২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিবৃতি নয়, আলোচনা চান বিজেপির প্রবীণ বিদ্রোহী চার নেতা

  • বিক্ষুব্ধদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি গড়কড়ির

ভারতের বিহার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ বিদ্রোহী চার নেতা বলেছেন, তারা দলের পাল্টা বিবৃতিতে সন্তুষ্ট নন। তারা দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চান এবং এই আলোচনা কিছুদিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত না হলে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। দেশটির জনপ্রিয় এক টিভি চ্যানেল এনডিটিভিকে কয়েকটি সূত্র এ খবর জানিয়েছে। খবর এনডিটিভি ও ওয়েবসাইটের।

সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, দলের সাবেক সভাপতি মুরলী মনোহর যোশী, সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা এবং সাবেক মন্ত্রী শান্ত কুমারসহ প্রভাবশালী কিছু বিজেপি সদস্য মঙ্গলবার দেয়া এক বিবৃতিতে নাম উল্লেখ না করে দলের এই হারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর নির্বাচনী কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিনিয়র নেতাদের ‘দিকনির্দেশনা ও পরামর্শকে’ দল স্বাগত জানাবে। তবে কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী ও সাবেক বিজেপি সভাপতি নীতীন গড়কড়ি বুধবার বলেছেন, বিহারের হারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতিকে দায়ী করা অন্যায়। বিজেপি দলীয় কর্মীদের সংগঠন। কোন পরিবারের নয়। সুতরাং জয়ের কৃতিত্ব যেমন সবার, হারের হতাশাও তাই। একই সঙ্গে তার প্রশ্ন, দল হারলে সকলেই কারণ খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন, কিন্তু জয়ী হলে তো বলেন না, কারণ বিশ্লেষণ করা হোক। তাই বিহার ব্যর্থতার দায় নিয়ে অমিত শাহের সভাপতি পদ ছাড়ার সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়ে গড়কড়ি বলেন, যারা দায়িত্বজ্ঞানহীন বিবৃতি দিচ্ছেন, দলের ক্ষতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি অমিত শাহকে। অপরদিকে ইতোমধ্যে বুধবার যারা অমিতের সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের তিনি বলেছেন, আদভানিরা এভাবে মুখ খুলে জানুয়ারিতে দলের সভাপতি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাউকে দাঁড় করাতে চাইছেন। তবে সেই চেষ্টা সফল হওয়ার কোন লক্ষণ এখনও নেই। প্রকাশ্যে অবশ্য অমিত এনিয়ে কোন কথা বলেননি। এদিকে বিভিন্ন নেতাকে দিয়ে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব যে কথাটা বলানোর চেষ্টা করেছেন তা হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী জমানাতেও ভোটে পরাজিত হলে যৌথ দায়িত্বের কথা বলা হতো। আদভানি শিবিরের বক্তব্য, তখন বাজপেয়ী ইস্তফা দেয়ার ইচ্ছাটা অন্তত প্রকাশ করতেন। কিন্তু এখন যারা নেতৃত্বে, তারা সব দায় ঝেড়ে ফেলতেই ব্যস্ত। তাছাড়া বিষয়টা শুধু একটা রাজ্যে হার-জিতের নয়। যেভাবে দল চালানো হচ্ছে, তাতে যে স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ পাচ্ছে, তার বিরুদ্ধেই আদভানিরা মুখ খুলেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি। তারা বলছেন, দলে যদি ভিন্নমত শোনার কোন ব্যবস্থা থাকত, তাহলে সেই মঞ্চেই প্রসঙ্গটা তোলা হতো। কিন্তু পার্লামেন্টারী বোর্ড থেকে তো প্রবীণ নেতাদের বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই বিবৃতি দিতে হয়েছে। এদিকে বিজেপির অভ্যন্তরের কোন্দলের প্রতিক্রিয়ায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেছেন, প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি করে বিপরীত ও সমান প্রতিক্রিয়া থাকে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারকে নজরকাড়া করতে কোন কসুর করেনি বিজেপি। হারের প্রতিক্রিয়াও যে নজরকাড়া হবে, সেটাই স্বাভাবিক। এদিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আনসারির টিপ্পনী, মূক দর্শকম-লী অবশেষে কথা বলতে শুরু করেছে! বিজেপির অন্তর্কলহের কথা সবাই জানেন। একনায়কতন্ত্রের জেরে কোণঠাসা বর্ষীয়ান নেতারা।