২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ বাংলাদেশ মুখোমুখি স্বাগতিক তাজিকিস্তানের

রুমেল খান ॥ জয়, পরাজয়, না কি ড্র? কোনটা লেখা হবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পাশে? ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের ম্যাচে আজ স্বাগতিক তাজিকিস্তানের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। দুসাম্বেতে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় সেন্ট্রাল রিপাবলিক স্টেডিয়ামে (পামির স্টেডিয়াম) চর্মগোলকের দ্বৈরথে অবতীর্ণ হবে দু’দল। স্বাগতিকদের সুবিধাটা তাজিকিস্তানের পক্ষে। চেনা মাঠ, সমর্থক, আবহাওয়া, র‌্যাঙ্কিং এমনকি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে তাজিকরা। বাংলাদেশ দলের আরেক প্রতিপক্ষ সেখানের হিমশীতল ঠা-া। যদিও এই আবহাওয়াতে তারা ইতোমধ্যেই মানিয়ে নিতে পেরেছে বলে জানা গেছে। বিশ্বকাপ বাছাই উতরানোর স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলেও এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ এখনও আছে। তাই পয়েন্টে পাওয়ার সংগ্রামে জয়ী হতে বদ্ধপরিকর ‘বেঙ্গল টাইগার্স’রা। দলের ইতালিয়ান কোচ ফ্যাবিও লোপেজের এটা দ্বিতীয় এ্যাসাইনমেন্ট। প্রথমটায় হার দিয়ে শুরু করেছিলেন (কিরগিজস্তানের কাছে হার ০-২ গোলে)। এবার তাজিকদের বিপক্ষে জিততে চান তিনি। এর নেপথ্যে আছে গত জুনে হোম ম্যাচে তাজিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পরিসংখ্যানটি (ওই ম্যাচে অবশ্য কোচ হিসেবে লোপেজ নন, ছিলেন লোডভিক ডি ক্রুইফ)।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রায় শেষপ্রান্তে লাল-সবুজরা। বাকি আছে আর ৩ ম্যাচ। ইতোমধ্যে খেলা ৫ ম্যাচের ৪টিতে হেরে যাওয়া বাছাইপর্ব পার হওয়ার আর কোন আশা নেই। তাই দেশ ছাড়ার আগে দলীয় অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম জানিয়ে গেছেন, এখন তাদের দৃষ্টি এএফসি এশিয়ান কাপে খেলা। ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবে এশিয়ার ফুটবলের সর্ববৃহৎ আসরটি, অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে ২৪ দল। তাই পূর্বের তুলনায় এবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগ কিছুটা হলেও বেশি। পয়েন্ট টেবিলে ৫ দলের মধ্যে অন্তত ৩ নম্বরে থাকতে পারলেই হবে। চতুর্থ হলেও ভাল সম্ভাবনা থাকবে। আর পঞ্চম হলেও (বর্তমান পঞ্চম স্থানেই আছে) প্লে অফ ম্যাচ খেলে কোয়ালিফাই করার সুযোগ থাকবে। এ স্বপ্ন পূরণে বুধবার শেষবারের মতো অনুশীলন করে লোপেজের শিষ্যরা। স্বাগতিক দলের সঙ্গে টক্কর দিতে সেখানকার কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে একটু আগেভাগেই (৬ নবেম্বর) তাজিকিস্তান গেছে বাংলাদেশ, যার কিছুটা সুবিধা এখন ভোগ করছে মামুনুলবাহিনী। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাজিকিস্তানের অবস্থান ১৬০ আর বাংলাদেশের ১৮০। গত ১৬ জুন ঢাকায় ‘হোম’ ম্যাচে তাজিকদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ পাঁচ দলের মধ্যে আছে সর্বশেষ স্থানে। ৫ খেলায় ১ ড্র ও ৪ হারে তাদের সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ২ ড্র ও ৩ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে তাজিকিস্তান। ৫ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে জর্দান।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান ফিফা স্বীকৃত ৭ ম্যাচে পরস্পরের মোকাবেলা করেছে। তাজিকিস্তান জিতেছে ৪ ম্যাচ, বাংলাদেশ ১টি। ড্র হয়েছে ২ ম্যাচ। বাংলাদেশ জাতীয় দল তাদের সর্বশেষ জয় পেয়েছিল গত ৬ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ’ ফুটবলের সেমিতে তারা ১-০ গোলে হারিয়েছিল থাইল্যান্ড যুবদলকে। তাজিকদের হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে চায় তারা।

বাংলাদেশ যে ৭ বার তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে তার ৫টিই বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ। ২০০৩ সালের ২৬ নবেম্বর ঢাকায় সে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ২-০ গোলে। বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাই পর্বের ফিরতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওই বছর ৩০ নবেম্বর দুসাম্বেতে। ফল ছিল একই। ২০০৭ সালের ৮ অক্টোবর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের হোম ম্যাচে তাজিকিস্তানকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। তবে ২৮ অক্টোবর দুসাম্বেতে এ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশকে হারতে হয় ৫-০ গোলে।

এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে দুবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান। একবার করে জিতেছে দুই দেশ। ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল তাজিকিস্তান। ২০১০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় অনুষ্ঠিত এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে তাজিকিস্তানকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ। গোল করেছিলেন মিশু এবং এনামুল। ১৬ জুন যে ম্যাচে বাংলাদেশ ১-১ গোলে তাজিকিস্তানের সঙ্গে ড্র করেছিল, সেই ম্যাচে ৫০ মিনিটে এমিলির গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ৬৭ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তাজিকিস্তান। তারপরও শেষদিকে (৮৮ মিনিটে) গোল খায় বাংলাদেশ! ওই গোলটি ছিল বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের। প্রথম দফায় ফ্রি কিক প্রতিহত করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ফ্রি কিক রেফারি আবারও নেয়ার নির্দেশ দেন। ফিরতি ফ্রি কিকে বাংলাদেশের মানবপ্রাচীর আরও পিছিয়ে নেয়া হয়। এই ফ্রি কিকে লক্ষ্যভেদ করে সমতা ফেরায় প্রতিপক্ষ।

বাংলাদেশ দল ॥ শহীদুল, লিটন, আশরাফ, নাসির, নাসিরুল, ইয়াসিন, ইয়ামিন, রায়হান, কেষ্ট, ওয়ালী, মামুনুল, জামাল, হেমন্ত, জনি, শাহেদুল, ইমন, রনি, সোহেল রানা, কোমল, সজীব, ফয়সাল মাহমুদ, জীবন ও তকলিস।

নির্বাচিত সংবাদ