২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘দেবী’ নাটকের মঞ্চায়নে আমরা রোমাঞ্চিত ॥ তৌফিকুর রহমান

অভিনেতা তৌফিকুর রহমান। নাট্যদল বহুবচনের কর্ণধার। অনবদ্য অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন দেশের মঞ্চকে আলোকিত করে রেখেছেন। তাঁর দলের প্রযোজনায় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবী’ নাটকে শততম মঞ্চায়ন পর্যন্ত তিনি মিসির আলী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের ৬৬তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আগামীকাল সন্ধ্যা ৭টায় দলের ২২তম প্রযোজনায় নাটকটির একশ’ একতম মঞ্চায়ন হবে। ‘দেবী’ নাটক ও অন্যান বিষয়ে এই অভিনেতার সঙ্গে কথা হয়।

একশ’ একতম মঞ্চায়নের প্রাক্কালে দেবী নাটকের পরিক্রমা নিয়ে বলেন-

তৌফিকুর রহমান : সাহিত্যিক হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ বড় মাপের। ১৯৭৫ সালের শেষ নাগাদ আমরাই মঞ্চে আনি নন্দিত নরকে উপন্যাসের নাট্য প্রযোজনা। উপন্যাস থেকে নাট্যরূপের জটিল কর্মটি কিভাবে করা হবে প্রশ্নে তার সমাধান ছিল, ‘জাফর ইকবালকে বলে দেব, ওই নাট্যরূপ দেবে’। সত্যি সত্যিই সেদিন আমরা ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের নাট্যরূপে নাটকটি মঞ্চে আনি। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেই, হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় দেবী উপন্যাসের মঞ্চায়ন করব। একদিন আমরা স্বদল বলে তার গ্রীন রোডের বাসায় হাজির। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার নাটক লেখার অনুপ্রেরণা তো বহুবচন। আমার যে কোন রচনা আপনারা নাট্যরূপ দিয়ে মঞ্চস্থ করতে পারেন। অতঃপর নাট্যকর্মী বন্ধু মোঃ ইকবাল হোসেনের নাট্যরূপ এবং আরহাম আলোর নির্দেশনায়, ১৯৯৪ সালে মঞ্চে আসে দেবী। নাটকটি দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়। আজ নাটকটি একশ’ একতম মঞ্চায়নে আমরা রোমাঞ্চিত।

বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে দেবী নাটকটি কেমন?

তৌফিকুর রহমান : মানুষের অতীত তো মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। এ রকম এক ভয়ঙ্কর অতীত থেকে ষোল-সতের বছর বয়সী রানুর প্রাণান্তকর বাঁচার লড়াইয়ের প্রশ্নে দেবী সত্তাকে আঁকড়ে ধরা আর রহস্য ভেদী মিসির আলীর বাস্তবতা অন্বেষণের টানাপড়েনের নাটক দেবী। মনস্তাত্ত্বিক এই নাটক মনেতেই অধিক বিবেচ্য।

বহুবচন দলের চলার পথ যেমন ছিল

তৌফিকুর রহমান : দেশ স্বাধীনের পর মতিঝিল নিপুণা পেট্রলপাম্পে দিনের পর দিন আড্ডা শেষে সিদ্ধান্তে পৌঁছালাম নাটক করব। সেলিম, মোতাহার, আরমান, বিন হক, নওশাদ, ঝিনু, মাজহার, বিপ্লব, দুলাল, দুলু আর আমি মিলে কণ্ঠে তুলে নিলাম নাটকীয় সেøাগান, ‘আমাদের নাটক মানে শুধু নাটকীয়তা নয়, নাটকের চিরচারিত আঙ্গিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’। দলের নাম হলো বহুবচন। প্রজাপতির লীলালাস্য নাটক দিয়ে যে আমাদের দলীয় যাত্রা শুরু, সে দলীয় যাত্রায় ৪৩ বছরে ২২টি নাটকের প্রযোজনায় রয়েছে অজস্র মঞ্চায়ন। শেষাবধি বহুবচন কখনো মঞ্চ ছাড়েনি, ছাড়বেও না।

আপনার অভিনয় জীবন নিয়ে জানতে চাই

তৌফিকুর রহমান : ছাত্রাবস্থায় আমাদের চেতনায় ছিল পড়াশোনার পাশাপাশি দিনে খেলা আর রাতে সাংস্কৃতিক বিষয়ে অংশগ্রহণ। ফলে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়েই আমার অভিনয়ে হাতে খড়ি। সে হিসেবে আবদুল্লাহ আল মামুনের সেনাপতি নাটকে আব্বাস আলী তালুকদার হচ্ছিতো মমতাজ উদ্দিন আহমেদের জমিদার দর্পণ নাটকে জমিদার মিরাজ আলী হচ্ছি। দেশ স্বাধীন হলে সর্বতোভাবে অভিনয়ে নিমগ্ন হলাম আমার দল বহুবচনে। কত নাটকে যে অভিনয় করেছি সব আর মনে পড়ছে না। এর মধ্যে অভিনেতা হিসেবে মিসির আলী চরিত্র পাওয়া আনন্দের কিন্তু অভিনয় শেষে আরও কিছু করতে না পারার অতৃপ্তি বেদনার। এই আনন্দ-বেদনার, আলো-আধারী অভিনয় জীবনে সর্বতোভাবে আমার পাশে আমার স্ত্রী শারমিনা তৌফিক, যিনি পাশে না থাকলে আমার অভিনয় করা হতো না। -গৌতম পাণ্ডে

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া