২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একতরফা স্থানীয় নির্বাচন করতেই গণগ্রেফতার - রিপন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এদিকে দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, জিয়ার মাজার সারানোর দুঃসাহস দেখালে তা সর্ব শক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে।

রিপন বলেন, সারাদেশে নতুন করে গণগ্রেফতার শুরু হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়ীঘর তল্লাশী করা হচ্ছে। গত ক’দিনে প্রায় তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল। তৎসত্ত্বেও আমরা দলের পূণর্গঠনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে যৌথ অভিযানের নামে সারাদেশে নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে। বিএনপির কাউন্সিলের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্থ করতে এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা যাতে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে বের হতে না পারে সেজন্যই এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে । তিনি বলেন, মিয়ানমারের সামরিক জন্তা থেইন চেইনের মতো দেশের বর্তমান সরকারও একদিন উপলব্দি করতে পারবে গণতন্ত্রই একমাত্র মুক্তির পথ।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দেশের সংকটময় অবস্থায় সরকার হঠাৎ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছে। যে সংসদ ৫ জানুয়ারীর বিনাভোটের নির্বাচনে গঠিত হয়েছিল এবং যার ১৫৪ জন সদস্যই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা আগেও বলেছে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সমাজ আরও বিভাজিত হয়ে পড়বে এবং রাজনীতির বাইরে যেসব সমাজসেবী এসব নির্বাচনে অংশ নিতেন তাদের অংশগ্রহণ আর সম্ভব হবে না।

রিপন বলেন, সরকারি দলের লোকেরা যদি গায়ের জোরে প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেই জিততে চায় তাহলে নির্বাচনের নামে প্রহসনের দরকার কি ? আর সরকার যদি সত্যিই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক করতে চায় তাহলে অবশ্যই বিরোধী দলের গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে এবং সকল ধরনের দমন নিপীড়ণের কৌশল থেকে সরে আসতে হবে। তা না হলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুন্ন হবে।

রিপন বলেন, প্রস্তাবিত দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে অনেক অসমাঞ্জস্যও রয়েছে। এসব নিয়ে আমাদের দল ও নাগরিক সমাজ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সরকার এতে কোন পাত্তা না দিয়ে নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী একগুঁয়েমী নীতি নিয়েই অগ্রসর হয়েছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবাহী আখ্যা দিয়ে রিপন বলেন, এই নির্বাচন কমিশননের কাছে কোনভাবেই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনই তার বড় প্রমাণ।