২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাকা-মুজাহিদকে বাঁচাবার জন্য মরিয়া আইএসআই

  • শাহরিয়ার কবির

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে দখলদার পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় যেসব সহযোগী ও গণহত্যাকারী মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অথবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের রক্ষার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’। বিশেষভাবে বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক দ-িত দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী- বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসি থেকে রক্ষার জন্য আইএসআই সকল কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং আন্তর্জাতিক নিয়মরীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে কাপড় খুলে মাঠে নেমেছে।

বিশ্বব্যাপী ইসলামের নামে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস উৎপাদন, বিপণন ও রফতানির ক্ষেত্রে ‘আইএসআই’-এর সক্ষমতা খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নেই। ইসলামের দোহাই দিয়ে কিভাবে স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত করতে হয় এবং কিভাবে ধর্মের লেবাস পরিয়ে যাবতীয় হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও সন্ত্রাসকে বৈধতা দিতে হয় ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী তার চূড়ান্ত প্রদর্শনী করেছে। ’৭১-এ তারা বাংলাদেশে পরাজিত হলেও তাদের রাজনীতি ও আদর্শ- যা মূর্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলসমূহের মাধ্যমে তার পরাজয় হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী তাঁর সহযোগীদের দ্বারা সাংবিধানিকভাবে কয়েক বছরের জন্য জামায়াত ও ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সংবিধান পরিবর্তন করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতে ইসলামীদের শুধু পুনঃপ্রতিষ্ঠিতই করেননি, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীতে তার নিয়োগদাতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির ‘পাকিস্তানীকরণ’ বা ‘ইসলামীকরণে’র যে বীজ বপন করেছিলেন তা আজ মহীরুহে রূপান্তরিত হয়ে বহুদূর অবধি শেকড় বিস্তার করেছে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইএসআই-এর সম্পৃক্ততা সম্পর্কে পশ্চিমের অনেক গবেষক লিখলেও জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আইএসআই-এর সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি লেখা হয়নি। ১৯৭৬ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মৃত্যুর পর একটি বনেদি প্রকাশনা সংস্থার অনুরোধে আমি ‘মওলানা ভাসানী : রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম’ নামে একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছিলাম, যেখানে ভাসানীর রাজনৈতিক সহযোগী কিংবা যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন তাদের লেখা ছিল। এই গ্রন্থে ভাসানীর অন্যতম সহযোগী মশিউর রহমান যাদু মিয়া লিখেছেন ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘আইএসআই’-এর তরুণ মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথা। যাদু মিয়া লিখেছেন, ‘আইএসআই’-এ জিয়াউর রহমানের ছদ্মনাম ছিল ‘কমল’। বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় যাদু মিয়াকে তার মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ‘আইএসআই’-এর সবচেয়ে ক্ষমতাসম্পন্ন এজেন্ট জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণই প্রমাণ করে ’৭১-এ আইএসআই তথা পাকিস্তানের সামরিক পরাজয় মাত্র সাড়ে তিন বছরে তাদের রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তরিত হয়েছিল।

বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সামরিক জান্তা প্রধান জিয়া ১৯৭৬ সালে ‘পিপিআর’ (রাজনৈতিক দলবিধি) জারি করেছিলেন। যার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে তার সামরিক সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। এর আগেই জিয়া ঘোষণা করেছিলেন, ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দি পলিটিশিয়ান’। পিপিআর-এর অধীনে প্রায় ছয় ডজন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যার ভেতর ৬৬টি ছিল ইসলাম নামধারী। জামায়াতে ইসলামী কৌশলগত কারণে তখন মাওলানা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ‘আইডিএল’ নামে লাইসেন্স নিলেও জিয়ার জীবদ্দশায় তাদের শীর্ষনেতা ও পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমের বাংলাদেশে আসার পর ’৭৯ সালে তারা স্বনামে আত্মপ্রকাশ করে। এ নিয়ে তখন ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’য় আমরা একটি প্রচ্ছদ কাহিনী প্রকাশ করেছিলাম, যেখানে জামায়াত নেতা দম্ভভরে বলেছিলেন, ’৭১-এ আমরা কোন ভুল করিনি।’

