২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জহুর আহমদ স্টেডিয়ামের স্থাপনা ভেঙ্গে নির্মাণ হবে সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সিটি আউটার রিং রোডের কারণে চট্টগ্রামের একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের সাগরিকাস্থ জহুর আহমদ স্টেডিয়ামের কিছু স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এতে স্টেডিয়ামের সবুজ আঙ্গিনা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের আয়তনও কমে যাবে প্রায় এক একর। স্টেডিয়ামের স্থাপনা ভাঙ্গা এবং পুনরায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গড়ে দেয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে চউক (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি ও সহসভাপতি বরাবর চউক চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর। এদিকে, সিদ্ধান্তের অভাবে স্টেডিয়াম এলাকায় সিটি আউটার রিং রোডের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০৬ সালে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) চট্টগ্রাম শহরের অপ্রতুল অবকাঠামোগত অসুবিধা চিহ্নিতকরণে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। ওই সমীক্ষায় ট্রাংক রোড নেটওয়ার্কের আওতায় দুটি রিং রোড ও ৬টি রেডিয়াল রোড নির্মাণের প্রস্তাব করে জেবিআইসি। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি রিং রোডটি নির্মাণের গুরুত্ব দেয়া হয়। বর্তমানে চউকের মাস্টার প্ল্যানে এ রিং রোড প্রকল্পটি থাকলেও তা নির্মাণে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১১ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করে ২০১৭ সালে শেষ করার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যাবে কয়েক বছরÑ এমন ধারণা রিং প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক প্রকৌশলী। এদিকে, সাগরিকা জহুর আহমদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফিডার রোড-৩ এর আওতায় সড়কের দৈর্ঘ্য হচ্ছে শূন্য দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। যার প্রস্থ ১৫ দশমিক ৬০ মিটার। ওই এলাকা ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ একর। এই ফিডারের আওতায় শূন্য দশমিক ৪৯৫ পয়েন্টে একটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনারও রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি দেয়ালসহ কয়েকটি স্থাপনা ভাংচুর করা হলে অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে আন্তর্জাতিক মান নষ্ট হচ্ছে কিনা। এ সড়ক নির্মাণের সময় কোন আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিতব্য খেলা থাকলে সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা। রিং রোড প্রকল্প ওই এলাকায় বাস্তবায়ন হলে স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলো চলমান থাকা অবস্থায় সড়ক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে কিনা। যদি খেলা চলাকালীন সময়ে সড়ক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। যদিও চউকের পক্ষ থেকে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে ক্ষতি সাধন ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে।