২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষার মান হতে হবে বিশ্বমানের

  • ইউজিসির কর্মশালায় মুহিত ও নাহিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্তমান সরকার দেশে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিও কোন অংশে কম নয়। তবে শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। একে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যা হতে হবে বিশ্বমানের।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অর্জন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত কর্মশালায় সরকারের দুই মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এ এস মাহমুদ, বিশ^ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন কিমস, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মোহাব্বত খান, অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, অধ্যাপক ড. মোঃ আখতার হোসেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা ও অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম। এছাড়া বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়সমূহের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, হেকেপ প্রকল্প ও বিশ^ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বর্তমান বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষার অগ্রগতিও কোন অংশে কম নয়। তবে শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। ওই মানকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকারও উচ্চশিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উচ্চশিক্ষায় গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদের নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হবে; যা মানুষের জন্য কল্যাণকর। সেইসঙ্গে কৃষি উন্নয়নে নতুন আবিষ্কারের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। এসব নিশ্চিত করা গেলে ভিশন-২০২১ অর্জন করা সরকারের পক্ষে সহজ হবে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আমাদের সফলতা কম নয়। আমরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষায় অনেক সফলতা অর্জন করেছি। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার হার বেড়েছে। এখন শিক্ষায় কোন বৈষম্য নেই। ছেলে-মেয়ে, সবাই সমানভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারছে। গত কয়েক বছরে শিক্ষায় যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। প্রাথমিকে প্রায় ৯৯ শতাংশ শিশু ভর্তি হচ্ছে। ঝরেপড়া আগের তুলনায় অনেক কমেছে, তবে ঝরেপড়া রোধ করা এখনও চ্যালেঞ্জ।

সরকার উচ্চশিক্ষাকে একটি অনন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী ছয়-সাত বছরে দেশের উচ্চশিক্ষায় ছাত্রছাত্রী সমতা অর্জিত হবে। আজ যারা উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত, তারা সামনের সারিতে আছেন। তারা যাতে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। সরকার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষার মান আরও বাড়াতে হবে। একে এমনভাবে উন্নত করতে হবে, যা হতে হবে বিশ্বমানের। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে গবেষণার জায়গা। এখানে গবেষণা হবে, গবেষক বের হবে। এজন্য হেকেপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার উচ্চশিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করবে। তিনি শিক্ষাদান পদ্ধতির উন্নয়নে সকলকে কাজ করার অনুরোধ জানান।

বিশ^ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মিসেস ক্রিস্টিন কিমস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেতৃত্বে হেকেপ প্রকল্পের সফলতায় তারা সন্তোষ্ট। তিনি আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার সুষম উন্নয়নে ভবিষ্যতে তাদের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, ‘উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পটি’ ২০০৯ সালে চালু হয়। এক্ষেত্রে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দুই হাজার ৫৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যার ৮৭ শতাংশ অর্থের যোগান দিয়েছে বিশ্বব্যাংক আর বাকি ১৩ শতাংশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের সকল সরকারী ও যোগ্য বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।