জেনারেল জিয়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তান বানাবার জন্য যা কিছু শুরু করেছিলেন তার উত্তরাধিকারী জেনারেল এরশাদ ও বেগম খালেদা জিয়া তা নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে স্বাধীনতা লাভের পর প্রথম চার দশক এই দেশটি দুই-তৃতীয়াংশ সময় শাসিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারী প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানে যেভাবে পাকিস্তানপ্রেমীদের অধিষ্ঠিত করেছে তা থেকে আজও মুক্তি মেলেনি। এ কারণেই আমাদের মনোজগতে পাকিস্তানপন্থার আধিপত্য এখনও রয়ে গেছে। এখনও তারা আমাদের অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজের বহু ক্ষেত্রে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে আইএসআই-এর নেটওয়ার্ক কিভাবে ক্রিয়াশীল এটি না বুঝলে সাম্প্রতিককালের মুক্তচিন্তার লেখক-প্রকাশক হত্যা কিংবা আর্মি-পুলিশের ওপর হামলা-হত্যা এবং অন্যান্য হত্যা-সন্ত্রাসের শানে নজুল বোঝা সম্ভব হবে না।

আইএসআই জানে শেখ হাসিনার মহাজোট সরকার যদি সাফল্যের সঙ্গে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং জামায়াতের মতো এজেন্টদের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে পারে সেটি হবে এদেশে তাদের রাজনৈতিক পরাজয়, যা এক অর্থে ’৭১-এর সামরিক পরাজয়ের চেয়েও বেশি বিপর্যয় সৃষ্টিকারী- কেন তারা তা মেনে নেবে? এ কারণেই তাদের জঙ্গী সন্ত্রাসীদের সকল গোপন হিটলিস্টের প্রথম নামটি শেখ হাসিনার। কেন শেখ হাসিনা তাদের প্রধান লক্ষ্য এ বিষয়ে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান আমার ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ প্রামাণ্যচিত্রে বিস্তারিত বলেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিছিলপূর্ব সমাবেশে নৃশংস গ্রেনেড-বোমা হামলার প্রস্তুতিপর্বে হাওয়া ভবনে বসে তারেক জিয়া কিভাবে বিএনপি, জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি ও অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দিনের পর দিন বৈঠক করেছেন এবং এই মর্মে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছেন- শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে না পারলে বাংলাদেশে তাদের ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। ১১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ২১ আগস্টের নৃশংস গ্রেনেড হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মামলার নিষ্পত্তি না হওয়াও প্রমাণ করে বাংলাদেশে আইএসআই-এর অবস্থান কত শক্তিশালী।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণে ঢাকা সফরে এসে জেনেছেন আইএসআই বাংলাদেশে কোন্্ কোন্্ রাজনৈতিক দলকে নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। তাকে না জানিয়ে আইএসআই-এর এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন, যা তার এক সাংবাদিক বন্ধুকেও বলেছেন। সেই সাংবাদিক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমাকে এ বিষয়ে বলেছিলেন পাঁচ বছর আগে। তারপর ২০১১ সালে পাকিস্তানের ‘তেহরিকে ইশতেকলাল পার্টি’র চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল আসগর খান, যিনি ’৭১-এ পাকিস্তানী সামরিক জান্তার গণহত্যার এবং সেখানকার সামরিক শাসনের একজন কঠোর সমালোচক- আইএসআই-এর বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে একটি রিট করেছিলেন, যার বিষয় ছিল কোন রাজনৈতিক দলকে অর্থ প্রদান আইএসআই-এর কার্যক্রমের অংশ হতে পারে না। পাকিস্তানের পিপিপি সরকারের প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি ক্ষমতায় এসে আইএসআই-এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। কেউ সফল হননি। আসগর খানের মামলা হিমঘরে পড়ে আছে, জারদারি দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি; এখন রাজনীতি থেকেই হারিয়ে যাচ্ছেন।

আইএসআই বাংলাদেশে শুধু জামায়াত নয়, বিএনপির মতো দলকেও কেন টাকা দেয় এ নিয়ে আমি জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীর পুত্র হায়দার ফারুখ মওদুদীর কাছে ক্ষুব্ধ অভিযোগ করেছিলাম। মওদুদীর কনিষ্ঠ সন্তান হায়দার তার পিতা ও জামায়াতের রাজনীতির একজন কট্টর সমালোচক এবং বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার সমর্থন করেন। তাকে আমি বলেছিলাম, আইএসআই পাকিস্তানে কী করছে এ নিয়ে আপনারা ভাববেন। আমি উদ্বিগ্ন তারা আমাদের দেশের বিএনপির মতো দলকে কেন টাকা দেবে। হায়দার ফারুখ স্বভাবসুলভ শান্ত গলায় জবাব দিয়েছেন, আপনি বিএনপিকে আপনাদের দেশের দল মনে করতে পারেন। আইএসআই মনে করে জামায়াত-বিএনপি এসব পাকিস্তানের দল।

