রান বন্যার ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট নিয়ে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও পারফর্মেন্সটা ঠিক তার সঙ্গে যায় না। কারণ ক্যারিযারে বেশিরভাগ সময়ই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরে দীর্ঘ এ্যাশেজ সিরিজেও চেনা রূপে দেখা যায়নি। নয় ইনিংসের কোনটিতেই ৩টির বেশি উইকেট পাননি। কিছুটা চাপ থাকলেও এ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না। জনসন বলেন, ‘এটা ঠিক দল আমার কাছ থেকে পাঁচ বা ততধিক উইকেটই চায়। কিন্তু কারওই ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় সমান যায় না। বড় বিষয় আমি এখনও প্রতি ম্যাচে বোলিং উপভোগ করি। সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে হলেও।’ ঘরোয়া ম্যাচে তার উপস্থিতি তরুণদের উজ্জীবিত করে বলেও মনে করন তিনি।

ব্রিসবেনে ২০০৭ সালের নবেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক জনসনের। ওয়ানডে খেলছেন অবশ্য তারও দুই বছর আগে থেকে। ক্যারিয়ারের ৭২ টেস্টে নিয়েছেন ৩১০ উইকেট। ইনিংসে চার উইকেট ১৬ ও পাঁচ উইকেট ১২ বার। ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছেন ৩ বার। মূলত বোলার হলেও ব্যাটসম্যান জনসনও কম যান না- ১ সেঞ্চুরি আর ১১ হাফসেঞ্চুরিই তার প্রমাণ!