২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২২ শতাংশ সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ

  • সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ২২ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ হচ্ছে। দেশের কার্যরত ৪২টি ব্যাংক সবুজ অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে গ্রীন (সবুজ) ব্যাংকিং কার্যক্রমেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবুজ অর্থায়ন তথা জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল এবং এ বিষয়ক কর্মকা-ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে না। এজন্য পরিবেশের সুরক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং সৌরশক্তি ব্যবহারে সবুজ অর্থায়ন বাড়ানো প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ‘গ্রীন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সবুজ অর্থায়ন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর মোঃ আবুল কাশেম। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ উইসুফ, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোর্শেদ মিল্লাত প্রমুখ। সেমিনারে ব্যাংকিং খাতে সবুজ অর্থায়ন শীর্ষক দুটি আলাদা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমএ’র ছয়জন ও মালয়েশিয়ার দু’জন শিক্ষক। এতে বিভিন্ন ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে ‘গ্রীন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সবুজ অর্থায়ন : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে শাহ মোঃ আহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্অর্থায়ান সুবিধায় দেশের কার্যরত ৭০ শতাংশ ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়নের সঙ্গে কাজ করছে। ৯০ শতাংশ ব্যাংক ও ৩০ শতাংশ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেশের কিছু এলাকায় গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রবন্ধে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ২২ শতাংশ পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ হচ্ছে। দেশের কার্যরত ৪২টি ব্যাংক সবুজ অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে গ্রীন (সবুজ) ব্যাংকিং কার্যক্রমেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত। এদিকে গ্রাহকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকের তুলনায় অতিমাত্রায় পিছিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংকগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্যে অনলাইন সুবিধা রয়েছে, এমন শাখার সংখ্যা খুবই কম। এর কোন গ্রাহকই ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নেন না। এমনকি মোবাইলে এসএমএস ব্যাংকিংয়ের সুবিধা নেয়ার গ্রাহক সংখ্যাও নগণ্য। প্রবন্ধে আরও বলা হয়, দেশে সৌর বিদ্যুতচালিত শাখার সংখ্যা ২১২টি। এরমধ্যে সরকারী ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ১৫, বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ১৭০, বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ২৪ ও বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখা ৩টি। সৌর বিদ্যুতচালিত মোট এসএমই ইউনিট ও এটিএম বুথের সংখ্যা ১৫০টি। এরমধ্যে সরকারী ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ৮, বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ১৩৯ ও বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখা ৩টি। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়নে ২০১৪ সালে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ ও তত্ত্বাবধানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রীন ব্যাংকিং এ্যান্ড সিএসআর বিভাগের আওতায় ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকার আলাদা দুটি তহবিল দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে পরিবেশবান্ধব ইটভাঁটি স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকার এডিবির একটি তহবিল রয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ও বর্জ্য পরিশোধন প্রকল্পে বিনিয়োগের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব গঠিত ২০০ কোটি টাকার তহবিলটিও এ বিভাগের আওতায় দেয়া হয়েছে। দেশে কার্যরত প্রচলিত ধারায় যে কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্অর্থায়ন স্কিমের আওতায় এসব তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারে। যদিও সৌরশক্তির আওতায় সমন্বিত গরু পালন ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে এজেন্টের মাধ্যমে ঋণ দেয়া হলে ১১ শতাংশ সুদ নেয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর মোঃ আবুল কাশেম বলেন, গ্রীন অর্থনীতি, গ্রীন ব্যাংকিং, গ্রীন প্রোডাক্ট সবই মানুষের জন্য। কিন্তু আমরা কি পরিবেশবান্ধব ও সবুজ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারছি? তবে অনেকাংশেই কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যার অনেকগুলোর বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি বলেন, সবুজ অর্থায়নে ৪৭টি পণ্য ও সেবা ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনর্অর্থায়ন কর্মসূচীর আওতায় এসব সেবায় ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করছে। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সেবার খরচ এখনও অনেক কম। ফলে এ ব্যাংকগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লে গ্রামের গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। আর রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ছাড়া বেসরকারী ব্যাংকের গ্রামাঞ্চলে তেমন শাখা নেই। বর্তমানে কিছু কিছু ব্যাংক গ্রামে তাদের শাখা খুলছে। এজন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোতে অনলাইন ব্যাংকিং চালু না হলে গ্রাহকদের অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিদিনই দখল-দূষণের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগুলো মরে যাচ্ছে। বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশের সুরক্ষা করতে না পারলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য পরিবেশবান্ধব খাতে সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে হবে।