১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরাজদিখানে ৪ চোরকে ধরে রাতের আঁধারে ছেড়ে দিল পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে বৈদুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরি করার কাটার, কেচি, রশি, চেইনসহ চার চোরকে আটক করে গ্রামের জনগন। পুলিশ ওই চোরদের গোপনে রাতের আঁধারে ছেড়ে দিয়েছে। রাতভর স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় দেন-দরবারের পর পুলিশ উৎকোচের বিনিময়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকার জনগনের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও জন প্রতিনিধিরা জানায়, সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের খিলাপাড়া গ্রামের রশিদ শেখের ছেলে নজরুর শেখ ও তার বন্ধুরাসহ গত বুধবার রাতে শতাধিক লোক উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রাম থেকে রাত আড়াইটার সময় গান শুনে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় খিলাপাড়া-রশুনিয়া রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের খুটির নীচে চার জনকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হলে তাদের কাছে গিয়ে তাদের সাথে বৈদুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরি করার কাটার, কেচি, রশি, চেইন ইত্যাদি দেখতে পায়। এ সময় চারজনকে আটক করে ওই গ্রামের জাহাঙ্গির, দুলাল মেম্বার, রমজান শেখ, ভবতোষসহ সকলে বিষয়টি জানাতে তৎক্ষণাৎ থানায় ফোন দিলে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে এরপর থেকেই এলাকার চিহ্নিত থানার দালালরা চোরদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালাতে থাকে। রাত ৩টা পর্যন্ত এ নিয়ে দীর্ঘ দেন-দরবারের পর আটক চার চোরকে এএসআই মোস্তফা ও তার সঙ্গীয় ফোর্স চারজনকে ছেড়ে দেন। আর এসব ঘটনা অহরহ এ থানায় ঘটে এলেও কর্তৃপক্ষের তেমন নজর নেই। সিরাজদিখান পল্লিবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম দেবকুমার মালো বলেন, রাতেই সাবেক ছাত্রনেতা মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ ও রশুনিয়া ইউনিয়া পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ দুলাল হোসেনের কাছ থেকে বৈদুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরি করার কাটার, কেচি, রশি, চেইনসহ চার চোর ধরার বিষয় ফোনে জানতে পেরে অফিসের লোকদের থানায় জানাতে বলেছি। সকালে খোজ নিয়ে দেখি থানায় কোন চোর আটক নেই। চোরদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রশুনিয়া ইউনিয় পরিষদের চেযারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, সিরাজদিখান থানা পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। রাতে দিনে যে কোন আসামী ছেড়ে দিচ্ছে। পুলিশের এসকল কর্মকান্ডে সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। চোর ধরার পর রাতের আধারে চোর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। রশুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু সাঈদ বলেন, বারবার বৈদুতিক তার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আমরা অতিষ্ঠ। চোর ধরার কথা শুনে আমি সাথে সাথে ডিজিএম সাহেবকে জানাই। পরে খিলাপাড়ার শামীম আমাকে বলে, ভাই চোর চারজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সকালে আমি কোটে যাওয়ার সময় জানতে পারলাম পুলিশ চার চোরকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে এএসআই মোস্তফা জানান, চোর না হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ওরা রাতে ইন্টরনেট ক্যাবলের কাজ করছিল। এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার শ্রীনগর সার্কেল মোঃ সামসুজ্জামান জানান, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেবেন।