২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়ানডে ছাড়লেন ইউনুস খান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পাকিস্তানীদের মতি গতি বোঝা দায়। রঙিন পোশাকে সুযোগ না পেয়ে টেস্ট ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন, অথচ সুযোগ পেয়েও ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ইউনুস খান! বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটিই তার শেষ ওয়ানডে। আবুধাবিতে ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে এই ঘোষণা দেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ব্যাটসম্যান। ইউনুসের অবসরের ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তান টিম ম্যানেজার ইন্তিখাব আলম বলেন, ‘ইউনুস ওয়ানডে থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবুধাবিতে ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রথম ওয়াডে খেলেই সরে যাবে ও। আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এটা করেছে। আমরা ইউনুসের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। আশা করি পরিবারকে সময় দেয়ার পাশাপাশি এখন টেস্টে ও আরও মনোযোগী হতে পারবে।’ ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি করাচীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয় ইউনুসের। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ২৬৪ ম্যাচে ৩২ গড়ে মোট ৭,২৪০ রান সংগ্রহ করেছেন। সেঞ্চুরি ৭ ও হাফসেঞ্চুরি ৪৮টি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৪Ñ কলম্বোতে ২০০৪ সালে, হংকংয়ের বিপক্ষে ইনিংসিটি খেলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি টেস্টের দুরন্ত ব্যাটসম্যানের ওয়ানডে নিয়ে কম নাটক হয়নি। বড় নাটক হয় বিশ্বকাপের ঠিক আগে। যখন তিনি ওয়ানডেতে সুযোগ না পেলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের হুমকি দেন! অবশ্য সুযোগ পেয়েও বিশ্বকাপে একদমই সুবিধা করতে পারেননি। তাই আবার বাদ পড়েন। বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের আগে আবুধাবিতে নেপালের বিপক্ষে প্রস্তুতি ওয়ানডেতে ৩৮ রান করেছিলেন। ওয়ানডে অবসর প্রসঙ্গে ইউনুস বলেন, ‘আজ ওয়ানডে থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে পেরে আমি আনন্দিত। কারণ মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারছি! আমি আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি সত্যি সন্তুষ্ট। স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ যে দীর্ঘদিন পাকিস্তানের সেবা করতে পেরেছি। আগেই টি২০ ছেড়েছি। মনে হয়েছে ওয়ানডে ছাড়ার এটাই সঠিক সময়। এতে করে পরিবারকে সময় দিতে পারব। টেস্টে আরও মনোযোগী হতে পারব।’ দেশের প্রতি ভালবাসার কথা জানিয়ে ইউনুস বলেন, ‘ক্রিকেট আমার ফ্যাশন। ছোটবেলা থেকে এখনও এটিকে সমানভাবে ভালবাসি। ভালবাসি বলেই চালিয়ে যাচ্ছি (টেস্টে)। ১৫ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবসময় পাকিস্তানের সাফল্যের জন্য খেলেছি। দলের জয়ে ভূমিকার রাখার আনন্দটা উপভোগ করেছি।’ সাবেক সতীর্থ, নির্বাচক ও বোর্ড কর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের বিখ্যাত সব ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলেছি, সেই সব স্মৃতি ভোলার নয়। তাদের সঙ্গে খেলাটা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। সুযোগ দেয়ার জন্য নির্বাচক এবং বোর্ড (পিসিবি) কর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ পাকিস্তান ক্রিকেটের সম্ভাবনা নিয়ে ইউনুস জানান, ‘তরুণরা উঠে আসছে। দলে একাধিক নবীন ক্রিকেটার আসলেই ভাল খেলছে। তরুণ প্রজন্মই একদিন আমাদের শিখরে তুলে নেব, যেভাবে ১৯৯২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।’ ইউনুসের প্রশংসা করে বর্তমান কোচ ওয়াকার ইউনুস বলেন, ‘ইউনুস পাকিস্তান ইতিহাসেরই অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান। অবশ্যই আমি ওর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই। সাদা পোশাকে এখনও সে আমাদের অন্যতম স্তম্ভ।’