২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশী পণ্যে পাকিস্তানের এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক

  • বাড়বে বাণিজ্য ঘাটতি

এম শাহজাহান ॥ বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড আমদানিতে এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে পাকিস্তান। এতে করে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমান পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৪৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে রফতানিকারকরা বলছেন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (এইচপি) রফতানিতে ডাম্পিং হচ্ছে না। যথাযথ নিয়ম ও উৎপাদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ দ্রব্যটি রফতানি হচ্ছে। তাই পাকিস্তানের এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। এ বিষয়ে করুণীয় নির্ধারণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আগামী ৮ নবেম্বর জরুরী বৈঠক ডেকেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে পাকিন্তান ও ভারতে এইচপি ও কাঁচা পাট রফতানিতে কোন ধরনের এ্যান্টি ডাম্পিং হচ্ছে কিনা সে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইসহ পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার নামে গত ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের ট্যারিফ কমিশন এ শুল্কারোপ করে। এর আগে প্রায় ছয় মাস তদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে নোটিসের দিন থেকে আরোপিত শুল্ক কার্যকর হলেও ছয় মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে। তবে যথাযথ যুক্তি দিয়ে ডাম্পিং হচ্ছে না প্রমাণ করতে পারলে আইনে তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এক্ষেত্রে শুল্কারোপের নোটিস প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির আবেদন করতে পারবে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, টেক্সটাইল ও ওয়াশিং কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে এইচপি ব্যবহৃত হয়। কাপড়ের বয়ান মজবুত করতেও এইচপি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া জীবাণুমুক্ত করাসহ পরিষ্কারক হিসেবে বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পে এ দ্রব্যটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এ কারণে অভ্যন্তরীণ মার্কেটেও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে ব্যাপক ভিত্তিতে উৎপাদন বাড়ায় দেশের চাহিদা মিটিয়ে পাকিস্তান ও ভারতে এ দ্রব্যটি রফতানি করা হয়ে থাকে। বর্তমান বাংলাদেশ মেঘনা ও টিকে গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি পাকিস্তানে এইচপি রফতানি করছে।

গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫৫ ডলার এইচপি রফতানি হয় দেশটিতে। ইতোমধ্যে এ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের অভিযোগ এনে গড়ে ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে পাকিস্তান। দেশটির এ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটিস এ্যাক্ট ২০১৫ ও এ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটিস রুলস ২০০১ অনুযায়ী শুল্কারোপ করে করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মোঃ শওকত আলী ওয়ারেছী জনকণ্ঠকে বলেন, ইতোমধ্যে কাঁচাপাট রফতানিতে পাকিস্তান ও ভারত এ্যান্টিং-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে। অথচ পাটে কোন ডাম্পিং করা হচ্ছে না। কৃষিজাত পণ্য হিসেবে পাটপণ্য উৎপাদনে শুধু ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এই সুবিধা বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। তাই এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কারোপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ কোন পণ্য ও দ্রব্যসামগ্রী রফতানিতে এ্যান্টিং ডাম্পিং করছে না বিষয়টি যুক্তিসহকারে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।

এদিকে পাকিস্তানের এ্যান্টিং ডাম্পিংয়ের আরোপের বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি রফতানিকারকরা। পাকিস্তানের সঙ্গে রফতানি বাণিজ্য বাংলাদেশের অনুকূলে নয়। এ্যান্টিং ডাম্পিংয়ের ফলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে। এতে করে দু’দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানা গেছে, পাকিস্তান থেকে তুলা, খাদ্যপণ্য, সুতা, কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রী, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, কাঁচা চামড়া, চামড়াজাত দ্রব্য, খনিজ দ্রব্য, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শাল, চাদর, থ্রিপিস ও লেহেঙ্গাসহ মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী আমদানি হয়ে থাকে। বিপরীতে রফতানি হয় কৃষিজাত ও গার্মেন্টস পণ্য। যদিও পাকিস্তানী পণ্য বর্জনে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দাবি রয়েছে। ইতোমধ্যে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে পাকিস্তানী পণ্য বর্জনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এতসবের পরও কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক জোরদারে সরকারের চেষ্টা ছিল। কিন্তু হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও পাটপণ্য রফতানির ওপর এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মনোজ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আগামী রবিবার যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সেখানেও এ বিষগুলো নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের এইচপি অন্যান্য দেশের তুলনায় উন্নত মানের। তাই এদেশে উৎপাদিত এইচপির চাহিদা ভারত ও পাকিস্তানে থাকবেই। এত সস্তায় আর কোন দেশ থেকে পাকিস্তান ও ভারত এইচপি আমদানি করতে পারবে না।