২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও

একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকা- ঘটছে। জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে বেরিয়ে যাচ্ছে ঘাতক দল। রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই একের পর এক নাশকতামূলক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পুলিশের ওপর হামলা করা হচ্ছে। শুভবুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তার মানুষ, লেখক, প্রকাশক হত্যা করা হচ্ছে পূর্ব ঘোষণা দিয়ে। হামলার শিকার তারাই, যারা দেশকে ভালবাসেন এবং সর্বক্ষণ সবার মঙ্গল কামনা করেন। আরও ৩৪ জনকে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মুঠোফোনে এসএমএস পাঠিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। এর মধ্যে একাধিক মন্ত্রীও রয়েছেন। হামলাকারীদের যদি চিহ্নিত করা না যায়, ধরা না যায়, তা হলে তো হামলা আরও হবেই। তাই দেখা গেছে, গাবতলী ও আশুলিয়া চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ হত্যার পর ঠিক একই কায়দায় এক মিলিটারি পুলিশকে হত্যা চেষ্টা হয়েছে। ধাওয়া করে হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার পৃষ্ঠপোষক, নির্দেশদাতা ও অর্থদাতার সন্ধান মেলেনি। একের পর এক হামলা ও হত্যা কারা করছে? ধরা পড়ছে না কেন? তারা কি দেশের র‌্যাব-পুলিশ-গোয়েন্দা সবার চেয়ে চৌকস, সবার চেয়ে শক্তিশালী? হত্যার ঘটনায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে, সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা খুব স্বাভাবিক। একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী, যারা নিকট অতীতে মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, আন্দোলনের নামে যারা জনগণের নিরাপত্তা বিঘিœত করেছে, কচি শিশুদের পুড়িয়ে মেরেছে পেট্রোল বোমায়, নির্বিচারে হত্যা করেছে মানুষকে তারাই এই হামলা করেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। কিছু সন্ত্রাসী চক্র নানা বেশে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে টার্গেট নিয়ে হত্যার মিশনে নেমেছে। গত তিন বছর ধরে তারা এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিন বছরে ২১ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি প্রকাশক, লেখক, মুক্তমনা, ব্লগার ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণ শুধু নয়, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করতে একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সাজা রুখে দিতে জামায়াত-শিবির সারাদেশে নাশকতামূলক কর্মকা- চালিয়ে আসছে। যার সঙ্গে বিদেশী শক্তিও জড়িত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, জামায়াত ও বিএনপির দুই শীর্ষ পদধারী যুদ্ধাপরাধীর দ- কার্যকর করাকে সামনে রেখে এসব নৃশংসতা চালানো হচ্ছে। দলের বাইরে এই অপরাধীদের নিজস্ব কর্মী বাহিনী রয়েছে। তাদের রক্ষা করার জন্য তারা যে কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা সামনে আরও ঘটাতে পারে। উভয়েরই পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। সে বিবেচনায় জঙ্গী গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকার বিষয়টি বিবেচ্য। লক্ষণীয় যে, এই হত্যা বা হত্যা চেষ্টাগুলো হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে, গুলি করে নয়। হত্যাকারীরা হত্যাকা-ে দেশী অস্ত্র ব্যবহার করছে। হত্যা তাদের কাছে সহজ একটি ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কারণ হত্যাকারীরা কোন বিশেষ আদর্শের প্রতি কমিটেড। নতুবা এতটা বেপরোয়া হওয়া অসম্ভব। এই সব হামলা রাষ্ট্রের ওপর আঘাতের শামিল। তাই বাংলাদেশকে রুখে দাঁড়াতে হবে। দেশকে একাত্তরের হায়েনাদের হাতে আবার বধ্যভূমিতে পরিণত হতে দেয়া যায় না। জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের দিন এসে গেছে। ভীত, সন্ত্রস্ত হওয়ার দিন নয় এখন।