১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সুচির

  • প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধান ও স্পীকারকে চিঠি ॥ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনএলডির

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘জাতীয় ঐকমত্যের’ লক্ষ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন আউং সান সুচি। সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দেশটিতে সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সুচি নিজেও তার আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

বুধবার পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে দেখা গেছে ৯০ শতাংশ আসন পেয়েছে এনএলডি। রবিবার দেশটিতে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন, সেনাবাহিনী প্রধান মিন আউং হলাইং এবং পার্লামেন্টের স্পীকার শোয় মানকে উদ্দেশ করে এদিন সুচি চিঠি লেখেন। এতে সুচি উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করেছে। আমি জাতীয় ঐকমত্যের লক্ষ্যে আপনাদের আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আগামী সপ্তাহে আপনারা আপনাদের সুবিধামত এই আলোচনায় অংশ নিবেন।’ রবিবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) ভরাডুবি হয়েছে। পার্টির অনেক প্রভাবশালী নেতা হেরে গেছেন। এটি মূলত সেনাবাহিনীর বেসামরিক রাজনৈতিক ফ্রন্ট। ২০১১ সালে কয়েকটি দলের সমন্বয়ে দলটি ক্ষমতাসীন হয়েছিল। পার্লামেন্টে ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।

সেনাবাহিনী দেশটির রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভোটের আগে তারা জানিয়েছিল ফলাফল যাই হোক সেটি তারা মেনে নেবেন। সেনাবাহিনী আসলেই ক্ষমতা ঠিকমতো হস্তান্তর করবে কী না সে নিয়ে এনএলডির কর্মী সমর্থকরা এখনও উদ্বিগ্ন। কারণ এর আগে ১৯৯০ সালে দলটি ব্যাপক জয় পেলেও সেনাাবহিনী জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। বুধবার ঘোষিত ফলে দেখা গেছে, এএলডি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৬১টি আসনের মধ্যে ৫৬টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনের চেয়ে বেশি সংখ্যক আসনই দলটি পেয়েছে। সুচি ইয়াংগুনের কোয়াহমুতে নিজ আসনে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু সেনাবাহিনী রচিত সংবিধান অনুযায়ী সুচি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। কারণ এতে পরিবারের কোন সদস্য বিদেশী নাগরিক হলে তার জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুচির ছেলে একজন ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এবং তার প্রয়াত স্বামীও ছিলেন একজন ব্রিটিশ নাগরিক।

সুচি অবশ্য নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন দল নির্বাচনে জিতলে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও তার ভূমিকাটি হবে প্রেসিডেন্টেরও ওপরে। মঙ্গলবার বিবিসি ও চ্যানেল নিউজ এশিয়াকে সুচি বলেন, তার দল পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ঠিক করবে। তিনি এটি স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেত্রী হিসেবে তিনিই সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রেসিডেন্ট হবেন নামমাত্র। তার কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী তিন বাহিনী প্রধান এবং স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত রক্ষা মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা সেনাপ্রধানের হাতেই থাকছে।