১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাঁপাইয়ে ফের শুরু উর্বর জমির মাটি কাটা

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আবাদি জমির টপ সয়েল কাটা শুরু হয়েছে। আবার বন্যার পানি নেমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে পলিপড়া খুবই উর্বর জমি কাটা শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জে। অধিক মুনাফা পাবার আসায় ইটভাঁটি মালিকরা আবাদি জমি কাটা শুরু করেছে। ফলে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। একটি পরিসংখ্যান তথ্য হতে জানা গেছে গত বছর শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর সংলগ্ন মহানন্দা নদীর অপর পাড়ে ২৪ একর ফসলের জমি কেটে বিশাল খাদের সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবার সে টার্গেট বেড়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। আর মাটি কাটতে শুরু করেছে আগাম। ভাঁটি মালিকদের নজর এসব উর্বর জামির ওপর। তাই নানান কৌশলে ফাঁদে ফেলে বা প্রভাব খাটিয়ে এসব জমির মালিকদের জিম্মি করে বাজার মূল্যের অধিক পয়সা দিয়ে লিজ নিয়ে দেদারসে মাটি কাটছে। মাটি কাটার কাজে অতি আধুনিক ডিজেল চালিত অটোমেটিক মেশিন ব্যবহার করছে। আর পরিবহনে আনা হয়েছে ট্রাক্টর। পেছনে ট্রলি লাগিয়ে মাটি বহন করছে। জেলায় শতাধিক ইটভাঁটি থাকলেও আগাম এবার মাটি কাটা শুরু করেছে মহানন্দার অপর পাড়ের বরঘরিয়া অংশের প্রায় বারটি ভাঁটির সবকটি। এসব জমি কেটে ১৫ থেকে ৩০ ফুটের গর্ত করছে। অনুরূপভাবে শিবগঞ্জ অঞ্চলের নানান ধরনের মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। পুরো জেলায় বৈধ ইটভাঁটির সংখ্যা সত্তরের অধিক না হলেও ভাঁটির সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। শুধু শিবগঞ্জ উপজেলার ২৫টির অধিক ইটভাঁটি থাকলেও দুর্লভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুরে অধিকাংশ ইটভাঁটি অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। একইভাবে সদরের সুন্দরপুর ও বাগডাঙ্গা ইউপি সংলগ্ন পদ্মা পাড়ের একটি ভাঁটিও বৈধ নয়। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাঁটি চিহ্নিত করাসহ বিধি বর্হিভূতভাবে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা বন্ধ করতে না পারলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। কমে আসবে ফসলের জমি। এখানে উল্লেখ্য, যে সব অঞ্চলে জমি কাটা হচ্ছে সেসব এলাকায় সাধারণ কৃষকরা চাষাবাদ করতে গেলে হয়রানি ও বাধা দেয়া হচ্ছে। ভাঁটি মালিকদের পোষা মস্তানরা এসব হয়রানির কাজে ব্যবহার হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের জমি চাষাবাদ না করে ভাঁটি মালিকদের যেন লিজ দিয়ে এলাকা ছাড়ে। এর ফলে বহু গরীব কৃষক রাতারাতি ভূমিহীন হয়ে পড়েছে।