১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিয়মনীতির বালাই নেই চট্টগ্রামে ওষুধ ব্যবসায়

  • শতাধিক ফার্মেসিকে জরিমানা

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মেডিসিন ব্যবসায় পুঁজির দরকার হয় না। ফিজিশিয়ান স্যাম্পল দিয়েই চলছে ফার্মেসিগুলো। চট্টগ্রামে শতাধিক অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়কের তথ্যে ফার্মেসিতে ওষুধ ব্যবসার গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে গেছে। পাশাপাশি ফুড সাপ্লিমেন্টকে বেবি কেয়ার মেডিসিন বলে চালিয়ে দেয়ার মতো প্রতারণা চলছে।

এদিকে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পশ্চিমা দেশগুলোর ব্র্যান্ড ওষুধ বাদ দিয়ে বিকল্প ওষুধ হিসেবে ভারতীয় মেডিসিন কার্যকর বলে চালিয়ে দেয়ার মতো অপচেষ্টা করে যাচ্ছে ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওষুধ ব্যবসার ছাড়পত্র নিয়ে ফার্মেসি মালিকরা শর্ত মানছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত অনেক অসাধু ডাক্তার বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালসের অত্যধিক সাপ্লিমেন্ট নিয়ে তা ফার্মেসিগুলোর কাছে বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীতে দুই লাখেরও বেশি ফার্মেসি রয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব ফার্মেসির বেশিরভাগই লাইসেন্সবিহীন বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন গত ৮ জুলাই থেকে ৪ নবেম্বর পর্যন্ত নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব ফার্মেসিতে ভারতীয় ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট, সরকারী হাসপাতালের বিনামূল্যের ওষুধ, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল, বিক্রি নিষিদ্ধ নন ব্র্যান্ড ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে সদ্য পাস ডাক্তার ও সরকারী হাসপাতালের ডাক্তাররা ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মানুষের স্বাস্থ্যহানির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এসব এমআর প্রতিসপ্তাহে সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ, ক্লিনিক এমনকি ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা ফার্মেসিগুলোতে গেঁড়ে বসা ডাক্তারদের চেম্বারগুলোতে প্রতিনিয়ত ধরনা দেয়। প্রতিটি প্রোডাক্টের বিপরীতে ডজন ডজন স্যাম্পল দেয়ার কারণে তা ফার্মেসিগুলোতে চলে যাচ্ছে। গত ৪ নবেম্বর নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন ফরচুন ড্রাগ হাউস, মেডিসিন ট্রেডার্স ও জাবেদ ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রায় ৬ বস্তা ফিজিশিয়ান স্যাম্পল উদ্ধার করেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযানে অভিযুক্ত ১০২টি ফার্মেসির বিরুদ্ধে জরিমানা আদায়সহ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক কেএম মুহসিনিন মাহবুব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসব অভিযানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওষুধ প্রশাসনের ফার্মেসি পরিচালনার শর্ত ভঙ্গ করায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। কারাদ- দেয়া হয়েছে তিন ফার্মেসির মালিককে। কারণ, এই তিন ফার্মেসির মালিক সরকারী হাসপাতালের সিলযুক্ত বিনামূল্যের ওষুধ নিজের কিংবা আত্মীয়ের ফার্মেসিতে বিক্রির মতো অপরাধ করেছেন। গত চারমাসে এসব অভিযুক্ত ফার্মেসি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমিন জানান, বিক্রি নিষিদ্ধ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির মধ্য দিয়ে ফার্মেসিগুলো মূলধন তৈরি করছে। ফিজিশিয়ানদের স্যাম্পল দিয়ে চলছে ব্যবসা। ফুড সাপ্লিমেন্টকে মেডিসিন হিসেবে বিক্রির পাশাপাশি নন ব্র্যান্ড ওষুধ বিক্রিতেও পিছিয়ে নেই এসব অসাধু ফার্মেসি মালিকরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের শর্ত অনুযায়ী ফার্মেসি মালিকদের ড্রাগ লাইসেন্স ও নবায়নের বিধান থাকলেও সেক্ষেত্রে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।