আইএসআই-এর সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির গাঁটছড়া কতটা মজবুত সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে বিএনপির শীর্ষনেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বাঁচাবার জন্য তাদের মরিয়াভাব প্রত্যক্ষ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিয়মরীতি লঙ্ঘন করে যে পাঁচজন পাকিস্তানীকে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী সাফাই সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশে আনতে চেয়েছিলেন তাদের সঙ্গে সেখানকার সামরিক বাহিনী তথা আইএসআই-এর সম্পর্ক গোপন কোন বিষয় নয়। এদের পালের গোদা মোহাম্মদ মিয়া সমরু ২০০৭-২০০৮ সালে পাকিস্তানের সেনাগঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও ২০০০ সালে সমরুকে রাজনীতিতে এনেছেন জেনালের মোশাররফ তার দক্ষতা ও সেনাপ্রীতির কারণে। দ্বিতীয় সাক্ষী অম্বর হারুন সাইগল প্রভাবশালী দৈনিক ‘ডন’-এর চেয়ারম্যান হলেও ১৯৮৮ সালে তার পিতা মোঃ হারুন যখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তখন থেকে আইএসআই-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক। সাকার তৃতীয় পাকিস্তানী সাক্ষী ইশহাক খান খাকওয়ানিও সেনাসমর্থক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বাকি দু’জন সাক্ষী সেনাবাহিনীর সরবরাহক হিসেবে ব্যবসায়িক সূত্রে আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল অবশ্য আইএসআই সম্পৃক্ততার কারণে সাকার এসব সাক্ষীকে খারিজ করেনি। এই মামলায় প্রথমে সাকা যে চার হাজার ব্যক্তিকে সাক্ষী মেনেছিলেন সে তালিকায় এই পাকিস্তানীরা ছিলেন না। ট্রাইব্যুনালে সর্বশেষ যে পাঁচজনের তালিকা সাকার আইনজীবী দিয়েছিলেন সেখানেও এদের নাম ছিল না। দেশীয় সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়েও আদালতে আনতে না পেরে সাকার আইনজীবী আবদার করেছেন আপীলে বা রিভিউতে পাকিস্তান থেকে সাক্ষী আনবেন, যা এক কথায় নজিরবিহীন। শুধু সাকার মৃত্যুদণ্ডের দিনটি প্রলম্বিত করার জন্যই একদিকে যেমন সাক্ষী আনতে দেয়া হচ্ছে না বলে পাকিস্তানীরা দুনিয়াজুড়ে মাতম করছে অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার লেখক-প্রকাশক-ব্লগার হত্যার পাশাপাশি মিলিটারি ও পুলিশের ওপর হামলা-হত্যা করে সারাদেশে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে।

পাকিস্তান থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘাতক ও সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাকা-মুজাহিদকে বাঁচাবার জন্য। গত ১০ নবেম্বর (২০১৫) দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত ‘চার পাকিস্তানী জঙ্গী প্রশিক্ষককে এনেছে জামায়াত-শিবির’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- কুখ্যাত দুই যুদ্ধাপরাধী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী) ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হলে নাশকতা চালানোর জন্য জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে পাকিস্তানী চার জঙ্গী প্রশিক্ষককে। পাকিস্তানের এই চার নাগরিককে বাংলাদেশে এনেছে জামায়াত-শিবির। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ওই চার পাকিস্তানী জঙ্গী প্রশিক্ষককে বাংলাদেশে আসতে সাহায্য করেছে। রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির প্রশিক্ষক পাকিস্তানের নাগরিক ইদ্রিস আলী (৫৭), মোঃ শাকিল (৩৯), খলিলুর রহমান (৪৯) ও মোঃ ইকবালকে (৩৭) রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের ভয়াবহ নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‘গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পাকিস্তানের চার নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যমতে, বিগত তিন বছরে পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের অর্ধশতাধিক সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়াই নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। তাদের অনেকেই উন্নত প্রযুক্তির অত্যাধুনিক অস্ত্র পরিচালনা, গ্রেনেড-বোমা তৈরি ও হামলায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পারদর্শী।’

আইএসআই তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক যুদ্ধ শুরু করেছে। আমরা সব জেনেও শুধু আত্মরক্ষা করছি, পাল্টা আক্রমণ করছি না। বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী এই অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটনের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকরের পাশাপাশি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অবিলম্বে জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানীদের বিচার শুরু করতে হবে। বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে ইসলামের দোহাই দিয়ে ’৭১-এ তারা কী নৃশংসতম অপরাধ করেছিল।

১১ নবেম্বর ২০১৫