১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিরপুরে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুইয়ে

  • মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিং; ৫
  • ৩৪, শেষ ম্যাচেও জিম্বাবুইয়ে পরাজিত ৬১ রানে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুধু মিরপুরের নয়, পুরো বাংলাদেশের দর্শকদেরই একটি বিশ^ব্যাপী সুনাম আছে সঠিক সময়ে উপযুক্ত কাজটা করার। জিম্বাবুইয়ের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তউরাই মুজারাবানি উইকেটে এসেই ভড়কে গেলেন। ভয়ঙ্কর ‘কাটার’ মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান তখন ভয়ঙ্কর হয়ে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুইয়ের সব প্রতিরোধ. ভেঙ্গে দিয়েছেন আশা। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মুজারাবানিকে স্বাগত জানালেন সিøপে ৫ ও গালিতে ৩ ফিল্ডার রেখে। আর ওয়ানডে ক্রিকেটে টাইগারদের এমন বিস্ময়কর সাহসিকতার কারণেই মিরপুরের দর্শকরা আলো জ্বেলে দিলেন। যেই আলোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমী ১৬ কোটি বাংলাদেশীর বুকে জ্বেলে দিয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা সেটাই যেন তারা গ্যালারিতে বসে সেলফোনের স্ক্রিন জ্বালিয়ে ‘দিওয়ালি’র শুভেচ্ছায় আলোকিত সম্মান প্রদর্শন করলেন মাশরাফিবাহিনীকে। এমন আবেগ যে দেশের মানুষের বুকে সেখানে আর পারেনি জিম্বাবুইয়ে। বুধবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও ৬১ রানের সহজ জয় পেয়েছে টাইগাররা। ফলে বাংলাদেশ ওয়ানডে ইতিহাসে ১১ বারের মতো প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের গৌরব দেখাল। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারল সফরকারী জিম্বাবুইয়ে। টানা ৫ সিরিজ জিতে চলতি বছর দেশের মাটিতে অপরাজেয় বাংলাদেশ নিজেদের সবচেয়ে সফল ও পয়মন্ত বছর সমাপ্ত করল।

‘হোয়াইটওয়াশ’ কিংবা ‘বাংলাওয়াশ’ যেটাই বলা হোক জিম্বাবুইয়ের জন্য সেটা বিন্দুমাত্র মর্যাদা কম-বেশি করবে না। তবে দেশের মাটিতে প্রতিপক্ষকে সব ম্যাচে হারিয়ে দেয়ার নাম হয়ে গেছে ‘বাংলাওয়াশ’, সেটাই হয়েছে সফরকারী জিম্বাবুইয়ে। প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার যে আভাস দিয়েছিল তারা, মূল লড়াইয়ে সেটার ছিঁটেফোটাও দেখাতে পারল না। হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ দল। পার্থক্যটা দেখিয়ে দিল বাংলাদেশ। বর্তমানে টাইগাররা বিশ্বের অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি এতে আর সন্দেহের অবকাশ নেই। ঘরের মাটিতে এ বছর কোন সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। সবচেয়ে বড় কথা টানা তিন সিরিজ জয় করেছে টাইগাররা। আর জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে এ নিয়ে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে ১১তম বারের মতো প্রতিপক্ষকে ‘বাংলাওয়াশ’ উপহার দিল টাইগাররা। যদিও সিরিজের ঠিক আগ মুহূর্তে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘বাংলাওয়াশ না বলার জন্য ধন্যবাদ। হোয়াইটওয়াশ ঠিক আছে।’ টসের ভাগ্যটা যেন কোনভাবেই মাশরাফির পক্ষে আসছিল না। প্রথম দুই ওয়ানডেতেই হেরে গেছেন টস নামক ভাগ্য পরীক্ষায়। এবার টস জিতেও আগে ব্যাটিংই বেছে নেয় বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে শুরুটা ভাল হয়নি। কিন্তু এদিন উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আর ইমরুল তাদের সেরা জুটিটা উপহার দিয়েছেন। সর্বাধিক ৪৭ ইনিংস উদ্বোধনী জুটিতে একসঙ্গে নেমেও সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ হয়নি। এবার ১৪৭ রানের জুটি গড়ে দলকে উড়ন্ত সূচনা দিয়েছেন দু’জন। তামিম ৯৮ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭৩ রান করে ঘরের মাটিতে সর্বাধিক ২৫৭১ রান করলেন ক্যারিয়ারে। মিরপুরে ২০৫৬ রান করে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসানকে (২০৫০)। টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে ইমরুল আউট হলেন ৯৫ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৩ রানে। এরপর মাহমুদুল্লাহ এদিন ৫ নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের ১৪তম অর্ধশতক হাঁকান। যদিও ৩২ রানের সময় রানআউট ভেবে চলে যাচ্ছিলেন, নাটকীয়ভাবে উইকেটে ফিরে তিনি এ অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ৯ উইকেটে ২৭৬ রান তোলে বাংলাদেশ।

জবাবটা শুরু থেকেই ভাল হয়নি জিম্বাবুইয়ের। তবে সব প্রতিরোধ আগের দুই ম্যাচের মতোই অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা ও শন উইলিয়ামস গড়ে তোলেন। ৪৭ রানেই তিন উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে তারা ৮০ রানের জুটি গড়ে টাইগারদের শঙ্কায় ফেলেছিলেন। কিন্তু মাশরাফি ও সাব্বির রহমানের আঘাতে সেই প্রতিরোধ ভেঙ্গে যায়। চিগুম্বুরা ৪৫ ও উইলয়ামস ৬৪ রান করেন। এরপর শুধু লড়াই করেছেন ম্যালকম ওয়ালার। তিনি ৩২ রান করে আল-আমিনের বলে ফিরে যাওয়ার আগেই বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন মুস্তাফিজ। শেষদিকের ব্যাটসম্যানরা আর কেউ তার সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ৩৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। ২৭ বল আগেই ৪৩.৩ ওভারে ২১৫ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুইয়ে।